ব্রাজিলের ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচে শুরুতে গোল খেলেই ভেঙে পড়ত ব্রাজিল। সেই ২০০২ বিশ্বকাপের পর নকআউট কোন ম্যাচে শুরুতে গোল হজম করে আর জিততে পারেনি তারা। জাপানের বিপক্ষে এবারের বিশ্বকাপে শেষ ৩২-এ অবশেষে দেয়ালটা ভাঙল ব্রাজিল। পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলে জিতে তারা নাম লেখাল শেষ ১৬-তে।
এজন্য ব্রাজিলকে অপেক্ষা করতে হলো ২৪ বছর ৮ দিন। সোমবার হিউস্টনে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পর, দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় সেলেসাওরা।
২৯তম মিনিটে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ ভেদ করে কাইশু সানো জাপানকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। বিরতির পর কাসেমিরোর হেডে সমতা ফেরে ম্যাচে। এরপর শুরু ব্রাজিলের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। একদম শেষ বেলায় মার্তিনেল্লির গোলে প্রত্যাশিত জয় পায় তারা। তাতে শেষ হয় বিশ্বকাপে নকআউট ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে জিততে না পারার হতাশা।
ব্রাজিল শেষবার নকআউট ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পর জিতেছিল ২০০২ সালের ২১ জুন। সেই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মাইকেল ওয়েন গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু প্রথমার্ধেই রিভালদো সমতা ফেরান। এরপর রোনালদিনহোর ফ্রি-কিক গোলে ব্রাজিলকে জেতান ২-১ ব্যবধানে । ব্রাজিল চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল সেবার।
এরপর থেকে নকআউট ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পর বাকি তিনটি ম্যাচেই ব্রাজিল হেরে বিদায় নিয়েছে। তবে এ সময় গ্রুপ পর্বের ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে জিতেছিল ব্রাজিল।
২০০৬ বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ১-০ ব্যবধানে পরাজয়, ২০১৪ সালের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে সেই ঐতিহাসিক ৭-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হওয়া এবং ২০১৮ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে ব্রাজিল ২-১ গোলে হেরে গিয়েছিল পিছিয়ে পড়ার পর। ২০১০ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস আর ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ব্রাজিল প্রথমে গোল কর এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত জিততে পারেনি ম্যাচগুলো।
জাপানের বিপক্ষে এই জয়টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিলের ১৫তম ‘কামব্যাক’ বা পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচ (যেখানে প্রতিপক্ষ প্রথমে এগিয়ে গেলেও ব্রাজিল শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতেছে বা লিড নিয়েছে)।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ১৫টি কামব্যাক (পিছিয়ে পড়েও জয়)
১. ১৯৩৮ : চেকোস্লোভাকিয়া ১ : ২ ব্রাজিল , কোয়ার্টার ফাইনাল
২. ১৯৩৮ : সুইডেন ২: ৪ ব্রাজিল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ
৩. ১৯৫৮ : সুইডেন ২ : ৫ ব্রাজিল, ফাইনাল
৪. ১৯৬২ : স্পেন ১ : ২ ব্রাজিল ,গ্রুপ পর্ব
৫. ১৯৬২ : ব্রাজিল ৩ : ১ চেকোস্লোভাকিয়া, ফাইনাল
৬. ১৯৭০ : ব্রাজিল ৪ : ১ চেকোস্লোভাকিয়া, গ্রুপ পর্ব
৭. ১৯৭০ : ব্রাজিল ৩ : ১ উরুগুয়ে, সেমিফাইনাল
৮. ১৯৮২ : ব্রাজিল ২: ১ সোভিয়েত ইউনিয়ন, গ্রুপ পর্ব
৯. ১৯৮২ : ব্রাজিল ৪ : ১ স্কটল্যান্ড , গ্রুপ পর্ব
১০. ১৯৯৮ : ব্রাজিল ৩ : ২ ডেনমার্ক, কোয়ার্টার ফাইনাল
১১. ২০০২ : ব্রাজিল ২ : ১ তুরস্ক, গ্রুপ পর্ব
১২. ২০০২ : ইংল্যান্ড ১ : ২ ব্রাজিল, কোয়ার্টার ফাইনাল
১৩. ২০০৬ : জাপান ১ : ৪ ব্রাজিল, গ্রুপ পর্ব
১৪. ২০১৪ ব্রাজিল ৩ : ১ ক্রোয়েশিয়া, গ্রুপ পর্ব
১৫. ২০২৬ : ব্রাজিল ২ : ১ জাপান , শেষ ৩২




