ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ

ভাইভা নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, ভাইভার নম্বর বাড়ানো হলে নিয়োগে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, তদবির, ঘুষ ও দুর্নীতির সুযোগ বাড়তে পারে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত পৃথক সময়ে তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাত ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে ডাকসুর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি মল চত্বর ও হলপাড়া প্রদক্ষিণ করে নির্ভীক জুলাই চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম জানান, ভাইভার মাধ্যমে দলীয়করণের সুযোগ তৈরি করা হলে জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে তা মেনে নেওয়া হবে না। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলনের পর ভাইভার নামে স্বজনপ্রীতির নতুন দেয়াল তৈরি করা হলে ছাত্র-জনতা তা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। পরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ‘মামা-খালুর সুপারিশ, চলবে না চলবে না’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, ভাইভা কোটার কবর দে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও রাত ১০টার দিকে জিয়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভাইভার নম্বর বাড়ানো হলে লিখিত পরীক্ষায় মেধার ভিত্তিতে এগিয়ে থাকা প্রার্থীরাও বৈষম্যের শিকার হতে পারেন।
ভাইভার নম্বর বাড়ানো নিয়ে পুনর্বিবেচনার আহ্বান নাহিদ ইসলামের
এদিকে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সরকারি চাকরির ভাইভার নম্বর কয়েক গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়োগব্যবস্থায় নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তার মতে, লিখিত পরীক্ষার নম্বর যাচাইয়ের সুযোগ থাকলেও ভাইভায় বোর্ডের দেওয়া নম্বরের পার্থক্য যাচাই করা কঠিন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রক্সি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে জালিয়াতি ঠেকাতে পরীক্ষার নিরাপত্তা জোরদার করা উচিত। এর দায় চাকরিপ্রার্থীদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়ানো কোনো সমাধান নয়।
ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব গেজেট প্রকাশের আগে পুনর্বিবেচনা, লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমানোর প্রস্তাব বাতিল এবং ভাইভায় নির্দিষ্ট মূল্যায়ন ছক ও লিখিত রেকর্ড রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সমান করার একটি প্রস্তাব প্রশাসনিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় অনুমোদন হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১ ও ১২তম গ্রেডে ভাইভার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ৫০, ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে ১০ থেকে ৪০ এবং ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে ১০ থেকে ২৫ করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমানোর প্রস্তাবও রয়েছে।






