বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ায় বাসা থেকে বের করে যুবককে খুন

রাজধানীর সবুজবাগের আদর্শপাড়া বরইতলা এলাকায় বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে সিফাত উল্লাহ (৩০) নামে এক কাতারপ্রবাসী যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই যুবক আহত হয়েছেন। আজ রবিবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের বান্ধবী নাজিফা শেখ (২৩) জানিয়েছেন, বিকেলে তার বন্ধু সিফাত বাসায় দেখা করতে এসেছিলেন। সেখানে ওই এলাকার জয়, রাজিব, ইয়াসিনসহ ৬-৭ জন তাদের বাসায় ঢুকে সিফাতকে জোরপূর্বক ধরে টেনেহিঁচড়ে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা সিফাতকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেন। এ সময় হামলাকারীদের মধ্যে রাজিব ও ইয়াসিন নামে দুজনও আহত হন।
তিনি বললেন, গুরুতর আহত সিফাত উল্লাহকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে (ওসেক) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। আহত দুই যুবকও ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন।
আহত রাজিব ওরফে রাব্বি জানিয়েছেন, বড়ইতলার ওই বাসায় অনৈতিক কাজ চলছিল, এমন খবর পেয়ে তারা সেখানে যান। তিনি বলেন, ‘ঐ বাসায় গেলে এক যুবক আমাদের ওপর তেড়ে আসে। আমরা এগিয়ে গেলে সে ছুরিকাঘাত করে। সেখানে ধস্তাধস্তি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে আমরা আহত হই।’
এদিকে নাজিফা শেখ বলেছেন, ‘ধোলাইপাড়ের বাসিন্দা সিফাতের সঙ্গে তার দুই বছর ধরে সম্পর্ক। সামনে তাদের বিয়ে হওয়ার কথা চলছে।’
নিজেকে বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী দাবি করে নাজিফা বলেন, ঘটনাস্থলের ওই বাসাটি আমার এক বড় বোনের। জয় এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। সে ওই বাসায় মাঝে মাঝে বন্ধুদের নিয়ে এসে মাদক সেবন করত। বিষয়টি সিফাত জানতে পেরে তাদের ওই বাসায় না আসতে বলেছিলেন। এ নিয়ে তাদের ক্ষোভ ছিল।
নিহতের পরিবারের বিষয়ে তিনি জানান, তাদের বাড়ি যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় এলাকায়। তাঁর বাবার নাম জয়নাল আবেদীন। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে সিফাত ছিলেন ছোট।
সিফাতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সবুজবাগ থানাকে অবহিত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান।






