দুই প্রতিবন্ধকতায় আটকা ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনা

ছবি: আগামীর সময়
দেশের মৎস্য ও সামুদ্রিক সম্পদ বা ‘ব্লু-ইকোনমি’কে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তরের স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। মূলত রেগুলেটরি ও অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতায় এটির বাস্তবায়ন অনেক দিন ধরে পিছিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
গতকাল সোমবার রাজধানীতে মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা) ও জাইকার যৌথ সেমিনারে তারা এসব কথা বলেছেন। গভীর সমুদ্রে টুনা মাছ আহরণ এবং ‘স্মার্ট চিংড়ি চাষ’ নিয়ে বড় বিনিয়োগের রূপরেখা দেওয়া হলেও দুর্বল কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস ও সনাতন পদ্ধতির চাষাবাদকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশ্লেষকরা।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও আন্তর্জাতিক বাজারের কঠোর ই-ট্রেসেবিলিটি (উৎস শনাক্তকরণ) নীতিমালার কারণে বিপুল সম্ভাবনা সত্ত্বেও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখনো ‘ধীর চলো’ নীতিতে আছেন। ফলে সরকারের ‘ন্যাশনাল ফিশারিজ পলিসি ২০২৬’ কত দ্রুত এই প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা দূর করতে পারবে, তার ওপরই নির্ভর করছে এ খাতের ভবিষ্যৎ।
অবশ্য সেমিনারে মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে বললেন, ‘বিনিয়োগের পথটি পুরোপুরি সহজ না হলেও মৎস্য ও সামুদ্রিক অর্থনৈতিক হাব তৈরি করা আমাদের জাতীয় ম্যান্ডেট। নতুন নেতৃত্বের অধীনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রতিটি সমস্যার দ্রুত সমাধান দেওয়া হবে।’
কারিগরি অধিবেশনে এসিআই অ্যাগ্রোলিংকের বিজনেস ডাইরেক্টর সৈয়দ এম ইশতিয়াক জানান, বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রের ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড’ ও আন্দামান সাগরসংলগ্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ টুনা মাছের সন্ধান পাওয়া গেছে। দীর্ঘ সময় পর এই প্রথম বাংলাদেশ গভীর সমুদ্রের এ সম্পদ বাণিজ্যিকভাবে তোলার কথা ভাবছে। অন্যদিকে, চিংড়ি খাতের সনাতন পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মিডার সদস্য কমোডর তানজিম ফারুক জানান, বছরে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি আয় হলেও সনাতন পদ্ধতির কারণে বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।




