দেখা যাক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
‘আপনার পেশা কী?’ বর্তমান পৃথিবীর খুবই স্বাভাবিক এক প্রশ্ন। তবে এমন একটা সময় নাকি আসছে, যখন ছোট কথার এ জিজ্ঞাসাটি কানে ঢুকতেই চোখ কপালে উঠে যাবে মানুষের। ‘হাঁ’ করে চেয়ে থাকবে হতভম্বের মতো! ভিনগ্রহের প্রাণী দেখে যেমন হতবাক হয়ে যায় মানুষ! কী অবান্তর প্রশ্ন! চাকরিবাকরি বলে কিছু আছে? আদৌ ছিল কি? ত্রিলোকের সবচেয়ে দুর্বোধ্য ‘তিন শব্দ’র এ গোলকধাঁধায় যেন খেই হারিয়ে ফেলবেন সামনের জন! শুনতে বিস্ময়কর হলেও কারণটা বেশ সরলই— আসছে দিনে চাকরিবাকরি বলে আর কিছু থাকবে না! পরিবার-প্রিয়জন ছেড়ে অফিসেও থাকতে হবে না ঘণ্টার পর ঘণ্টা! ভুতুড়ে গল্প মনে হলেও নিজের ভবিষ্যদ্বাণীবিষয়ক ‘ফিউচার টাইমলাইন’ ওয়েবসাইটে সেই পূর্বাভাসই দিয়েছেন লন্ডনের খ্যাতনামা ভবিষ্যৎবিদ উইলিয়াম জেমস ফক্স। এমনই হবে ২২০০ সালের দুনিয়া।
বিচিত্র এ পূর্বাভাসে আগামীর পৃথিবীকে এক সুন্দর, বিদ্বেষহীন, বন্ধুত্বের রূপ দেওয়া হয়েছে। ১৭৪ বছর পর অধিকাংশ দেশে খাবার, জ্বালানি, পোশাক- এসবই হবে একদম ফ্রি। সঙ্গে প্রযুক্তির অগ্রসরে খরা, রোগ, যুদ্ধ কিছুই থাকবে না। দরকার পড়বে না চিকিৎসকের কিংবা বড় হাসপাতালেরও। ঘরে বসেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পাওয়া যাবে চিকিৎসা। নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশের কাজে তৎপর থাকবে রোবট। বিশ্ব জুড়ে অপরাধ কমে যাওয়ায় মানুষের এ খাতে চাকরির দরকার পড়বে না বলেই এ আন্দাজ। তবে মানুষের কাজ থেকে দূরে সরে আসার বিষয়টি বেশ ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা হয়েছে পূর্বাভাসে।
বলা হয়েছে, কর্মক্ষেত্রে কাজের ঘণ্টা কমে আসা, কর্মচারীদের যৌক্তিক অধিকার স্থাপন এবং কঠিন কাজে রোবট, প্রযুক্তির অংশগ্রহণে সমাজ প্রাতিষ্ঠানিক কর্ম করার ব্যাপারে শান্ত হয়ে আসবে। ২০৫০ সালে প্রতি সপ্তাহে একজন ব্যক্তি কাজ করবেন মাত্র ৩০ ঘণ্টা। ২১০০ সালে একই কর্মঘণ্টা নেমে আসবে ২০ ঘণ্টায়। আবার ২২০০ সালে অনেকেই দৈনন্দিন অফিসের কর্ম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। বরং ব্যক্তিগত পছন্দ, সৃজনশীল ও বুদ্ধিবৃত্তিক শখকে কর্মে রূপান্তর করে সেটিতে যোগ দেবেন তারা।




