কিশোর গ্যাং আন্ডারওয়ার্ল্ডের ‘জ্বালানি’

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
হাতে চাপাতি। চোখে ভয়হীন দৃষ্টি। বয়স মাত্র ১৫-১৬ বছর, কিংবা সামান্য কম-বেশি। রাজধানীর কোনো গলিপথে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে ছুটে বেড়ানো এসব কিশোরকে দেখে মনে হতে পারে— এটাই অপরাধের শেষ চিত্র। কিন্তু বাস্তবতা বলছে আরও ভয়ংকর কথা— চাপাতি, ছুরি হাতে সামনে থাকা এই কিশোররা শুধু সামনের সারির ‘খেলোয়াড়’। পর্দার আড়ালে সুতা টানছে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র; কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালীদের অদৃশ্য কোনো ছায়া।
একসময় যারা নিজেরাই ছিলেন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য, তারাই এখন হয়ে উঠেছেন ভয়াবহ অপরাধ সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রক। তাদের বয়স বেড়েছে, পরিচয় বদলেছে; কিন্তু বদলায়নি অপরাধের ধরন। বরং এখন তারা নতুন প্রজন্মের কিশোরদের ব্যবহার করছে নিজেদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বাহিনী হিসেবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, এই কিশোররাই এখন আন্ডারওয়ার্ল্ডের একধরনের ‘জ্বালানি’।
এই অন্ধকার জগতের সবচেয়ে স্পষ্ট চিত্র দেখা যায় রাজধানীর মিরপুরে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এখানকার অধিকাংশ কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ‘ফোর স্টার’ গ্রুপ। যার অন্যতম সদস্য মালয়েশিয়ায় পলাতক মোক্তার। তার হয়ে মাঠে সক্রিয় ‘ভইরা দে গ্রুপ’-এর আশিকসহ একাধিক কিশোর গ্যাং। অথচ এই মোক্তারও একসময় ছিলেন একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতা। অপরাধজগতে নিজের অবস্থান তৈরি করে তিনি নজরে আসেন পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদত হোসেনের। পরে তার সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে কাজ করেন দীর্ঘদিন। এ সময়ে নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ফোর স্টার’।
মোক্তারের গল্প ব্যতিক্রম নয়; বরং এটি একটি বড় বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। রাজধানী থেকে জেলা শহর, পৌর এলাকা থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম— প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা।
র্যাবের তালিকায় ৩৩৯ গ্যাং
র্যাব সদর দপ্তরের সাম্প্রতিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৩৩৯টি কিশোর গ্যাং চিহ্নিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। যেখানে আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া তালিকা থেকে ১০২টি বেশি দেখানো হয়েছে।
তালিকায় দেখা যায়, রাজধানীর পাশাপাশি চট্টগ্রাম, খুলনা, গাজীপুর, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এসব গ্যাংয়ের সক্রিয়তা বেড়েছে। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতেই সক্রিয় কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা ১৫৯টি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, আগে এসব গ্যাং মূলত মারামারি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার কিংবা ছোটখাটো অপরাধে জড়িত থাকলেও এখন হত্যা, ছিনতাই, অপহরণ, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি এমনকি ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধেও তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে কিশোররা?
তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য, দেশের অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী কারাগারে, আত্মগোপনে অথবা বিদেশে অবস্থান করছেন। ফলে মাঠপর্যায়ে সরাসরি উপস্থিত না থেকেও তারা তাদের অনুসারীদের মাধ্যমে প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ লক্ষ্য হচ্ছে কিশোররা। অভিযোগ রয়েছে, এলাকায় প্রভাব বিস্তার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা, দ্রুত অর্থ উপার্জনের প্রলোভন; কিংবা বন্ধুত্বের সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে কিশোরদের দলে ভেড়ানো হয়। প্রথমে ছোটখাটো কাজ দেওয়া হয়। পরে ধীরে ধীরে তাদের আরও বড় অপরাধে সম্পৃক্ত করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, আজ যে কিশোর একটি গ্যাংয়ের সদস্য, কয়েক বছর পর সে-ই সংগঠিত অপরাধী চক্রের সক্রিয় সদস্যে পরিণত হচ্ছে। তাই কিশোর গ্যাং এখন শুধু তাৎক্ষণিক অপরাধ নয়; এটি ভবিষ্যতের সংঘটিত অপরাধেরও উৎস হয়ে উঠছে।’
যেসব এলাকার নাম বেশি আসছে
র্যাব ও পুলিশের একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর, মিরপুর, পল্লবী, ভাসানটেক, বাড্ডা, গুলশান, রামপুরা, মতিঝিল, ওয়ারী, যাত্রাবাড়ী, উত্তরাসহ কয়েকটি এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা তুলনামূলক বেশি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এসব এলাকার কিছু গ্যাংয়ের সঙ্গে বিভিন্ন সময় আলোচিত অপরাধী চক্র কিংবা পলাতক সন্ত্রাসীদের অনুসারীদের যোগাযোগের তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের অনেক বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় সক্রিয় কিছু কিশোর গ্যাংয়ের নেপথ্যে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী ও তাদের অনুসারীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। মোহাম্মদপুর-ধানমন্ডি এলাকায় সানজিদুল হক ইমন, মিরপুর-পল্লবী এলাকায় ‘ফোর স্টার’ চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোক্তার, মতিঝিল এলাকায় জিসান আহমেদ, এজিবি কলোনি-ফকিরাপুল এলাকায় ইকতিয়ার আহমেদ, গোপীবাগ-ওয়ারীতে ইদুলের অনুসারী চক্র, রামপুরায় শাহজাদা এবং গুলশান-বাড্ডা এলাকায় মেহেদী হাসান ওরফে কলিন্স ও মাহবুব-রবীনের নাম বিভিন্ন তদন্তে উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
একইভাবে ইমামুল হাসান হেলাল (পিচ্চি হেলাল) এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও কিশোর গ্যাংকে মদদ বা পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, একসময় জিসান গ্রুপের ক্যাডারদের সহযোগী হিসেবে কাজ করলেও বর্তমানে আলাদা দল গড়েছেন সাদিকুর রহমান আকন্দ সুজন। গোড়ান ও খিলগাঁও এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ তার হাতে। গোড়ান নূরবাগ পানিরপাম্প এলাকার বেলুন ব্যবসায়ীর নাতি বাশার মার্ডার মামলার অন্যতম আসামি এই সুজন। একাধিক কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন তিনি। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মধ্যে কাইল্যা নবী, শরীফ, শিপলু ও টিপু রয়েছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সুজনের হয়ে প্রশাসন ম্যানেজ করতেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত পুলিশ সার্জেন্ট রুমি কাউসার।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, দখল, মাদক কারবার ও আধিপত্য বিস্তারে কিশোরদের ব্যবহার করা হয়।
অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে, তারা কী বলছেন
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে যেসব ব্যক্তি বা অপরাধী চক্রের নাম এসেছে, তাদের কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেন। ইমামুল হাসান হেলাল (পিচ্চি হেলাল) এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাংকে মদদ দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তার দাবি, প্রতিপক্ষ তাকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে হেয় করতে এসব তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘এসব শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের ষড়যন্ত্র। সে তার অপরাধগুলো আমার নামে প্রচার করাচ্ছে।’
অভিযোগের বিষয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে জিসান আহমেদও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘কোনো কিশোর গ্যাংকে মদদ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। একটি মহল টার্গেট করে আমার নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
মেহেদী হাসান ওরফে কলিন্সও দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সত্য নয়। অন্য কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ কী বলছে
সংস্থাগুলোর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অধিকাংশ কিশোর গ্যাংয়ের জন্ম হয় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, শুরুতে বন্ধুদের নিয়ে ছোট ছোট গ্রুপ তৈরি করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলাদা নাম, লোগো ও পরিচিতি তৈরি করা হয়। নিজেদের শক্তি প্রদর্শন, প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো; কিংবা নতুন সদস্য আকৃষ্ট করতে ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও টিকটক ব্যবহার করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব গ্রুপের কিছু সদস্য পরে মাদক পরিবহন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি কিংবা প্রতিপক্ষের ওপর হামলার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তখনই তাদের সঙ্গে পরিচয় ঘটে বড় অপরাধী চক্রের সদস্যদের।
তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে বলেছেন, যারা কিশোরদের অপরাধে ব্যবহার করছে বা পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে অর্থের উৎস, অস্ত্রের সরবরাহ, মাদক নেটওয়ার্ক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সমন্বয়ও নজরদারির আওতায় আনতে হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলছিলেন, ‘একটি কিশোর গ্যাং ভেঙে দিলে যদি তার পেছনের অপরাধী চক্র অক্ষত থাকে, তাহলে কিছুদিনের মধ্যেই নতুন নামে আরেকটি গ্যাং তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।’
ঢাকা মহানগর পুলিশের সদ্যবিদায়ী অতিরিক্ত কমিশনার (বর্তমানে সিআইডির উপমহাপরিদর্শক) এন এস নজরুল ইসলাম জানান, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। তালিকা করে নজরদারি করা হচ্ছে। রাজধানীতে সংঘটিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার হবে।
কিশোরদের টানছে কী?
একসময় যারা এলাকার ‘দুষ্টু ছেলে’ হিসেবে পরিচিত ছিল, কয়েক বছরের ব্যবধানে তাদেরই কেউ হয়ে উঠছে দুর্ধর্ষ অস্ত্রধারী, কেউ চাঁদাবাজ, আবার কেউ সংগঠিত অপরাধী চক্রের সক্রিয় সদস্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এ কারণেই কিশোর গ্যাংকে এখন আর শুধু বখাটে কিশোরদের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি সংগঠিত অপরাধী চক্রের ‘রিক্রুটমেন্ট প্ল্যাটফর্ম’ বা নতুন সদস্য তৈরির ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে বিভিন্ন তদন্তে ইঙ্গিত মিলছে।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে একাধিক সামাজিক কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে— পরিবারের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব, শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া, বেকারত্ব ও হতাশা, মাদকের সহজলভ্যতা, দ্রুত অর্থ উপার্জনের আকাঙ্ক্ষা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হিরো’ হওয়ার প্রতিযোগিতা ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, কিশোরদের একটি অংশ মনে করে গ্যাংয়ে থাকলে এলাকায় প্রভাব, পরিচিতি ও অর্থ— সবকিছু দ্রুত পাওয়া যায়। এ মানসিকতাকেই কাজে লাগাচ্ছে অপরাধী চক্র।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন নতুন অস্ত্র
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, আগে গ্যাং পরিচালনা করা হতো মূলত এলাকায় বসে। এখন ফেসবুক গ্রুপ, মেসেঞ্জার, টেলিগ্রাম ও টিকটকের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ, নির্দেশনা দেওয়া এবং প্রতিপক্ষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
কিছু ক্ষেত্রে গ্যাংয়ের সদস্যরা হামলার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এর মাধ্যমে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নতুন সদস্য আকৃষ্ট করার চেষ্টা করা হয় বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেছেন, গ্যাং হটস্পট চিহ্নিত করে নিয়মিত অভিযান, পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, পরিবারভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিং কার্যক্রম চালু এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের আবার শিক্ষার আওতায় আনার উদ্যোগ নিতে হবে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মেখলা সরকার আগামীর সময়কে বলেছেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে মা-বাবার ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। সন্তান কোথায়, কার সঙ্গে মিশছে, কখন বাসায় ফিরছে কিংবা বাসা থেকে বের হচ্ছে— এসব বিষয় কঠোরভাবে মনিটরিং করা উচিত। তার পরামর্শ, চাওয়ামাত্রই সন্তানদের সবকিছু দিয়ে দেওয়া যাবে না। প্রত্যেকের উচিত তার প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। তাহলে প্রতিবেশীরাও তাদের সন্তানদের দেখে রাখবে। মা-বাবার পর সমাজ এবং রাষ্ট্রের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য রুখতে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেছেন, ‘কিশোর গ্যাং হঠাৎ তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের সামাজিক সমস্যার বহিঃপ্রকাশ এটি। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্র— সব জায়গায় সমন্বিত উদ্যোগ না থাকলে শুধু আইন প্রয়োগ করে এ সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করা কঠিন।’
তিনি বলেছেন, যারা কিশোরদের অপরাধে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও কার্যকর তদন্ত ও আইনিব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।




