শিক্ষকদের জিম্মায় ঢাবির শিক্ষার্থীসহ ২ ‘সমকামিকে’ ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ

সংগৃহীত ছবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টারদা সূর্যসেন হলে সমকামিতার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ও বহিরাগত এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে হলের একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. মো. রফিকুল ইসলাম ও উর্দু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাফসা আক্তারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাইনুর রেজা ও বহিরাগত শফিকুল ইসলাম সাগর। বহিরাগত সাগর বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) অফিস সহায়ক বলে জানা গেছে। মাইনুর রেজা ‘ব্লু এড মোবাইল’ নামে একটি অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে বহিরাগত সাগরকে সূর্যসেন হলের ৫৬৬ নম্বর রুমে আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু সাগর ভূলবশত ৫৬০ নম্বর রুমে প্রবেশ করলে সেই রুমে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সন্দেহের চোখে পড়েন সাগর। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সাগর ‘সমকামিতার’ কথা স্বীকার করেন। শিক্ষার্থীরা তার মোবাইল ফোনে কথোপকথন যাচাই করে সন্দেহজনক তথ্য পাওয়ার দাবি করেন। এরপর বিষয়টি হল প্রশাসনকে জানানো হয়। খবর পেয়ে হল প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীসহ ওই ব্যক্তিকে আটক করেন। পরবর্তীতে তাদেরকে প্রক্টরিয়াল বডির মাধ্যমে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করে হল প্রশাসন।
ঘটনার বর্ণনায় সূর্যসেন হল সংসদের পাঠকক্ষ সম্পাদক মোহাম্মাদ ইমরান বলেছেন, আমাদের হলের একটি রুমের সামনে একজন বহিরাগতকে পাওয়া যায়। তার অন্য একটি রুমে যাওয়ার কথা থাকলেও ভুলক্রমে তিনি আরেকটি রুমের সামনে চলে যান। ওই রুমের যে আবাসিক শিক্ষার্থীরা জিজ্ঞাসাবাদ করে হলের অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে তাদের দুইজনের মোবাইলে সমকামীদের যোগাযোগ করার একটি অনলাইন অ্যাপ পাওয়া যায়। সেখানে তাদের যোগাযোগের বিষয়টি বেরিয়ে আসে।
তিনি বলেছেন, এই ঘটনা তৎক্ষণিক আমরা হল প্রশাসনকে জানাই এবং হলের প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে এসে প্রাধ্যক্ষের রুমে তাদেরকে নিয়ে যান। সেখানে তারা দুইজনেই স্বীকারোক্তিমূলক মুচলেকা দিয়েছেন।
‘একজন শিক্ষার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে শাহবাগ থানায় দেওয়া হয়েছে। সঠিক ঘটনা তদন্তের পরে জানা যাবে,’ বলছিলেন ইসরাফিল রতন।
শাহবাগ থানার ওসি মনিরুজ্জামান আমাগীর সময়কে জানিয়েছেন, মাইনুর রেজাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. মো. রফিকুল ইসলাম ও উর্দু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাফসা আক্তারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাগরকেও অন্য এক শিক্ষকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জিম্মা নামায় উর্দু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাফসা আক্তার লিখেছেন, মাইনুর রেজার চলাচল সন্দেহ জনক হওয়ায় সূর্যসেন হলের ছাত্রদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর টিম এর মাধ্যমে শাহবাগ থানায় নিয়ে আসে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আমি মাইনুর রেজাকে সুস্থ ও স্বাভাবিক ভাবে আমার নিজ জিম্মায় গ্রহণ করি। পুলিশ যে কোন সময় তাকে শাহবাগ থানায় হাজির করার জন্য বললে আমি তাকে থানায় হাজির করাব।





