৩২ বছর ধরে যে শহর আইসক্রিমের রাজধানী

পৃথিবীর সবচেয়ে মিষ্টি শহর হিসেবে নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছে লে মার্স। ছবি: আইসক্রিমডেস
মিষ্টি খাবারের কথা উঠলেই অনেকের মনে প্রথমেই আসে আইসক্রিমের নাম। যদিও এটি সাধারণত গ্রীষ্মকালীন খাবার হিসেবে পরিচিত। তবুও বিশ্বের নানা প্রান্তে সারা বছরই সমান জনপ্রিয় এই ঠান্ডা মিষ্টান্ন।
শুধু একটি ডেজার্ট নয়, আইসক্রিম মানুষের কাছে আরাম, উদ্যাপন ও নস্টালজিয়ার প্রতীক। ইতালির রোমের জেলাতেরিয়া কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী আইসক্রিম পার্লার, সর্বত্রই এটি জড়িয়ে আছে মানুষের আবেগের সঙ্গে।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আইসক্রিমের স্বাদ, ধরন ও পরিবেশনায় এসেছে নানা পরিবর্তন। বর্তমানে ছোট কারিগরি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বড় বড় ব্র্যান্ড পর্যন্ত নতুন নতুন স্বাদ ও আকর্ষণীয় টপিং যোগ করে মুগ্ধ করছে আইসক্রিমপ্রেমীদের।
জনপ্রিয়তা পেয়েছে দুগ্ধবিহীন ও কম ক্যালরির আইসক্রিমও। তবুও ঐতিহ্যবাহী আইসক্রিমের প্রতি কমেনি মানুষের আকর্ষণ। কারণ, এক স্কুপ আইসক্রিম যেন আনন্দ, স্মৃতি আর নির্মল স্বাদের এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
আইসক্রিমপ্রেমীদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণের নাম যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের ছোট্ট শহর লে মার্স। শহরটিকে বলা হয় ‘বিশ্বের আইসক্রিমের রাজধানী’।
১৯৯৪ সাল থেকে শহরটি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আইসক্রিম ক্যাপিটাল অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ হিসেবে স্বীকৃত। এর প্রধান কারণ ওয়েলস এন্টারপ্রাইজেস ইনকরপোরেটেড। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় একক উৎপাদনকেন্দ্র থেকে তৈরি করে আইসক্রিমজাত পণ্য।
প্রতিবছর প্রায় ১৫ কোটি গ্যালন আইসক্রিম উৎপাদন করে প্রতিষ্ঠানটি। যা বিশ্বের অন্য কোনো শহরে একক স্থানে সম্ভব হয় না। শহরের বিভিন্ন সড়কে স্থাপন করা হয়েছে প্রায় ৫০টি বিশাল আইসক্রিম কোনের ভাস্কর্য।
এ ছাড়া ওয়েলস ভিজিটর সেন্টার অ্যান্ড আইসক্রিম পার্লার স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশ জুড়ে আইসক্রিমপ্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণ।
প্রতি বছরের জুন মাসে লে মার্সে অনুষ্ঠিত হয় চার দিনের ‘আইসক্রিম ডেজ’ উৎসব। ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হয় উৎসবটির ৩২তম আয়োজন।
মধ্য থেকে জুনের শেষ ভাগের মধ্যে আয়োজিত এই উৎসবে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অংশ নেন হাজারো মানুষ।
উৎসব চলাকালে প্রায় আট হাজার আইসক্রিম বিনা মূল্যে বিতরণ করে ওয়েলস কর্তৃপক্ষ। উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ওয়েলস আইসক্রিম পার্লার। যেখানে ৩০টির বেশি স্বাদের আইসক্রিমের পাশাপাশি তুলে ধরা হয় প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসও।
উৎসবের সময় যেতে না পারলেও বছর জুড়েই পার্লারটি খোলা থাকে দর্শনার্থীদের জন্য। তবে উৎসবের সপ্তাহে গেলে প্যারেড, সংগীতানুষ্ঠান, নানা আয়োজন এবং বিনা মূল্যের আইসক্রিম উপভোগের সুযোগ মেলে।
‘আইসক্রিম ডেজ’ উৎসব শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী আইসক্রিম সোশ্যাল আয়োজনের মাধ্যমে। এরপর থাকে ক্লাসিক গাড়ির প্রদর্শনী, সংগীতানুষ্ঠান, পারিবারিক সাইকেল ভ্রমণ এবং শহর জুড়ে স্ক্যাভেঞ্জার হান্ট।
পরের দিনগুলোয় আয়োজন করা হয় উন্মুক্ত প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, কমিউনিটি থিয়েটার, পাথরে শিল্পকর্ম তৈরি, ব্যতিক্রমধর্মী ‘ওয়াফল কোন ওয়ারিয়র কোর্ট’ প্রতিযোগিতা এবং ‘আইসক্রিম ব্যাশ’ কনসার্ট।
শেষ দিনে থাকে বর্ণিল কার্নিভাল, শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং আইসক্রিমের উৎসবমুখর আয়োজন।
সূত্র: এনডিটিভি






