৫০ হাজার তালবীজ রোপণ কামালের

তালবীজ রোপণ করছেন কামাল গাজী
বজ্রপাত থেকে মানুষের সুরক্ষা, পাখির নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন কামাল গাজী। সরকারি কোনো সহায়তা ছাড়া নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় ৫০ হাজারের বেশি তালবীজ রোপণ করেছেন তিনি।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা গ্রামের কৃষক কামাল গাজী (৫৫) ২০২৪ সাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে, নদীর পাড়, জমির আল, মাঠ ও রাস্তার পাশে রোপণ করে যাচ্ছেন তালবীজ। এসব বীজ থেকে গাছ বেড়ে উঠছে। নিজের জমি চাষাবাদ ও গরুর খামারের আয়ে চলে তার চার সদস্যের সংসার।
স্থানীয়রা বলছেন, পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ প্রকৃতি গড়ে তুলতে কামালের এই উদ্যোগ এলাকায় অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কামাল গাজী এ বছর ‘সবুজ সাথী সম্মাননা’ লাভ করেছেন। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এবং কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত পরিবেশ সমাবেশে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
শুধু পরিবেশ রক্ষায় নয়, সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও করছেন কামাল গাজী। ২০২২ সালে নিজের প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে গ্রামের মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে ১ হাজার ২০০ ফুটের একটি রাস্তা নির্মাণ করেন।
কামাল গাজী মনে করেন, ‘তালগাছ শুধু পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়ায় না, এটি বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি হয় এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও সহায়তা করে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন একটি নিরাপদ ও সবুজ পরিবেশ পায়, সেই চিন্তা থেকেই আমি তালবীজ রোপণ করে যাচ্ছি। একদিন এসব বীজের গাছগুলো বড় হবে, তখন মানুষ হয়তো আমাকে স্মরণ করবে।’ কামাল গাজীর দাবি, গত দুই বছরে তিনি ৫০ হাজারের বেশি তালবীজ রোপণ করেছেন।
নীলগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহ আলম প্যাদা বলছিলেন, কামাল গাজী শুধু তালবীজই রোপণ করছেন না, তিনি নিয়মিত বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজেও অংশ নেন। অনেকেই যখন ব্যক্তিগত স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত, তখন তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার এই উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে এখন অনেক তরুণও গাছ লাগাতে আগ্রহী হচ্ছেন।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী কামাল হাসান রনির ভাষ্য, উপকূলীয় এলাকায় তালবীজ রোপণের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। তালগাছ একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক, অন্যদিকে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো এবং পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কামাল গাজীর মতো মানুষদের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, পাশাপাশি এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেছেন, উপকূলীয় উপজেলা হিসেবে কলাপাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। এ বাস্তবতায় তালগাছ রোপণ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাই নয়, বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবেশ রক্ষায় কামাল গাজীর এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়।




