Agamir Somoy E-Paper
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬
আগামীর সময়
জিলিয়ানের মানবসেবার পাঁচ যুগ
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় বিবিধ

মিয়ানমার নিয়ে কেমন হওয়া উচিত আমাদের পররাষ্ট্রনীতি

সাইখ আল তমাল
সাইখ আল তমাল
agamir somoy
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১৮:১৫
মিয়ানমার নিয়ে কেমন হওয়া উচিত আমাদের পররাষ্ট্রনীতি

কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ড্রোন ভিউ- রয়টার্স

গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী মিয়ানমার নিয়ে বেশি করে ভাবার ও আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকট এখন শুধু মানবিক সমস্যাই নয়। দুই দেশই একে নিরাপত্তা সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশ। মিয়ানমার জান্তা ও আরাকান আর্মির দ্বৈরথ বাধ্য করছে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নিবিড় ভাবে ভাবার। এই পরিস্থিতিতে কেমন হওয়া উচিত আমাদের পররাষ্ট্রনীতি? এক্ষেত্রে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এখন আমাদের সূক্ষ্মভাবে ভাবতে হবে।

প্রথমত, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোন কেন্দ্রিক হওয়া উচিত। আরাকান আর্মি নাকি জান্তা? বিষয়টি পরিষ্কার বুঝতে হলে দুই শক্তির দ্বৈরথ সম্পর্কে জানা জরুরি। আরাকান আর্মির ‘লড়তে লড়তে গড়ো, গড়তে গড়তে লড়ো’ মতবাদ থেকে সামরিকভাবে নিজেদের বিস্তার ঘটানো এবং একই সঙ্গে দখলকৃত অঞ্চলগুলো শাসন করার মনোভাব স্পষ্ট। সেইসঙ্গে তাদের ‘রাখিতা’ মতবাদ বুঝাও গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৪ সালের এপ্রিলে ‘আরাকান ড্রিম’ ঘোষণার পর আলোচনায় আসে মতবাদটি।

আরাকানি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি লুকিয়ে আছে ‘রাখিতা’ ধারণার মধ্যে। রাখিতা শব্দ দিয়ে সেই সম্প্রদায়কে বোঝানো হয়, যার ছিল নিজস্ব ঐতিহ্য, নীতিনৈতিকতা, মূল্যবোধ ও বংশমর্যাদা। যা বজায় ছিল ১৭৮৪ সাল পর্যন্ত। সেই হারানো গৌরব, সমৃদ্ধি, মর্যাদা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার ফেরাতে চায় ‘আরাকানি জাতীয়তাবাদ’।

আরও পড়ুন

স্থানীয়রা ৫ লাখ, রোহিঙ্গা ১৫ লাখ; কক্সবাজারে ভীতিকর প্রভাব

২০ জুন ২০২৬

এই আরাকানি জাতীয়তাবাদের মধ্যে স্বীকৃত জাতিগোষ্ঠী মাত্র সাতটি। রাখাইন, কামেইন, খুমি, দাইংনেত, মারমাগ্রী, ম্রো এবং থেত। এর মধ্যে রোহিঙ্গা বা মুসলিমদের কোনো স্বীকৃতি নেই। রোহিঙ্গারা রাখাইন অঞ্চলের পুরোনো মুসলিম জনগোষ্ঠী হলেও মিয়ানমার তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করেনি। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের পর তারা কার্যত রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিলেও দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গার দায়িত্ব বহন করা বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। কক্সবাজারে ক্যাম্পগুলো ঘনবসতিপূর্ণ, খাদ্য সহায়তা কমছে, দারিদ্র্য বাড়ছে, অপরাধ, মাদক, মানবপাচার, গ্যাং সহিংসতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও চাপ পড়েছে। পানি সংকট, মজুরি কমে যাওয়া, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবার চাপ এবং সামাজিক উত্তেজনা বেড়েছে। পরিবেশগত ক্ষতিও বড় সমস্যা। বন ধ্বংস, পাহাড় কাটা, জ্বালানি কাঠ ব্যবহার ও জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে।

তাই বাংলাদেশকে এখন মাল্টি লেভেল ডিপ্লোম্যাসির কথা ভাবতে হবে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের কথা রয়েছে। ছয় দিনের এই সফরে প্রথমে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও পরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন সরকার প্রধান। এই সফরে হয়ত আলোচনা হতে পারে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান, মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক ও চীনের সঙ্গে বাণিজ্য কেমন হবে এসব নিয়ে। আশা থাকবে আঞ্চলিক ও জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী যেন তুলে ধরতে পারেন। পাশাপাশি নেপিদো ও বেইজিংয়ের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে নীতি নিতে পারেন। যেহেতু জান্তা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতায় সেক্ষত্রে তাদের পাশে রাখার বিকল্প নেই। আবার আরাকান আর্মির সঙ্গে ব্যাক ডোর চ্যানেলেও যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে।

বাস্তবিক অর্থে এটা এখন স্পষ্ট যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করানো এক প্রকার অসম্ভব। নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ, পরাশক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং রোহিঙ্গা সংকট আলোচনায় রাখার বিকল্প ঢাকার কাছে নেই।

ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মিয়ানমারের জান্তা প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং- রয়টার্সদ্বিতীয়ত চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা আরও গভীরভাবে বাড়ানোর কথা ভাবতে হবে। কেননা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত প্রায় ৫ কোটি ৫১ লাখ জনসংখ্যার দেশ মিয়ানমার ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিশেষ অবস্থানের কারণেই প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের পরাশক্তিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে মিয়ানমার বড় ভূমিকা রাখছে।

মিয়ানমার নিয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরাশক্তিদের প্রতিযোগিতার কারণে বাংলাদেশ একটি উভয়সংকটের মুখে পড়েছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর মিয়ানমার একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই নীতিতে কিছু পরিবর্তন এলেও (যেমন ১৯৯২ সালে কমনওয়েলথে পুনরায় যোগদান) তারা মূলত এই নিরপেক্ষতার ধারা বজায় রেখেছে। দেশটির পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য হলো— বাইরের পরিবেশ বা পরিস্থিতিকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাতে দেশের অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যগুলো পূরণ হয় এবং রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে যেকোনো হুমকি রুখে দিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

আরও পড়ুন

বিশ্বের সর্বোচ্চ জনবসতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে, কিলোমিটারে ৬৪ হাজার মানুষ

২০ জুন ২০২৬

চীন ও ভারতের ঠিক মাঝখানে অবস্থান, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে স্থলপথের সেতু হিসেবে ভূমিকা এবং বঙ্গোপসাগরে ১ হাজার ৯৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা থাকার কারণে ভারত মহাসাগরের একটি উপকূলীয় দেশ হিসেবে মিয়ানমারের কৌশলগত মূল্য অনেক বেশি। ঐতিহাসিকভাবেও দেশটি ঔপনিবেশিক শক্তি ও পরাশক্তিদের প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। চীন ও ভারতের অর্থনৈতিক উত্থান এবং এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নজর দেওয়ার কারণে নেপিদো বরাবারই আলোচনায়।

মিয়ানমারের ২০০৮ সালের সংবিধান অনুযায়ী দেশটির শাসনব্যবস্থায় সামরিক বাহিনীর অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। ২০২১ সাল থেকে দেশটির নিয়ন্ত্রণ জান্তার হাতেই। প্রতিবেশী চীন এর সুযোগ নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। নিজের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে এবং একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বের শীর্ষ পরাশক্তি হওয়ার লক্ষ্য পূরণে মিয়ানমারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে বেইজিং। এ ক্ষেত্রে চীনের মূল স্বার্থগুলো হলো— জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভারত মহাসাগরে সরাসরি প্রবেশাধিকার পাওয়া এবং সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও বাণিজ্য বজায় রাখা। মালাক্কা প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে চীন মিয়ানমারের ভেতর দিয়ে জ্বালানি পাইপলাইন নির্মাণ করছে। পাশাপাশি অপরিশোধিত তেল পরিবহনের জন্য কিয়াউকপিউয়ের কাছে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি করছে।

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তার ‘এশিয়া-পিভট’ কৌশলের আওতায় মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে আসছে। ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যকে রুখে দেওয়া, মিয়ানমারের কৌশলগত অবস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের মিত্রতা বাড়ানোই তাদের মূল উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুন

আরাকান আর্মির মতবাদের আড়ালে রাখাইন রাজ্যের রাজনীতি

২০ মে ২০২৬

ভারতের সঙ্গে মিয়ানমারের ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার স্থলসীমান্ত এবং বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরে জলসীমা থাকায় দেশটি ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের ‘লুক ইস্ট’ বা পূর্বমুখী নীতির মূল লক্ষ্য হলো মিয়ানমারের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা, প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা এবং এই অঞ্চলে চীনের প্রভাবের ভারসাম্য বজায় রাখা। এছাড়া ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর বিচ্ছিন্নতাবাদী ও উগ্রপন্থী তৎপরতা দমন করতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ— উভয় দেশের সঙ্গেই সহযোগিতা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্কের শেকড় বেশ গভীরে। তৎকালীন আরাকান রাজ্য ব্রিটিশ শাসনের অধীনে আসার পর চট্টগ্রাম বিভাগের সঙ্গে এর ব্যাপক অর্থনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগ তৈরি হয়। তবে বাংলাদেশ থেকে অর্থনৈতিক অভিবাসন বা মানুষের যাতায়াতের বিষয়ে মিয়ানমার সবসময়ই কিছুটা সতর্ক বা রক্ষণশীল মনোভাব দেখায়।

আরও পড়ুন

রোহিঙ্গা দম্পতির ১১ সন্তান!

২০ জুন ২০২৬

১৯৭৮ সালে প্রথম বড় আকারে প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করলে দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়। এরপর ১৯৮৪ সালে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসে। সবশেষ ২০১৭ সালে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে এই সংখ্যা ১৫ লাখের বেশি। মিয়ানমার জান্তা এবং আরাকান আর্মি উভয়ই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশের জাতিগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করায় এই সংকটের সমাধান আরও জটিল। তাই পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে বোঝাপড়া ভালো না হলে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। মিয়ানমারে পরাশক্তিদের এই কৌশলগত লড়াই বাংলাদেশের নিরাপত্তা এবং এই অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

তৃতীয়ত, আঞ্চলিক ফোরামগুলোতে বেশি বেশি আলোচনা। আসিয়ান বা বিমস্টেকের মতো ফোরামে রোহিঙ্গা সংকট ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি আলোচনায় রাখতে হবে। এর জন্য দরকার বৈশ্বিক তহবিল পুনর্গঠনের দিকে মনোনিবেশ করা। সম্প্রতি এই ইস্যুতে তহবিল অনেকটাই কমে গেছে। সংকট সমাধান বা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে চাইলে তহবিল পুনর্গঠন, সাইডলাইন বৈঠকে আলোচনা ও সবপক্ষের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখার বিকল্প নেই।

মাল্টি লেভেল ডিপ্লোম্যাসি ব্যর্থ হলে প্রয়োজনে ট্র্যাক টু ডিপ্লোম্যাসির পথে হাঁটতে হবে বাংলাদেশকে। কোনোভাবেই রোহিঙ্গা সংকটকে আলোচনা থেকে হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না

রাখাইন রাজ্যে অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সংঘটিত অর্থনৈতিক অপরাধের মধ্যে দুটি বড় উদাহরণ হলো মুদ্রা চোরাচালান এবং মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণ। প্রকৃতপক্ষে, রাখাইন যুদ্ধ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেশ বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এটি এমন একটি বিষয় যা এখন পর্যন্ত খুব একটা খতিয়ে দেখা হয়নি।

আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের ৯০ শতাংশের বেশি এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। রাখাইন জাতীয়তাবাদী এই সংগঠনটি ২৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। যা মূলত মিয়ানমারের জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রিত মূল ভূখণ্ড থেকে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে।

দুই দেশের প্রাতিষ্ঠানিক বাণিজ্যের পরিমাণ বরাবরই সীমিত। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রায় ২২৩.২২ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তবে ২০২৪ সালে এই বাণিজ্য লেনদেন কমে মাত্র ৯০.১ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। যার অন্যতম কারণ রাখাইনে তীব্র লড়াইয়ের ফলে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের ৯০ শতাংশের বেশি বাণিজ্য সম্পন্ন হয় রাখাইন রাজ্যের দুটি চেকপয়েন্ট— সিত্তওয়ে এবং মংডু দিয়ে। বর্তমানে মংডু রয়েছে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। রাখাইনের রাজধানী সিত্তওয়েকে অবরুদ্ধ করে মিয়ানমারের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বাণিজ্যের মূল চাবিকাঠি এখন আরাকান আর্মির হাতে।

মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মির মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হ্রাস পেয়েছে। আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্য সংলগ্ন নাফ নদীর অংশে সব ধরনের নৌযান চলাচলের ওপর অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এছাড়া তারা মিয়ানমারের মূল ভূখণ্ড থেকে বাংলাদেশমুখী পণ্যবাহী জাহাজগুলো যত্রতত্র জব্দ করছে। সিত্তওয়ে থেকে টেকনাফে পণ্য পাঠানোর জন্য বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কর আদায় করছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ধসের পেছনে এই কারণগুলোই মূলত দায়ী।

মাদকের অবাধ ও ব্যাপক প্রবাহের কারণে প্রায় ৮৩ লাখের বেশি মানুষ মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। যা দারিদ্র্য ও সহিংস অপরাধ বৃদ্ধির মতো নানা সামাজিক-অর্থনৈতিক সমস্যার জন্ম দিচ্ছে। মাদক পাচারের কারণে প্রতি বছর ৪৮১ মিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। মাদকাসক্তির পরোক্ষ অর্থনৈতিক ক্ষতি এর চেয়েও অনেক বেশি

২০২৩ সালের নভেম্বরের আগে টেকনাফ স্থলবন্দরে প্রতিদিন প্রায় ৫০টি পণ্যবাহী জাহাজ আসত। কিন্তু আরাকান আর্মি মংডু জেলা দখল করার পর এই বন্দরে মাসে গড়ে মাত্র তিন থেকে পাঁচটি জাহাজ আসছে। মিয়ানমারে রপ্তানির ঝুড়ি ছোট হলেও, বাংলাদেশ তার এই দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দেশ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কিছু ভোগ্যপণ্য আমদানি করে থাকে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে চাল, হিমায়িত মাছ, শুঁটকি, নারকেল ও আচারের পাশাপাশি আদা, রসুন ও পেঁয়াজের মতো মশলাজাতীয় পণ্য।

বিশেষ করে, বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম চাল উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও অভ্যন্তরীণ ঘাটতির কারণে প্রতি বছর বড় পরিমাণের চাল আমদানি করতে হয়। অন্যদিকে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম চাল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে মিয়ানমার বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশে চাল রপ্তানি করে আসছে। ২০২৫ সালেও বাংলাদেশ মিয়ানমার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১ লাখ টন চাল কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য মিয়ানমার বেশ গুরুত্বপূর্ণ হলেও, চলমান রাখাইন যুদ্ধ এই পারস্পরিক বাণিজ্য অংশীদারিত্বের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

অপারেশন ১০২৭ শুরু হওয়ার পর জনবল সংকটে থাকা ‘তাতমাদো’ (মিয়ানমার সেনাবাহিনী) আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে ‘ফোর কাট’ (চারটি উৎস কেটে দেওয়া) কৌশল প্রয়োগ করে। এই কৌশলের আওতায় রাখাইন রাজ্যকে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়। যাতে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি খাবার, তহবিল, তথ্য এবং নতুন সেনা রিক্রুটমেন্টের সুযোগ না পায়। ফলস্বরূপ, আরাকান আর্মি এখন খাদ্যদ্রব্য, সিমেন্ট, সার, জ্বালানি তেল এবং ওষুধসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় পণ্য কালোবাজারের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে সংগ্রহ করছে।

মাদকের প্রায় ৮০ শতাংশই উপকূলীয় এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে পাচার হচ্ছে। এসবের বাহক বানানো হচ্ছে দরিদ্র রোহিঙ্গাদের

বাংলাদেশ থেকে রাখাইন রাজ্যে পাচার হওয়া পণ্যের পরিমাণ বিশাল হলেও এর সঠিক হিসাব এখনো পুরোপুরি পাওয়া যায়নি। কারণ চোরাচালানের একটি বড় অংশই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এই ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক’ বাণিজ্যের ফলে বাংলাদেশ সরকার কাস্টমস ও আবগারি শুল্ক বাবদ বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে।

একই সময়ে রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে বিপুল মাদক, বিশেষ করে মেথামফেটামিন (যা ইয়াবা নামে পরিচিত) এবং আফিম ও হেরোইনের মতো মাদক পাচার হচ্ছে। জানা গেছে, আরাকান আর্মিও এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এই মাদকের প্রায় ৮০ শতাংশই উপকূলীয় এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে পাচার হচ্ছে। এসবের বাহক বানানো হচ্ছে দরিদ্র রোহিঙ্গাদের। মাত্র কিছুদিন আগেই কক্সবাজারে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে বিজিবি প্রায় ১০ লাখ ইয়াবা জব্দ করেছে।
আরপিজি লঞ্চার হাতে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী কারেন ন্যাশনাল লিবারেল আর্মির একজন সদস্য- রয়টার্সমাদকের এই অবাধ ও ব্যাপক প্রবাহের কারণে প্রায় ৮৩ লাখের বেশি মানুষ মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। যা দারিদ্র্য ও সহিংস অপরাধ বৃদ্ধির মতো নানা সামাজিক-অর্থনৈতিক সমস্যার জন্ম দিচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় এবং মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের জন্য রাষ্ট্র ও পরিবারগুলোকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করতে হচ্ছে। এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মাদক পাচারের কারণে বাংলাদেশ প্রতি বছর সরাসরি ৪৮১ মিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। মাদকাসক্তির পরোক্ষ অর্থনৈতিক ক্ষতি এর চেয়েও অনেক বেশি।

বাংলাদেশের ওপর এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক বোঝার পূর্ণাঙ্গ রূপ এখনো সঠিকভাবে নিরূপণ বা নথিবদ্ধ করা সম্ভব হয়নি। তবে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে অনতিবিলম্বে স্থিতিশীলতা ফিরে না এলে এই ক্ষতির পরিধি আরও বাড়বে। যা সীমান্ত অঞ্চলের অর্থনৈতিক কাঠামোকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং ঢাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে।

মাল্টি লেভেল ডিপ্লোম্যাসি ব্যর্থ হলে প্রয়োজনে ট্র্যাক টু ডিপ্লোম্যাসির পথে হাঁটতে হবে বাংলাদেশকে। কোনোভাবেই রোহিঙ্গা সংকটকে আলোচনা থেকে হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। পরিশেষে, মিয়ানমারকে কেন্দ্র করে পরাশক্তিদের এই জটিল প্রতিযোগিতার মাঝে বাংলাদেশকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পথ চলতে হবে। কোনো পক্ষের ফাঁদে না পড়ে বা কারো ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের হাতিয়ার না হয়ে, নিজের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও সহযোগিতাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখাই সমুচিত।

বিশ্ব শরণার্থী দিবসবাংলাদেশ-মিয়ানমারপররাষ্ট্রনীতিরোহিঙ্গা
    শেয়ার করুন:
    advertisement
    advertisement
    ২০ জুন ২০২৬
    রাত ১:০০ টা
    যুক্তরাষ্ট্র
    ২
    অস্ট্রেলিয়া
    ০
    ২০ জুন ২০২৬
    রাত ৪:০০ টা
    স্কটল্যান্ড
    ০
    মরক্কো
    ১
    ২০ জুন ২০২৬
    সকাল ৬:৩০ টা
    ব্রাজিল
    ৩
    হাইতি
    ০
    ২০ জুন ২০২৬
    সকাল ৯:০০ টা
    তুরস্ক
    ০
    প্যারাগুয়ে
    ১
    ২০ জুন ২০২৬
    রাত ১১:০০ টা
    নেদারল্যান্ডস
    ০
    সুইডেন
    ০
    মরিচা ধরা মেশিনে থমকে গেছে হাজারো শ্রমিকের জীবন

    মরিচা ধরা মেশিনে থমকে গেছে হাজারো শ্রমিকের জীবন

    ২০ জুন ২০২৬, ০০:১৯

    শিক্ষালোক সম্মাননা পেলেন তিন গুণীজন

    শিক্ষালোক সম্মাননা পেলেন তিন গুণীজন

    ২০ জুন ২০২৬, ০০:৫৫

    পুরনো ভয় সরে গিয়ে নতুন ভয়

    পুরনো ভয় সরে গিয়ে নতুন ভয়

    ২০ জুন ২০২৬, ০০:০১

    পুশইনের প্রতিবাদে ভারতীয় দূতাবাসমুখী মিছিল

    পুশইনের প্রতিবাদে ভারতীয় দূতাবাসমুখী মিছিল

    ২০ জুন ২০২৬, ০০:৪৯

    ৩০ বছর পরও বয়স কমে!

    ৩০ বছর পরও বয়স কমে!

    ২০ জুন ২০২৬, ০০:০১

    বুর্গেনস্টকের কুয়াশা, শান্তি কি মরীচিকা?

    বুর্গেনস্টকের কুয়াশা, শান্তি কি মরীচিকা?

    ২০ জুন ২০২৬, ০০:০১

    জিলিয়ানের মানবসেবার পাঁচ যুগ

    জিলিয়ানের মানবসেবার পাঁচ যুগ

    ২০ জুন ২০২৬, ০৪:২২

    রামপুরায় গুলিবিদ্ধ শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্যা পলাশ মারা গেছেন

    রামপুরায় গুলিবিদ্ধ শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্যা পলাশ মারা গেছেন

    ২০ জুন ২০২৬, ০১:৫৩

    বকশীগঞ্জে সাপের কামড়ে পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু

    বকশীগঞ্জে সাপের কামড়ে পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু

    ২০ জুন ২০২৬, ০১:৪১

    বড়লেখা সীমান্তে গুলিসহ দুইটি ভারতীয় এয়ারগান জব্দ

    বড়লেখা সীমান্তে গুলিসহ দুইটি ভারতীয় এয়ারগান জব্দ

    ২০ জুন ২০২৬, ০১:৩২

    শ্রীমঙ্গলে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী হারমোনি ফেস্টিভ্যাল

    শ্রীমঙ্গলে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী হারমোনি ফেস্টিভ্যাল

    ২০ জুন ২০২৬, ০১:০৪

    বিমানবন্দরে অভিষেককে ঘিরে উত্তেজনা, হাতাহাতি তৃণমূল-বিজেপি কর্মীরা

    বিমানবন্দরে অভিষেককে ঘিরে উত্তেজনা, হাতাহাতি তৃণমূল-বিজেপি কর্মীরা

    ২০ জুন ২০২৬, ০৪:২৭

    ৯৬ বছর পর টানা দুই জয় যুক্তরাষ্ট্রের

    ৯৬ বছর পর টানা দুই জয় যুক্তরাষ্ট্রের

    ২০ জুন ২০২৬, ০৩:০৫

    পাটুরিয়া ঘাটে নদীর পাড়ে ঝুলে পড়ল বাস, অল্পের জন্য রক্ষা

    পাটুরিয়া ঘাটে নদীর পাড়ে ঝুলে পড়ল বাস, অল্পের জন্য রক্ষা

    ২০ জুন ২০২৬, ০৪:২২

    সবাইকে বোকা বানিয়ে মনোরেলে অদ্ভুত ধোঁকাবাজি

    সবাইকে বোকা বানিয়ে মনোরেলে অদ্ভুত ধোঁকাবাজি

    ২০ জুন ২০২৬, ০৬:৫০

    advertiseadvertise