ভাইভা নম্বর বৃদ্ধি বাতিলের দাবিতে রাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইভা নম্বর বৃদ্ধি বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ
সরকারি চাকরির ১১–২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত নম্বর কমিয়ে মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর সরকারি উদ্যোগের প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা এই সিদ্ধান্তকে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার জন্য ‘অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে লাইব্রেরী চত্বরের সামনে একত্রিত হয় তারা।
সমাবেশে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে ‘ ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, মেধাবীদের মুক্তি দে’, ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যমের ঠাই নাই’, 'ভাইবা কোটার বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট একশন', 'ভাইবা কোটার ঠাই নাই, আমার সোনার বাংলায়',' ২৪ শের বাংলায়, বৈষম্যমের ঠাই নাই',' সারা বাংলায় খবর দে, ভাইবা কোটার কবর দে','মেধাবীদের কান্না, আর না আর না','মামা খালুর সুপারিশ, চলবে না চলবে না,'প্রভৃতি স্লোগান দেন।
সমাবেশে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হেলাল উদ্দিন বললেন, ‘ভাইভার নামে আমাদের ওপর একটি নতুন কোটা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা ছাত্রসমাজ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। আপনারা যদি মনে করেন ছাত্রবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়ে টিকে থাকা যাবে, তাহলে সেটি ভুল ধারণা। শেখ হাসিনাও এ দেশে টিকতে পারেননি— ছাত্রসমাজ তার সাম্রাজ্য ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। প্রশাসনিক বা আমলাতান্ত্রিক কোনো জটিলতা থাকলে তার সমাধান করুন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।’
সমাবেশে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী সজিবুর রহমান বললেন, ‘১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে ভাইভা নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মূলত মেধাবীদের ধ্বংসের সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে সরকার নিয়োগ ব্যবস্থায় দলীয়করণের প্রবণতাই স্পষ্ট করছে। আমরা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিতে চাই, অতীতে শিক্ষার্থীবিরোধী যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, ছাত্রসমাজ তার দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছে।’
এসময় তিনি আরও জানালেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার ছিলাম। আমরা আশা করি, বর্তমান সরকার মেধার জয় নিশ্চিত করবে। কিন্তু মেধার যথাযথ মূল্যায়নের পরিবর্তে যদি তদবির, মামা-খালুর সুপারিশ বা দলীয়করণের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা তা শক্ত হাতে প্রতিরোধ করবে।’
এসময় বিভিন্ন বিভাগের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।





