মতিকে গুলশানে বাড়ি কিনে দিতে চেয়েছিলেন সালমান শাহ

‘বিচার হবে’ চলচ্চিত্রে সালমান শাহর সঙ্গে মতি (বামে) এখন মতি (বামে)
সালমান শাহ শুধু একজন অভিনেতাই ছিলেন না, ছিলেন এক অদ্ভুত চরিত্র। সালমান শাহর এই অদ্ভুত চরিত্র নানা সময়ে উঠে এসেছে মতি নামের এক ব্যক্তির কথায়। পুরো নাম মতিউর রহমান। এই মতি খুব অল্প বয়সে এফডিসিতে আসেন এবং হয়ে ওঠেন সালমান শাহর ঘনিষ্ঠ।
সালমান শাহর সঙ্গে পরিচয়ের সময়ের কথা বলতে গিয়ে মতি বলেছেন, ‘‘ভাইয়ের দ্বিতীয় ছবি ‘স্নেহ’। এই ছবিতে আমি প্রোডাকশন বয় হিসেবে কাজ করেছি। প্রথম দিন শুটিংয়ের সময় ভাইকে আমি পানি দিতে গেলে আমাকে দেখে অবাক হন। তখন জানতে চান, আমি এখানে কী করছি। তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। আবার দেখতেও আমি অনেক ছোট। তারপর ভাই আমাকে ডেকে বললেন, এখন থেকে তিনি যে যে ছবিতে কাজ করবেন, তুমিও আমার সঙ্গে সেই ছবিতে কাজ করবে। সেই থেকেই ভাইয়ের সঙ্গে ছিলাম।’’
গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মতি বলেন, ‘আমি যখন অনেক ছোট, তখন থেকেই সালমান শাহর কাছে কাছে থাকার সুযোগ পাই। তার ব্যবহারে কখনও বুঝতে পারিনি, তিনি এত বড় নায়ক। আমাকে দেখলেই তিনি আদর করতেন। ওই সময় আমি গোসল-টোসল কম করতাম। তিনি জোর করে ধরে আমাকে গোসল করিয়ে দিতেন। নিজের হাতে মাথা ও শরীর মুছে দিতেন। গল্প করতেন। শুটিংয়ে আমার সঙ্গেই ঘুমাতেন।’
মতি বলেন, “ভাই যখন মারা যান, তখন আমি কক্সবাজারে ছিলাম। সেখানে ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’ ছবির গানের শুটিং হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই খবর পাই, ভাই মারা গেছেন। আমি সকালে একজনের কাছ থেকে একশ টাকা নিয়ে অনেক কষ্ট করে বাসে, ট্রেনে করে ঢাকায় আসি। ভেঙে ভেঙে আসতে দুই দিন লেগে যায়। এসে আমি আর লাশ দেখতে পারিনি।”
সালমান শাহর আরও একটি মজার ঘটনা বলেন মতি, পকেটমার ধরার কাহিনি। মতি বলেন, ‘একদিন ভাইসহ আমরা এফডিসিতে আসছিলাম। তখন দেখি, গেটে কোনো একটা সমস্যা হয়েছে। কী হয়েছে জানতে চাইলে দারোয়ান জানান, গেটে কয়েকজনের মানিব্যাগ চুরি হয়েছে। দর্শনার্থীদের ভেতরেই পকেটমার ছিল। এ কথা শুনে আমরা শুটিংয়ে চলে যাই। সারা দিন ভাই খবর নিয়েছেন, এই এলাকায় কারা পকেট মারে, তাদের কোথায় পাওয়া যাবে। সন্ধ্যার পর ভাই আমাকে নিয়ে কারওয়ান বাজার রেললাইনে যান। সেখানে গিয়ে তিনজন পকেটমার ধরেন। নিজের পকেট থেকে তাদের টাকা দিয়ে বলেন, চুরি না করে তারা যেন ব্যবসা করে।’
সালমান শাহ না থাকায় আফসোস করেন মতি। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি ভালো নেই। এফডিসিতে কাজ নেই, নিজের ভাগ্যেরও পরিবর্তন করতে পারেননি। মতির বয়স এখন ৪৪ বছর। স্ত্রী ও ১৮ বছর বয়সী মেয়ে আকলিমা মিম এবং ১৪ বছরের ছেলে ইসমাইল হোসেনকে নিয়ে ঢাকার বুকে টিকে আছেন তিনি। মতি বলেন, ‘ভাই (সালমান শাহ) বেঁচে থাকলে আজকে আমার এই অবস্থা হতো না।’
মতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘দেখতে সুন্দর ছিলাম না আমি। থাকতাম অপরিষ্কার হয়ে। তবুও দেখা হলেই বুকে নিতেন। আদর করতেন। ঢাকার গুলশানে আমাকে একটা বাড়ি কিনে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। মজা করে না, সত্যিই। তখন ‘আনন্দ অশ্রু’ ছবির শুটিং করছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ছবিটি রিলিজ হওয়ার পর তোকে গুলশানে (বর্তমানে ওয়াটারল্যান্ডের পেছনে) জায়গা কিনে বাড়ি করে দেব। সেটা আর হয়নি। ‘আনন্দ অশ্রু’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার আগেই তো তিনি চলে গেলেন। আমার আর ঢাকায় বাড়ি হলো না।’’







