তিস্তার পানি কমলেও দুর্ভোগ অব্যাহত

পাঁচ জেলায় ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি। ছবি: আগামীর সময়
তিস্তা নদীর পানি কিছুটা কমলেও উত্তরের পাঁচ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ও দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। নদীপাড়ের অন্তত ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানি আরও বাড়তে পারে এমন শঙ্কায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় দেশের বৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার (৫২.১৫ সেন্টিমিটার) ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। রাত ১১টায় তা বেড়ে ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে নদীপাড়ের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে সোমবার বিকেল ৩টায় পানি কমে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড, ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্ক কেন্দ্রের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, চলতি বছরে প্রথমবার গত ২৩ জুন তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে। ওই সময় পানি কিছুটা কমে গেলেও রবিবার সকাল থেকে আবার বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা সেতু রক্ষাবাঁধ ও ডানতীর রক্ষায় নির্মিত গ্রোয়েন এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। কোলকোন্দ ও লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলসহ কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পাশাপাশি পাট, বাদাম ও আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে।
একই অবস্থা লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, নিজ শেখসুন্দর, বাঘের চর, সিঙ্গীমারি, ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ি এবং কালীগঞ্জের শৈলমারী, চর বৈরাতী, রুদ্রেশ্বর, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, গোবর্ধনসহ কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীর নিম্নাঞ্চলেও পানি ঢুকে পড়েছে।
গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলছিলেন, ‘আমার ইউনিয়নে অন্তত ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি কিছুটা কমলেও মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে এবং পাঁচ জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেছেন, ‘উত্তরের পাঁচ জেলায় চরাঞ্চলের অন্তত ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভারতীয় গজলডোবা ব্যারাজের গেট খুলে দেওয়ার কারণে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনে ২৬টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।’




