অসহায়ের হাসিতেই খুশি মাহবুব

গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতায় আলোচনা সভার আয়োজন করেন দেওয়ান মাহবুব। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যরাত পার হয়ে ঘড়ির কাঁটা যখন ২টার ঘরে, শহরের মানুষ যখন গভীর ঘুমে মগ্ন, তখন একঝাঁক তরুণকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন দেওয়ান মাহবুব। ভ্যান কিংবা ইজিবাইকে সাজানো গরম খাবারের প্যাকেট। লক্ষ্য— হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে থাকা ক্ষুধার্ত রোগী, রেলস্টেশনের ভাসমান মানুষ আর নৈশপ্রহরী। বছরের পর বছর ধরে রমজান মাসে প্রতিদিন এভাবেই শহরের অন্তত ৩০০ অসহায় মানুষের সাহরি পৌঁছে দেন তিনি।
পাবনা শহরের কালাচাঁদপাড়ার বাসিন্দা দেওয়ান মাহবুব (৪৭) একটি নামি ওষুধ কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। চাকরি সূত্রে খুব কাছ থেকে দেখেছেন প্রান্তিক মানুষের অসহায়ত্ব।
পাবনার সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের দর্শন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক দেওয়ান আজিজুল ইসলামের ছেলে দেওয়ান মাহবুব। ২০০২ সালে মা জান্নাতুন তহুরা মারা যাওয়ার পর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘তহুরা-আজিজ ফাউন্ডেশন’। ২০১৮ সালে ওষুধ কোম্পানির ভালো বেতনের চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি নিয়োজিত হন মানবসেবায়।
গত ২৪ বছরে এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জেলার কয়েক লাখ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দেওয়া হয়েছে। প্রতি শুক্র, রবি ও মঙ্গলবার খোলা হয় ফাউন্ডেশনের সেবাকেন্দ্র। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অভাবী মানুষ জানেন, অসুখ হলে মাহবুবের কাছে গেলে খালি হাতে ফিরতে হয় না। বিনামূল্যে মেলে সেবা ও ওষুধ।
২০২০ সালের করোনা মহামারীর সময় যখন আপনজনও সংক্রমণের ভয়ে লাশ ফেলে পালাচ্ছিল, তখন ত্রাতা হয়ে হাজির হয়েছিলেন মাহবুব। সদর উপজেলার ধোপাঘাটা গ্রামে করোনা উপসর্গে মারা যাওয়া নুরুজ্জামান নুরু খানের লাশ যখন ঘরের বিছানায় ছয় ঘণ্টা পড়ে ছিল, শত শত গ্রামবাসী দূর থেকে দেখলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। খবর পেয়ে সেই মরদেহ গোসল করিয়ে দাফনের ব্যবস্থা করেছিলেন মাহবুব। একইভাবে সুজানগরের ইদ্রিস আলীর দাফনসহ মহামারীর দিনগুলোয় প্রায় ২০০ রোগীকে নিজে কাঁধে বয়ে বিনামূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিয়েছেন।
নিজের সামর্থ্যের সবটুকু বিলিয়ে দিয়ে যেখানে ঘাটতি থাকে, সেখানে সমাজের বিত্তবান ও প্রবাসীদের যুক্ত করে অসম্পূর্ণ কাজ সারেন মাহবুব।




