মনে হয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পৃথিবী থেকে কত কিছু হারিয়ে যায় প্রতিদিন। চলে যায় না ফেরার দেশে। পুরনো বাড়ি, গলির চেনা মুদি দোকান, রাস্তার ধারে প্রিয় গাছ, খোদ মানুষ নিজেও। এগুলোর খোঁজ আমরা রাখলেও, এমন একটি জিনিস আছে, যা হারিয়ে গেলেও খবর রাখে না কেউ। কারণ খবর পায় না। সেটি হলো ভাষা। যে ভাষা দিয়ে মানুষ নিজেকে তুলে ধরে, নিজের অস্তিত্ব প্রকাশ করে, সে ভাষাও নাকি হারিয়ে যাবে একদিন। ২১১৫ সালের মধ্যেই এ বাস্তবতার মুখোমুখি হবে মানুষ। বেঁচে থাকা প্রায় ছয় হাজার ভাষার মধ্যে টিকে থাকবে মাত্র ৬০০টি! এমন ভবিষ্যদ্বাণী উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নিউজলেটার ওয়েবসাইট মিডিয়ামে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, কোন ভাষা বেঁচে থাকবে, আর কোন ভাষা হয়ে যাবে ইতিহাসের পাতার অংশ। একটি ভাষা হারালে শুধু শব্দ হারায় না মানবজাতি; হারায় হাজার হাজার বছরের গল্প, স্মৃতি, ভিন্ন দৃষ্টিশক্তি। আমাদের বাংলা ভাষাকে বিশ্ব চেনে সবচেয়ে মধুর ভাষা হিসেবেই। আজ যে বাংলায় আমরা কথা বলি, তা বছরখানেক আগে এমন ছিল না। আসছে বছরগুলোতেও ঠিক এই একই রকম থাকবে না। সামাজিক পরিবর্তন, শব্দের বিবর্তনসহ নানা কারণে এটি বদলাতে থাকবে। বিশ্বের সব ভাষার ধর্ম এটাই।
ভাষাবিষয়ক সংস্থা ব্রিটিশ কাউন্সিলের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৩০ সালে রাজত্ব করবে তিনটি ভাষা। ইংরেজি, ম্যান্ডারিন চায়নিজ ও স্প্যানিশ। এর গুরুত্ব আজ যতটা আছে, তার থেকেও কয়েকগুণ বাড়বে আগামীর সময়ে। তাই অনেক ভাষাবিদই এ তিনটি ভাষাকে যৌথভাবে নাম দিয়েছেন ‘ভবিষ্যতের ভাষা’। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এ ভাষাগুলো এগিয়ে থাকবে বিশ্ব জুড়ে। ২০৫০ সালে কিন্তু আবার ইংরেজিকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। ম্যান্ডারিন চায়নিজের জয়জয়কারের মধ্যেই তার পাশে চলে আসবে স্প্যানিশ। সঙ্গে যুক্ত হবে নতুন সাথী। হিন্দি। ভারতের বেড়ে চলা জনসংখ্যাকে হিন্দি ভাষাভাষীর বিকাশের মূল কারণ হিসেবে বলা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি ভাষা বিপদ তালিকায় রয়েছে। অর্থাৎ এগুলো পৃথিবী থেকে নেই হয়ে যেতে পারে যে কোনো সময়। প্রতি দুই সপ্তাহে একটি ভাষা হারিয়ে যায় বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে এত জলদি ভাষা কেন হারিয়ে যাবে? যুক্তরাষ্ট্রের ভাষাবিদ ড. জন ম্যাকহর্টারের মতে, এর আছে কয়েকটি কারণ। এক. মানুষের স্থানান্তরের কারণে এবং মা-বাবারা তাদের সন্তানদের বিশ্বের নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের ‘স্থানীয়’ ভাষা না শেখানোর ফলে এমনটা ঘটবে। দুই. ভাষাগুলো সম্ভবত আরও সরল হয়ে উঠবে। তিন. ভাষাগত বৈচিত্র্য রক্ষার জন্য শুধু অনুবাদ-সহায়ক প্রযুক্তিই যথেষ্ট হবে না।




