বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকায় এনসিপির বিক্ষোভ

ছবি: আগামীর সময়
অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম কমানোর দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাতে এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তরের বিক্ষোভ মিছিলে এ দাবি জানান বক্তারা।
রাজধানীর বাংলামোটরে শুরু হয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে গিয়ে শেষ হওয়া এ বিক্ষোভ মিছিলে ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর উত্তরের নেতারা।
বিক্ষোভ মিছিলের আগে সমাবেশে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেছেন, ‘দুই বছরের মধ্যে দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই বলার এক মাসের মাথায় সরকার বিদুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিল। এই সরকার আসলে পল্টিবাজের সরকার, সকালে এক কথা বলে দুপুরে এক কথা বলে আর রাতে আরেক কথা বলে। জনগণ যাবে কোথায়?’
তার ভাষ্য, ‘আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক শুনেছি একটা ঋণ দেওয়ার জন্য সরকারকে পুশ করছে মূল্যবৃদ্ধির জন্য।’ সরকারকে উদ্দেশ্যে করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মন্তব্য, ‘আপনি টাকার সংস্থান করতে পারছেন না এজন্য আমার গলার ওপর যদি পাড়া দেন তাহলে আপনার সাথে বাধবে লড়াই।’
সভাপতির বক্তব্যে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘তারেক রহমান নির্বাচনের পূর্বে জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন নির্বাচনের পরেই জনগণের সাথে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। এই সরকার ‘তারেক রহমানের সরকার, লুটপাটের পাহারাদার’। সরকার ক্ষমতায় আসার পর বলেছিলেন বিদ্যুৎ-এর দাম ২ বছরের মধ্যে বাড়বে না কিন্তু ৩ মাসের মধ্যেই বেড়েছে ১৬ শতাংশ। এর আগে বেড়েছে অন্য জ্বালানির দামও। বাংলাদেশ ব্যাংকে বসিয়েছেন যে পূর্বে ঋণখেলাপি ছিলেন, ইসলামি ব্যাংকের চেয়ারম্যানে বসিয়েছেন এমন একজনকে যিনি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দুর্নীতির দায়ে পদচ্যুত হয়েছিল। তারমানে সরকার জনগণের কথা চিন্তা না করে ফ্যাসিবাদের সময়ের লুটেরারদের নিয়ে দেশ পরিচালনা করছেন, জনগণের পকেট কাটার চেষ্টা করছেন।’
জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলামের অভিযোগ, দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে টাকা নিয়ে নেতাকর্মীদের পকেট ভারি করার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে সরকার। জনগণকে বোকা ভাবলে সরকার ভুলের মধ্যে আছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির জানান, নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বাড়িয়ে চলেছে সরকার। হয়তো তারা ভাবছে, একাই যা খুশি তা করে শাসন করে যাবে। সতর্ক করে দিয়ে এনসিপি নেতা বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের শক্তি এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট যদি এই সরকারের পেছন থেকে সরে দাঁড়ায় তাহলে ধপাস করে পড়ে যাবে এই সরকার।’




