সচিবালয়ে বিক্ষোভ, ফাঁসছেন ১৯৯ আনসার সদস্য

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বেতন-ভাতা ও চাকরির মেয়াদ নির্ধারণসহ নানা দাবিতে আন্দোলনে নেমে সচিবালয় ঘেরাও, সরকারি কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ— অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুতে আলোচিত সেই আনসার বিক্ষোভের ঘটনায় অবশেষে তদন্ত শেষ হয়েছে। প্রায় ১০ মাসের তদন্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বলছে, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তবে বহুল আলোচিত হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
এ ঘটনায় ১৯৯ জন আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়েছে সিআইডি। গত ৩০ জুন অভিযোগপত্র দাখিল করা হলেও তা আদালতে উপস্থাপন করা হয় ১৩ জুলাই। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আগামী ১৮ আগস্ট অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ১০-১২ হাজার আনসার সদস্য বেতন- ভাতা, চাকরির মেয়াদ নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে বাংলাদেশ সচিবালয়ের সামনে জড়ো হন। তাদের ১৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করে। আলোচনায় দাবি বাস্তবায়নের জন্য সময় চেয়ে আন্দোলন স্থগিতের অনুরোধ জানানো হলেও বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ তা প্রত্যাখ্যান করে।
এরপর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা সচিবালয়ের বিভিন্ন প্রবেশপথ অবরোধ করে ভেতরে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখেন। সন্ধ্যার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগোলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের কাজে বাধা দেওয়া হয় এবং তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। তদন্তে এসব অভিযোগের সমর্থনে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
তবে মামলায় আনা সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর আঘাত— তদন্তে টেকেনি। সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, হত্যাচেষ্টার অভিযোগের পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগেই ১৯৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। আদালতে সাক্ষীদের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণের চেষ্টা করা হবে। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম জানিয়েছেন, অভিযোগপত্রে নাম থাকা আসামিদের মধ্যে চারজন পলাতক। অন্যরা জামিনে রয়েছেন। আগামী ১৮ আগস্ট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। সেই সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বহুল আলোচিত এই মামলার বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ।




