ছোট্ট মাহির ব্লাড ক্যানসার, ১২ লাখ টাকা জোগাড় করতে পারছেন না অটোচালক বাবা

হাসপাতালের বিছানায় নুসরাত জাহান মাহি
বয়স মাত্র পাঁচ বছর। যে বয়সে দুরন্ত শৈশবে ছুটে বেড়ানোর কথা, সেই বয়সেই নুসরাত জাহান মাহির দিন কাটছে হাসপাতালের বিছানায়। ছোট্ট মাহি এখন লড়ছে ব্লাড ক্যানসারের সঙ্গে। তবে অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা যেন থেমে না যায়, সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারের।
মাহি বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন। ৩১ জুলাই থেকে হাসপাতালের ১৫ তলার ১৫১১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি আছে সে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাহির চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি এবং ব্যয়বহুল। এ জন্য প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে।
মাহির বাবা মোহাম্মদ মিন্টু ইসলাম পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বড়দাপ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক। তার একার আয়ে সংসার চালানোই কঠিন। এর মধ্যে মেয়ের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে মাহির জ্বর শুরু হয়। জ্বর না কমায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। একপর্যায়ে তার পেট ফুলে গেলে পরিবারের সদস্যরা আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার আগেই ধারদেনা করে বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসকের পেছনে প্রায় দুই থেকে তিন লাখ টাকা খরচ করেন মিন্টু। পরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মাহির ব্লাড ক্যানসার শনাক্ত হয়।
এখন বিএসএমএমইউর একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মাহির চিকিৎসা করছেন। চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু মেয়ের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাবা-মা।
মিন্টু ইসলাম বললেন, মেয়ের চিকিৎসার জন্য এরই মধ্যে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন। কিন্তু অটো চালিয়ে যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসারের খরচ চালানোর পর এত বড় চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। মেয়েকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা চান তিনি।
মাহির পরিবার জানায়, আর্থিক সহায়তা পেলে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। তাই শিশুটির চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান, দানশীল ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মানবিক মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছে পরিবারটি।
মাহির চিকিৎসায় সহায়তা করতে চাইলে তার বাবা মোহাম্মদ মিন্টু ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। আর্থিক সহায়তা পাঠানোর জন্য তার বিকাশ ও নগদ নম্বর : ০১৭৯৯-১৮৪৬০০।





