বারিধারায় শ্রমিককে চাপা দেওয়া গাড়িটি চালাচ্ছিলেন কে?

বারিধারার ফুটপাতে উঠে যাওয়া গাড়িটি (ডানে), গাড়ি থেকে নামা কিশোর (বাঁয়ে), যাকে আটক করে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। ছবি: ভিডিও থেকে
ঢাকার ফুটপাতে উঠে যাওয়া একটি প্রাইভেট কারের চাপায় এক শ্রমিকের মৃত্যুর পর গাড়িটির চালককে নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। প্রত্যক্ষদর্শীরা চালকের আসনে এক কিশোরকে দেখার কথা জানালেও তাকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। এক্ষেত্রে যুক্তি দেখানো হচ্ছে, মামলায় তাকে আসামি করা হয়নি। আর মামলায় যাকে আসামি করা হয়েছে, সেই চালক রয়েছেন পলাতক।
গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে ঘটনাটি ঘটে বলে পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থকে জানা যায়।
এতে নিহত হন মেহেদী হাসান (২৪) নামে এক শ্রমিক। তিনি ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। হঠাৎ গাড়িটি তাকে চাপা দিলে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে গাড়ির নিচ থেকে মেহেদীকে রক্তাক্ত অবস্থায় বের করে আনেন। তাকে সঙ্গে সঙ্গে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলেও বাঁচানো যায়নি।
নিহত মেহেদীর বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ ও ভিডিওতে কিশোর
দেশে ১৮ বছরের কারও ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ না থাকলেও ফুটপাতে উঠিয়ে দেওয়ার সময় প্রাইভেট কারটির চালকের আসনে এক কিশোর ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।
একটি সিসি ক্যামেরার ভিডিওতেও চালকের আসনে কিশোরের থাকার বিষয়টি স্পষ্ট। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, গাড়িটি প্রথমে ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদীকে চাপা দেয়। এরপর ল্যাম্পপোস্টে ধাক্কা লেগে থেমে যায়। তখন গাড়ি থেকে নেমে আসেন দুই ব্যক্তি।
ভিডিওতে গাড়ির ডান পাশের অর্থাৎ চালকের আসনের দরজা দিয়ে এক কিশোরকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। অন্য পাশ দিয়ে নামেন মধ্যবয়সী আরেক ব্যক্তি।
আশপাশের লোকজন তখন ছুটে এসে ওই কিশোরকে আটক করে পুলিশে দেন।
গুলশান থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোর ঢাকার গুলশান এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ক্যাপ্টেন। আর দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত।
ছেড়ে দেয় পুলিশ, মামলায়ও নাম নেই
ওই কিশোরকে গুলশান পুলিশ প্রথমে তাদের হেফাজতে নিলেও পরে ছেড়ে দেয়। পুলিশের ভাষ্য, ক্ষুব্ধ জনতার হাতে যাতে ওই কিশোর ‘মবের শিকার’ না হয়, সে জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরিবারের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে এই ঘটনায় নিহত মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম যে মামলা করেছেন, তাতে আসামির তালিকায় ওই কিশোরের নাম নেই বলে জানান গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাইল হোসেন।
তিনি বলেন, নিহতের বড় ভাই গাড়িটির চালক আকাশ মারকের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। ওই কিশোরের নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ ও ভিডিওর বিষয়টি জানানো হলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গাড়িটির চালক আকাশ মারক (৪৪) বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মেহেদীকে চাপা দেন। এতে তার মাথা, বুক ও পিঠে গুরুতর জখম হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সড়ক পরিবহন আইনে করা মামলাটিতে আসামি হিসেবে যে আকাশ মারকের (৪৪) নাম দেওয়া হয়েছে, তিনি ঘটনার পর থেকে পলাতক।
শুধু তাকেই কেন আসামি করা হলো, সে বিষয়ে বাদী মোক্তাদীরের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল নম্বরে কল করা হলেও তিনি তা ধরেননি।
ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি কে চালাচ্ছিলেন?



