স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ডায়াবেটিস প্রতিরোধে বিজ্ঞান ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে একসঙ্গে কাজে লাগাতে হবে

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত । ছবি : আগামীর সময়
‘ডায়াবেটিস প্রতিরোধে শুধু হাসপাতাল বা চিকিৎসাসেবার ওপর নির্ভর করলে হবে। বিজ্ঞান, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক অংশীদারত্বকে একসঙ্গে কাজে লাগাতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এ মন্তব্য করেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জীবনাচরণ ও সামাজিক কাঠামো গঠনে ধর্মীয় নেতাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ইমাম, পাদ্রি এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিনিধিরা যদি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, আচরণগত পরিবর্তন ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরামর্শ দেন, তাহলে সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’
ডা. মুহিত বলেন, ‘বর্তমান সরকার শুরু থেকেই ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী ও ভাতার ব্যবস্থা করেছে। তবে এই সম্পৃক্ততা শুধু ভাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার কাজেও ব্যবহার করতে হবে।’
গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলছিলেন, ‘বাংলাদেশে ধর্মীয় মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে পরিচালিত ডায়াবেটিস প্রতিরোধ কর্মসূচি উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের হার প্রায় ৪২ থেকে ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম হয়েছে।’ তার ভাষায়, ‘এটি বিজ্ঞান ও ধর্মীয় বিশ্বাসের এক অভূতপূর্ব সমন্বয়।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ- সব ধর্মের নেতাদের অংশগ্রহণে এই সম্মেলনে গৃহীত ‘ঢাকা ডিক্লেয়ারেশন’ বাস্তবায়িত হলে তা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ঢাকা রিজিওনাল হাবের প্রধান আলী এম খান, গ্লোবাল মেটাবলিক হেলথ অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক ড. অমিত গুপ্ত, ডায়াবেটিস ইন এশিয়া স্টাডি গ্রুপের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল বাসিত, আইডিএফ সাউথ-ইস্ট এশিয়ার চেয়ার ড. বংশী সাবু, জাইকার প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো, ওআইসির সহকারী মহাসচিব মো. আফতাব আহমেদ খোখোর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ কার্যালয়ের উপপ্রতিনিধি ড. রাজেশ নারওয়াল, ওয়ার্ল্ড ডায়াবেটিস ফাউন্ডেশনের বোর্ড সদস্য সোবিয়া আকরাম এবং ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক পিটার শোয়ার্জ।
ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ মহিববুল্লাহিল বাকী নদভী, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, সেন্ট জন মেরি ভিয়ানি হাসপাতালের পরিচালক ড. ফাদার লিন্টু ফ্রান্সিস কস্টা এবং শ্রী শ্রী গীতা সংঘ বাংলাদেশের সভাপতি শ্রী নিত্যানন্দ চক্রবর্তী।




