সম্ভবত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সালটা ২০৫০। রাস্তার পাশের দালানগুলো দেখে বোঝা যাচ্ছে না এগুলো একই সঙ্গে ডাক্তার, আবহাওয়াবিদ ও রোবট! বর্তমানে শহরের ভবন শুধু মানুষদের ঠাঁই দেয়। ইট-পাথরের বিল্ডিংগুলো ভাবে না তার মালিকের কী প্রয়োজন হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে প্রতিটি দালান হবে বিশাল আকারের ভাবুক, আবেগে ভরপুর। বাইরে গরম পড়লে বাড়ির দেয়াল একাই বদলে যাবে। বাইরের দূষণ বেড়ে গেলে বিল্ডিং নিজে থেকেই ফিল্টার করবে দূষিত বাতাস। ভবিষ্যতে স্থাপত্য শুধু ইট, কংক্রিট আর স্টিলের গল্প থাকবে না। এটি হবে প্রযুক্তি আর বুদ্ধির খেলা। ২০৫০ সালের স্থাপত্য নিয়ে নানান ধরনের আন্দাজ দিয়েছেন সুইডেনের মস্তিষ্ক বিজ্ঞানী ড. কাতারিনা গসপিক এবং হংকংয়ের স্থপতি জেমস ল। ২০২৫ সালে সিটিএস্কেপ গ্লোবালের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তারা ভবিষ্যতের স্থাপত্য এবং নগরায়ণ নিয়ে আলোচনা করেন।
তাদের বিশ্বাস ভবিষ্যতের ভবনগুলোর কোনো স্থির কাঠামো থাকবে না। সেগুলোতে যুক্ত হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। এতে শহরগুলো পরিণত হবে আরও উন্নত ও অভিযোজনযোগ্য গতিশীল পরিবেশে। ২০৫০ সালের দালান তৈরি করা হবে মডিউলার ও প্রিফ্যাব্রিকেটেড উপাদানগুলোর চাহিদা অনুযায়ী। এটি হলো আধুনিক নির্মাণ বা বাড়ি তৈরির এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে বাড়ির বিভিন্ন অংশ আগে থেকেই কারখানায় তৈরি করে আনা হয়। সঙ্গে প্রতিটি ভবনে থাকবে রিয়েল টাইম ট্র্যাকিং। এটি নিশ্চিত করবে যে, উপকরণগুলো দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না। এর ফলে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বর্জ্য। নির্মাণ ব্যয় কমবে এবং কাজের গতি বাড়বে। ভবিষ্যতে এআইচালিত নগর পরিকল্পনা এমন শহর তৈরি করবে যা সামাজিক ও পরিবেশগত চাহিদা মেটাতে ক্রমাগতভাবে নিজেদের বিকশিত করতে সক্ষম হবে। সঙ্গে ২৪ বছর পরের দালানকোঠার নকশা অনুকরণ করবে প্রকৃতি। স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভবনগুলোয় যুক্ত করা হবে জৈব আকৃতি, প্রাকৃতিক আলো এবং বাতাস বিশুদ্ধকারী গাছপালার সমন্বয়।



