ড. তিতুমীর
জিডিপিতে ১ শতাংশ যোগ করবে পদ্মা ব্যারাজ
- পদ্মা ব্যারাজ ঘিরে হবে ৭টি আধুনিক টাউনশিপ ও জলবিদ্যুৎ

ছবি: আগামীর সময়
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ‘বাস্তবায়নাধীন পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। এটি জাতীয় জিডিপিতে (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রায় ০.৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত ইতিবাচক অবদান রাখবে।’
আজ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আইজিসি আয়োজিত ‘পদ্মা ব্যারাজ: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় অংশ নেন তিনি।
অনুষ্ঠানে নদী অববাহিকার পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার নানা ঐতিহাসিক ও কাঠামোগত দিক বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন ড. তিতুমীর। তিনি বলছিলেন, ‘বিগত বিভিন্ন সময়ে পানিসম্পদ নিয়ে অনেক রূপরেখা ও আলোচনা হলেও দেশের প্রকৃত বাস্তবতা ও জনগণের চাহিদাকে সবসময় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় মৌলিক ও সমন্বিত উদ্যোগের প্রথম সূত্রপাত হয়েছিল ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে। সে সময়ের আন্তর্জাতিক বন্দোবস্ত ও নদী-খাল খননের মতো উদ্যোগগুলোই ছিল দেশের টেকসই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি।’
ড. তিতুমীর জানান, বর্তমান সরকার পদ্মা ব্যারাজকে শুধু ইটের তৈরি সাধারণ অবকাঠামো হিসেবে না দেখে দেশের পরিবেশ ও জনগণের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে পুনরায় নকশা ও রূপান্তর করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নেওয়া এই পরিকল্পনায় মানুষ এবং প্রকৃতির যৌথ কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটির সুফলের কথা তুলে ধরেন ড. তিতুমীর। ‘পদ্মা ব্যারাজের ফলে নদীর জমে থাকা পলি দূর হবে এবং সেচব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে। এটি যশোরের ভবদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলের স্থায়ী জলাবদ্ধতা দূর করার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ, লবণাক্ততা বৃদ্ধি রোধ এবং আর্সেনিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া এই ব্যারাজকে কেন্দ্র করে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পদ্মার তীরবর্তী অঞ্চলে ৭টি পরিকল্পিত আধুনিক টাউনশিপ গড়ে তোলা হবে, যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বহুলাংশে বাড়াবে।’
আন্তর্জাতিক নদীর অববাহিকা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ‘উজানে থাকা প্রায় ৯৪২টি পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর কারণে ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে নানামুখী প্রতিকূলতা সইতে হয়। সেই চ্যালেঞ্জ মেটাতে ও স্থানীয় পরিবেশ-প্রতিবেশকে রক্ষা করতে পদ্মা ব্যারাজের মতো প্রকল্প অনন্য ভূমিকা রাখবে।’
অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ, পরিবেশবিদ, কৌশলগত বিশ্লেষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।





