অথচ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পরীক্ষার প্রস্তুতি শেষ। সন্ধ্যার নিভে যাওয়া আলোয় শেষ মুহূর্তে বইয়ের পাতায় একবার চোখ বোলানোর তোড়জোড়। এমন সময় হঠাৎ নিভে গেল আলো। হায় হায়! এখন কী হবে? ঘরে মোমবাতি নেই। মোমবাতি কিনতে দোকানে বাবার ছুট। উফ! কী অসহ্য গরম। হাতপাখা দিয়ে মায়ের বাতাস। ধরধর করে ঝরছে ঘাম। সেই সঙ্গে উঠছে টেনশনের পারদ। দেশের কোনো এক প্রান্তের কোনো এক কিরণ, জ্যোতি, দীপ্তি বা প্রভার প্রশ্ন— মা, কারেন্ট কখন আসবে? মায়ের শুকনো মুখ। উত্তর জানা নেই। অথচ এই চিন্তা তো এ সময় তার করারই কথা ছিল না। করতে হচ্ছে।
কারণ, লোডশেডিং।
পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা সবার। প্রতিদিনই খবর প্রকাশ, ‘পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থীর কাছে নকল পাওয়া গেলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আইনের আওতায় আনা হবে।’ ভালো কথা, অবশ্যই আনা জরুরি। ‘কোনো কেন্দ্রে নকলের প্রমাণ মিললে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধেও নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থা।’ কেন নয়, অবশ্যই নেওয়া উচিত। ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে, যা ভবিষ্যতে উদাহরণ হয়ে থাকবে।’ এমন উদাহরণ দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী। অথচ যে পরীক্ষা নিয়ে এত উচ্চবাচ্য, যাদের নিয়ে এই আয়োজন, সেই শিক্ষার্থীরা ত্রিশঙ্কুর দশায় কেমন আছে— সে কথা কি একবার ভেবেছেন কেউ? তারা তো পড়ালেখাই করতে পারছে না। দিনরাত অন্ধকারে ডুবে আছে তাদের সব আয়োজন। পরীক্ষার আগের রাতগুলো কতখানি মানসিক চাপের— সে কথা বলে বোঝানো নয়। সেই চাপের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে এই লোডশেডিং। অথচ এ নিয়ে কথা বলছেন না কেউ। বিদ্যুৎ বিভাগের নিরুপায় বক্তব্য, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম। তাই এই সংকট। কিছুই করার নেই। অথচ কে না জানে, লোডশেডিং কোনো সমাধান নয়; বাড়াতে হবে উৎপাদন। সেই কাজের কাজটি হচ্ছে কি?




