কিন্তু

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আমার স্বপ্ন দেখা যেন থামছেই না। কখনো গাড়ির ছাদে উঠে আকাশ দেখি, কখনো নৌকা নিয়ে রাস্তায় চলি! স্বপ্ন বোধ হয় সবাই দেখেন। কেউ কল্পনায় স্বপ্ন দেখেন, কেউ ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখেন। আমি কল্পনায় স্বপ্ন দেখি না। মাঝে মাঝে ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখি।
সেদিন রাতে কী যে স্বপ্ন দেখলাম! আমি নিজেই বুঝি না। দেখি— আমার দুটো ডানা গজিয়েছে। ডানাগুলো দেখতে অনেকটা কবুতরের মতো, তবে আকারে বেশ বড়। দেখি— জানালা দিয়ে উড়ে বের হয়ে যাচ্ছি। বাড়ির ছাদ বরাবর ওপরে উঠে গেছি। নিচে আমাদের বাড়িওয়ালা কাজল ভাই ছাদে দাঁড়িয়ে আছেন।
আমাকে দেখে চিৎকার করে বললেন, ‘এই যে! কোথায় যাচ্ছ?’ আমি বললাম, ‘যাচ্ছি, পৃথিবী ঘুরে আসি!’ আবার জানতে চাইলেন— ‘পাখা পেলে কোথায়?’ বললাম— ‘জানি না।’
আমি ছুটলাম। প্রথমে খিলগাঁও পেরিয়ে আফতাব নগরের ওপর দিয়ে যাচ্ছি। মনে হলো, আমার বন্ধু আছে এখানে, ওকে ডাক দেব কি না? না। ডাকলে আর পৃথিবী ঘুরে দেখা হবে না। তাই উড়তে থাকলাম।
বাংলাদেশ পেরিয়ে ভারতের ওপর দিয়ে যাচ্ছি। মনে পড়ল, এখানে কত লোক আছে আমাদের দেশের, যারা আশ্রয় নিয়েছেন। হঠাৎ পেট চোঁ-চোঁ করতে লাগল। নিচে দেখি, এক দোকানে গরম সমুচা ভাজা হচ্ছে। কিন্তু নামার সময় নেই। তাই আকাশ থেকেই সমুচার গন্ধ শুঁকে ক্ষুধা মেটালাম!
চললাম। তারপর উড়ে গেলাম তাজমহলের ওপর দিয়ে। সেখান থেকে চীন, জাপান, আমেরিকা। নিউ ইয়র্ক যেতেই ছোট ভাইয়ের কথা মনে পড়ল। ও সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। নাহ, নামা যাবে না। ফোন দেওয়ার সুযোগ নেই। এরপর ছুটলাম— ইউরোপে। কোথায় না গেলাম! আইফেল টাওয়ারের মাথায় বসে সেলফি তুললাম। কিন্তু সমস্যা হলো, মোবাইলে নেটওয়ার্ক নেই। ছবিটা পোস্ট করতে পারলাম না। এত কষ্টে ঘুরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রমাণ দিতে না পারায় মনটাই খারাপ হয়ে গেল!
এরপর উড়ে গেলাম সমুদ্রের ওপর। কোন সমুদ্র, চিনতে পারলাম না। নিচে বিশাল নীল পানি দেখে মনে হলো, পৃথিবীটা যেন একটা বড়সড় বাটিতে রাখা শরবত! হঠাৎ দেখি, সূর্য উঠছে। বুঝলাম, সকাল হয়ে গেছে।
এরই মধ্যে পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল ধরে টান দিয়ে জাইমা বলল— ‘আব্বু, উঠবে না?’ ঘুম ভাঙল আমার। চোখ খুলে দেখি, আমি বিছানায়। ডানা দুটো কোথায় গেল? নেই! মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বললাম, তুমিই আমার পৃথিবী।



