সুতরাং

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আমাদের সমাজে নাম বদলের বড় কদর। সিনেমায় নায়ক নাম বদলে নায়কই থাকেন, রাজনীতিতে দল বদলায়, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড বদলায়। এমনকি পাড়ার ‘কালা মিয়া’ একদিন ঘোষণা দেন, এখন থেকে তাকে ‘কে. এম. রহমান’ বলতে হবে। কিন্তু পাশের বাড়ির খালা তখনো ডাকেন, ‘ওই কালা, বাজারে যাচ্ছ নাকি?’ কারণ মানুষ নাম নয়, চেনে কাজ দিয়ে।
র্যাবের নাম বদলে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ করার উদ্যোগ শুনে সেই গল্পই মনে পড়ে। নামের মধ্যে নিশ্চয়ই নতুনত্ব আছে, আধুনিকতার ছোঁয়া আছে। সুতরাং, প্রশ্নটা নাম নিয়ে নয়; প্রশ্ন হলো, বদলটা কি শুধু সাইনবোর্ডে, নাকি চরিত্রেও?
একটি বাহিনীর পরিচয় তার সংক্ষিপ্ত নামের অক্ষরে লেখা থাকে না। লেখা থাকে মানুষের অভিজ্ঞতায়। আইন প্রয়োগে নিরপেক্ষতা, জবাবদিহি, মানবাধিকার ও পেশাদার আচরণ— এসবই একটি প্রতিষ্ঠানের আসল পরিচয়পত্র। এগুলো অপরিবর্তিত থাকলে নতুন নাম খুব দ্রুত পুরনো বিতর্কের ভার কাঁধে তুলে নেবে।
নাম বদল অবশ্য খারাপ কিছু নয়। কখনো কখনো এটি নতুন শুরুর প্রতীকও হতে পারে। কিন্তু শুধু রঙিন মোড়ক বদলে ভেতরের বই একই থাকলে পাঠক খুব বেশি দিন আটকানো যায় না। জনগণও তেমনই। তারা ঘোষণাপত্রের ভাষা কম পড়ে, বাস্তবতার ভাষা বেশি বোঝে।




