হামের লড়াইয়ে হেরে গেল চার মাসের জুরাইস

ছবি: আগামীর সময়
দীর্ঘদিন ধরে হামের সঙ্গে লড়ে বিদায় নিল চার মাসের শিশু জুরাইস। হাম আক্রান্ত মৃত্যুতে বাড়ল আরেকটি সংখ্যা। শুক্রবার (২২ মে) রাত ১০টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যায় (আইসিইউ) থাকা অবস্থায় মারা গেছে শিশুটি। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কতৃপক্ষ।
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন জুরাইসের মা-বাবা। আর্তনাদ করে বলছেন, কিছুই আর রইলো না আমাদের।
শুক্রবার দুপুরে অলিম্পিয়াস হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়ার পর থেকেই আর্তনাদ করছিলেন শিশুর বাবা সাইফুল। কাঁদো কাঁদো সুরে বলছিলেন, ‘আমার বাবাটাকে কেন চার দিন আগে আইসিইউতে নিতে পারলাম না। ডাক্তার বলেছেন, ওর অবস্থা অনেক খারাপ।’
আইসিইউর বাইরে অপেক্ষায় মা লামিয়া। কাপড়ের আঁচলে বার বার দু চোখ মুছছিলেন। কাঁপা কণ্ঠে বললেন, ‘আমার অপেক্ষার সময় যেন যাচ্ছেই না। আমার বাবাটা কতদিন সহ্য করবে এমন যন্ত্রণা। কবে সুস্থ হয়ে ফিরবে আমার কলিজাটা।’
তবে আর ফেরা হলো না শিশু জুরাইসের। তার যাত্রাটি আইসিইউর ভেতরই শেষ হলো। থামলো বাইরে থাকা মা-বাবার অপেক্ষাও।
কিছুদিন আগে হঠাৎ করে জ্বর হয় জুরাইসের। কিছুতেই কমছিল না সেই জ্বর। পরে নিয়ে যাওয়া হয় পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে। সেখানে দেওয়া হয় নিউমোনিয়ার চিকিৎসা। ৮ দিন চিকিৎসার পর মোটামুটি সুস্থ হয়ে উঠে শিশুটি। হাসপাতাল থেকে ফিয়ে যায় বাড়ি। তবে বাড়ি যাওয়ার একদিন পরই দেখা দেয় হামের লক্ষ্মণ। এবার শিশুসহ মা-ও অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের দুজনকেই নেওয়া হয় বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেলে। সেখানে চার দিন মা লামিয়া এবং জুরাইসকে হামে আক্রান্ত হওয়ার কারণে রাখা হয় ভিন্ন দুটি ওয়ার্ডে। এই চার দিন মাতৃদুগ্ধ পানের বাইরে ছিল জুরাইস।
সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে নেওয়া হয় রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে। চিকিৎসক প্রথমেই শিশুর অবস্থা দেখে আইসিইউতে নেওয়ার কথা বলেন। তবে সেই হাসপাতালে খালি ছিল না আইসিইউ। আর অর্থের অভাবে নিতে পারছিলেন না বেসরকারি হাসপাতালে। প্রয়োজনীয় টিকা ও আইসিইউর খরচের টাকা যোগাতেই হিমশিম খাচ্ছিলেন রিকশাচালক বাবা সাইফুল। করছিলেন ধার-দেনা। কেননা প্রতিটি টিকার দাম ছিল ১৭ হাজার। শিশুটির প্রয়োজন ছিল পাঁচটি টিকা।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চার দিন থাকার পর অবস্থা হয়ে যায় আরও সংকটাপন্ন। পরবর্তীতে শুক্রবার দুপর ১২টা নাগাদ জুরাইসকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাখা হয় আইসিইউতে।




