বারিধারায় শ্রমিককে চাপা দেওয়া গাড়িটির সেই কিশোর গ্রেপ্তার

বারিধারার ফুটপাতে উঠে যাওয়া গাড়িটি (ডানে), গাড়ি থেকে নামা কিশোর (বাঁয়ে), যাকে আটক করে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। ছবি: ভিডিও থেকে
প্রথমে ছেড়ে দিলেও ব্যাপক আলোচনার মুখে ঢাকার বারিধারায় শ্রমিককে চাপা দেওয়া প্রাইভেট কারটি থেকে নেমে আসা সেই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আজ বুধবার সন্ধ্যায় আগামীর সময়কে নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর।
তিনি বলেছেন, আজ বিকালে গুলশানের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গতকাল যে প্রাইভেট কারটি বারিধারায় ফুটপাতে বসা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসানকে (২৪) চাপা দিয়েছিল, তার চালকের আসনে এই কিশোর ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে পাওয়া যায়, দেখা যায় সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও।
ঘটনাস্থল থেকে ওই কিশোরকে আটক করে পুলিশেও দিয়েছিল স্থানীয়রা। তবে পুলিশ তাকে তখন ছেড়ে দেয়।
এই ঘটনায় নিহত মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম যে মামলা করেছেন, তাতে আসামির তালিকায় ওই কিশোরের নাম নেই বলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছিলেন গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাইল হোসেন।
গুলশান থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোর ঢাকার গুলশান এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ক্যাপ্টেন। আর দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত।
মামলায় গাড়িটির চালক হিসেবে আকাশ মারকের নাম উল্লেখ করে তাকে আসামি করা হয়েছে। তবে তিনি পলাতক রয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে গাড়িটি ফুটপাতে উঠে চাপা দিয়েছিল নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসানকে (২৪)।
তিনি ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। হঠাৎ গাড়িটি তাকে চাপা দিলে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে গাড়ির নিচ থেকে মেহেদীকে রক্তাক্ত অবস্থায় বের করে আনেন। তাকে সঙ্গে সঙ্গে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলেও বাঁচানো যায়নি।
নিহত মেহেদীর বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে।
মেহেদীকে চাপা দেওয়ার পর দুজন নেমে আসেন গাড়ি থেকে। তখন আশপাশের লোকজন তখন ছুটে এসে ওই কিশোরকে আটক করে পুলিশে দেন।
তখন ওই কিশোরকে গুলশান পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়। রাতে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।
নিহত মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম এরই মধ্যে গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, গাড়িটির চালক আকাশ মারক (৪৪) বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মেহেদীকে চাপা দেন। এতে তার মাথা, বুক ও পিঠে গুরুতর জখম হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
শুধু আকাশকেই কেন আসামি করা হলো, সে বিষয়ে বাদী মোক্তাদিরের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল নম্বরে কল করা হলেও তিনি তা ধরেননি।




