‘গোলমেলে’ বলে গোল উৎসব!

ছবি: রয়টার্স
এবারের বিশ্বকাপে গোলকিপারদের বীরত্ব চোখে পড়ার মতো। স্পেনের মতো শক্তিশালী দলও কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহাকে ফাঁকি দিয়ে গোল করতে পারেনি। কুরাসাওয়ের গোলকিপার এলোয় রুম এক ম্যাচে করেছেন বিশ্বকাপের রেকর্ড সেভ।
এর পাশাপাশি, গোলকিপারদের ভুলে গোলও হজম করছে দলগুলো। ইংল্যান্ডের জর্ডান পিকফোর্ড ও সেনেগালের এদুয়ার্দ মেন্দির মতো বিশ্বখ্যাত দুই গোলকিপার বলের নাগাল পেয়ে হাতে লাগাতে পারলেও শেষ পর্যন্ত গোল হওয়া আটকাতে পারেননি। এ নিয়ে বিবিসি স্পোর্টসে ইংল্যান্ডের সাবেক গোলকিপার জো হার্ট ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে এই ধরনের গোল আমি অনেক বেশিবার দেখছি। তার মানে এই ফুটবলটির (বল) মধ্যে নিশ্চিতভাবেই কোনো গোলমাল আছে।’
‘ট্রাইওন্ডা’ নামের এই বলটি কি সত্যিই এত বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে? ডেনমার্কের সাবেক গোলকিপার ক্যাসপার স্মাইকেল দিলেন এর জবাব, ‘বল তৈরিই করা হয় গোল করার জন্য। এই বলটির মূল বিষয় হলো এর গঠন। এবার এটি মাত্র চারটি প্যানেল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। আমি লক্ষ করেছি, এটি চোখের পলকে কিছুটা বেশি গতি পায় এবং আমরা মাঠে ঠিক সেটাই দেখছি।’
অপটার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গোলকিপারদের ভুলের কারণে গোল হজম করার সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর এই আসরে এখন পর্যন্ত এমন ১১টি ভুল হয়েছে— যা গত সাতটি বিশ্বকাপের যেকোনোটির গ্রুপ পর্বের চেয়ে বেশি।
জো হার্ট বা স্মাইকেল যাই বলুন, পরিসংখ্যান বলছে অন্য কথা। বলে আচমকা গতি বাড়লে বক্সের বাইরে থেকে শট নেওয়ার প্রবণতা বাড়ত। সেটা কিন্তু হয়নি।
অপটার পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৬৬ বিশ্বকাপে বক্সের বাইরে থেকে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে শট নেওয়া হয়েছিল গড়ে ২২.৩টি। ১৯৭০ সালে সেটা ছিল ম্যাচপ্রতি গড়ে ২৫.৩ আর ১৯৭৪ বিশ্বকাপে ২০.১টি। সেখানে এবারের বিশ্বকাপে বক্সের বাইরে থেকে পোস্টে শট নেওয়া হয়েছে গড়ে মাত্র ৯.২টি।
লক্ষ্যে শটও তুলনায় কম। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে লক্ষ্যে শট ছিল গড়ে ১০.৯, ১৯৭০-এ ১১.৩, ১৯৭৪-এ ১১.৯টি, সেখানে এবারের গ্রুপ পর্বে সেটা ৮.৫টি। বরং গত দুই আসরের চেয়ে গোলকিপাররা সেভও করছেন বেশি।
২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে গোলকিপাররা ম্যাচপ্রতি গড়ে সেভ করেছেন ৫.১টি, সেখানে এবার সেই পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৫.৬। এক ম্যাচে সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ডও হয়েছে এবার। তাই বেশি গোলের দায় ঢালাওভাবে বলের ওপর চাপিয়ে দেওয়াটা বাড়াবাড়িই।




