যদি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
গণতন্ত্রে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে, কিন্তু শত্রু নয়। কারণ রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্য হওয়া উচিত মতের ভিন্নতাকে স্বীকৃতি দিয়ে জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়া। যদি প্রতিপক্ষকে শুধু নির্মূলের লক্ষ্যেই রাজনীতি পরিচালিত হয়, তখন বিভাজনই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা, সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি মামলা ও সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি সেই সংকটকেই সামনে এনেছে। কোথাও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, কোথাও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গণহারে মামলা; আবার কোথাও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সামাজিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ— এসব ঘটনাই প্রমাণ করে যে, পারস্পরিক অবিশ্বাস এখনো গভীর। একই সময়ে মব সহিংসতার মতো ঘটনাও দেখিয়েছে, রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে জনতার ক্ষোভ কত দ্রুত আইনের শাসনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
অথচ ইতিহাস বলছে, কোনো দেশ দীর্ঘমেয়াদে শুধু প্রতিশোধের রাজনীতি দিয়ে স্থিতিশীলতা অর্জন করতে পারেনি। ক্ষমতার পালাবদল স্বাভাবিক হলেও রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন এবং নাগরিক অধিকার সবার জন্য সমান থাকতে হয়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চিরস্থায়ী শত্রু হিসেবে দেখার সংস্কৃতি সেই ভিত্তিকেই দুর্বল করে।
জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে তখনই, যখন মতের ভিন্নতা সত্ত্বেও সংলাপের পথ খোলা থাকে, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হয় এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা প্রতিহিংসায় রূপ নেয় না। অন্যথায় আজকের প্রতিপক্ষ কাল ক্ষমতায় এসে একই চক্রের পুনরাবৃত্তি ঘটাবে।
তাই প্রশ্নটি আজও প্রাসঙ্গিক— যদি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শুধু শত্রু হিসেবেই দেখা হয়, তবে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠবে কীভাবে? এর উত্তর নির্ভর করছে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সহনশীলতা, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর।




