যুদ্ধের মোড় ঘুরতেই মিয়ানমারে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা
মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়ে উইন উর হাতে পতাকা তুলে দিচ্ছেন জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং।
পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধে মিয়ানমারে প্রাণহানি এখনও থামেনি। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের পাল্টে যাওয়া বাস্তবতা ও আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতায় শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নতুন করে সামনে এসেছে।
মিয়ানমারে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে ইঙ্গিত মিলছে নতুন উদ্যোগের। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী হওয়া এবং আলোচনায় বসার জন্য আঞ্চলিক চাপ বাড়ার ফলে বিরোধী পক্ষের অবস্থানেও পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে ছায়া সরকার ও প্রধান কয়েকটি জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত জোট স্টিয়ারিং কাউন্সিল ফর দ্য ইমার্জেন্স অব আ ফেডারেল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (এসসিইএফ)-এর অবস্থানে। গত মাসে থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর জোটটি জানিয়েছে, তারা এই সংকটের রাজনৈতিক সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ওই দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী পৃথকভাবে মিয়ানমারের সামরিক আলোচনা কমিটির সঙ্গেও বৈঠক করেন।
এসসিইএফের মুখপাত্র স নিমরোড বলেছেন, বেসামরিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং সামরিক বাহিনীকে রাজনৈতিক ভূমিকা থেকে সরিয়ে দেওয়াই তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। তবে আপাতত তারা আলোচনা-ভিত্তিক রাজনৈতিক সমাধানের পথেই এগোতে চায়। অর্থবহ সংলাপের পরিবেশ তৈরির জন্য বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা বন্ধ এবং সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তিও দাবি করেছে জোটটি।
জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং এখনো এসসিইএফকে আলোচনার অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেননি। তবে এ সপ্তাহে তার থাইল্যান্ড সফরকে বৃহত্তর শান্তি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। থাইল্যান্ড চায়, আঞ্চলিক জোট আসিয়ান ধীরে ধীরে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করুক।
এদিকে সেনাবাহিনী পরিচালিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছিল। মিন অং হ্লাইংও সম্প্রতি পার্লামেন্টে শান্তিকে সরকারের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা বলে উল্লেখ করেছেন। যদিও পর্যবেক্ষকদের দাবি, তার নেতৃত্বে বেসামরিক মানুষের ওপর সামরিক হামলা বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের শুরুতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লেও চীনের সমর্থনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কয়েকটি কৌশলগত সীমান্ত এলাকা পুনর্দখলের চেষ্টা চলছে। বাগো ও ডাউই অঞ্চলে সরকারি অভিযানের মুখে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী পিছু হটেছে বলেও জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সব পক্ষই এখন আলোচনার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করছে। তবে গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছাতে উভয় পক্ষকেই ছাড় দিতে হবে। সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে এখনো সময় লাগবে বলে মনে করেন তারা।




