স্কুলছাত্রীর ‘আত্মহত্যা’র অভিযোগ
ব্রাইট স্কুলের পরিচালক লিটনকে পিটুনি, ধরে নিয়ে গেল পুলিশ

ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: আগামীর সময়
রাজধানীর কদমতলীতে স্কুলে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাকে অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ সময় আন্দোলনের পর পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় পিটুনির শিকার হন।
আজ সকাল ৮টা থেকে শুরু করে বিকাল ৩টা ৪৪-এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কলেজের নতুন ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।
এর আগে বুধবার বিকালে রাজধানীর কদমতলীর নাসির উদ্দীন সড়ক এলাকায় স্কুলে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে সাবিকুন নাহার (১৬) নামে ওই স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠে।
নিহত সাবিকুন রাজধানীর ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবার নাম খলিলুর রহমান। গ্রামের বাড়ি নরসিংদীতে।
এদিকে এ ঘটনার পর রাজধানীর দনিয়া এলাকার ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা।
তাদের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষের ‘চাপ ও দুর্ব্যবহারের কারণে’ স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী সাবিকুন নাহার আত্মহত্যা করেছে।
সাবিকুন নাহারের সহপাঠী দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগের এক ছাত্রী গণমাধ্যমকে বলেছেন, বুধবার তাদের বাংলা ও অর্থনীতি বিষয়ের মডেল টেস্ট ছিল। সাবিকুন নাহারের অর্থনীতি পরীক্ষার প্রিপারেশন হয়তো ভালো ছিল না, সে পরীক্ষায় চুপচাপ বসে ছিল।
‘একপর্যায়ে সে খাতায় কিছু একটা আঁকা শুরু করে। সেটা দেখতে পেয়ে ইকোনমিকস মিস ওর খাতা নিয়ে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ হাসান লিটনের কাছে পাঠান। তিনি অনেকটা সময় ধরে সাবিকুনকে বকাঝকা ও তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।’
ওই শিক্ষার্থীর ভাষ্য, ‘সাবিকুনের অভিভাবককে ডেকেও গালাগাল ও দুর্ব্যবহার করা হয়। পরে সাবিকুন বাসায় ফিরে গিয়ে আত্মহত্যা করে।’
সাবিকুনের আত্মহত্যার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও কয়েকজন শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অপমান, ভয়ভীতি এবং মানসিক চাপে রেখে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে করা হচ্ছিল দুর্ব্যবহার।
এক অভিভাবকের দাবি, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মাসুদ রানা লিটন এবং শিক্ষিকা মাহমুদা, সানজিদা ও রিফাত বিভিন্নভাবে মানসিক চাপে রাখতেন শিক্ষার্থীদের। সামান্য বিষয়েও অভিভাবকদের স্কুলে ডেকে এনে সবার সামনে অপমান করা হতো।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, তাদের কারণে-অকারণে মারধর এবং প্রায়ই দেওয়া হতো টিসি দেওয়ার হুমকি। এসব ঘটনায় অনেক শিক্ষার্থী ভেঙে পড়ত মানসিকভাবে।
সাবিকুনের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কদমতলী থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেছেন, ‘দুপুরেও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল। তারা অভিযোগ করছে, তাদের সহপাঠী সাবিকুন নাহার স্কুলের চাপ ও দুর্ব্যবহারের কারণে আত্মহত্যা করেছে।’





