উন্নয়নের নামে উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে হরিজন সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

ছবি: আগামীর সময়
ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মিনিয়াস কোয়ার্টার থেকে হরিজন সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের উচ্ছেদের উদ্যোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নতুন বাসস্থান নিশ্চিত না করে উচ্ছেদ না করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আজ রবিবার মিটফোর্ড হাসপাতালের ২ নম্বর মিনিয়াস কোয়ার্টারের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী-পুরুষসহ কোয়ার্টারে বসবাসরত বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের প্রধান কাজই হলো শহর ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। তারা এক সপ্তাহ কাজ বন্ধ রাখলে নগরজীবন ও দেশের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে। অথচ এই সম্প্রদায়ের মানুষকে উচ্ছেদের চাপ দেওয়া হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, ‘মানুষের ওপর অত্যাচার করার কারণেই শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে। অতএব, আপনারাও সাবধান হোন। নতুন বাসস্থান নির্ধারণ না করে আমাদের উচ্ছেদ করা যাবে না।’
হাই কোর্ট থেকে দেওয়া নোটিসের মাধ্যমে জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট হাইকোর্ট মিনিয়াস কোয়ার্টারের উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখতে ১৫ দিনের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। এরপরও উচ্ছেদ নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ কাটেনি। এ বিষয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলতেও রাজি হননি হাসপাতালটির মহাপরিচালক।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট একই দাবিতে মানববন্ধন করে মিনিয়াস কোয়ার্টারের বাসিন্দারা।
মানববন্ধনে বাসিন্দারা বলেন, তারা ১৬০ বছরের বেশি সময় ধরে এই এলাকায় বসবাস করছেন। হঠাৎ করে উচ্ছেদ করা হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বেন। তাই উচ্ছেদের আগে তাদের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী নতুন আবাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।
মিনিয়াস কোয়ার্টারের বাসিন্দা দুর্গা রানী বলেন, ‘উচ্ছেদ করলে আমরা যাব কোথায়? এখনো তো আমরা নতুন বাসা ভাড়া নিতে পারিনি। আমরা জরুরি ভিত্তিতে বাসা খুঁজছি এটা জানার পর বাড়িওয়ালারাও ভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছেন। যে বাসা আগে ৪-৫ হাজার টাকায় ভাড়া নেওয়া যেত, এখন সেটির জন্য ৮ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে’।
বাসিন্দারা আগামীর সময়কে জানান, হাসপাতাল প্রশাসন আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যহত রাখলে আগামী ৯ তারিখ পর্যন্ত আমাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি আছে।
মানববন্ধন থেকে নতুন বাসস্থান নিশ্চিত না করে উচ্ছেদ বন্ধ, আদালতের স্থগিতাদেশ কার্যকর রাখা এবং হরিজন সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়।







