Agamir Somoy E-Paper
বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
অসহায়দের জন্য সেবিনের আশ্রয়
বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় সাহিত্য

আহা’র কবিতার অন্তর থেকে

শিমুল সালাহ্‌উদ্দিন
শিমুল সালাহ্‌উদ্দিন
agamir somoy
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১৫:২৯
আহা’র কবিতার অন্তর থেকে

আবুল হাসান (জন্ম: ৪ আগস্ট ১৯৪৭ – ২৬ নভেম্বর ১৯৭৫)

প্রথমে পড়ে নিন ‘অভিধান’ শিরোনামের একটি কবিতা— যা লিখেছিলাম ২০০৮ সালে। এই কবিতার গভীরে, ছত্রে ছত্রে লুকিয়ে আছে আমার প্রিয় কবি আবুল হাসান। তার জন্মদিন আজ, ৪ আগস্ট। যে কবি মাত্র ২৯ বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, তিনি জন্মেছিলেন ১৯৪৭ সালে।

অভিধান

আমার খুব বানান ভুল হয়।

হ্রস্ব ই-কার আর দীর্ঘ ই-কারে আমি সবসময় গুলিয়ে ফেলি। যেমন গুলিয়ে ফেলি দন্ত-ন আর মূর্ধণ্য-তে। সদ্যোজাত সব কবিতার প্রথম পাঠক তোকে দেখানোমাত্রই ভুল বানানগুলো কেটেকুটে ছেঁড়াবেড়া বানিয়ে দিতি আর আমার বিব্রতমুখ দেখতে দেখতে ঝাড়তি ‘‘অভিধান দেখতে পারিস না!’’

বানানগুলো নিয়ে অযৌক্তিক তর্ক জুড়ে দিতাম তোর সাথে। বলতাম, ‘তুই-ই তো আমার অভিধান।’ সবচেয়ে বেশি ভুল করতাম ‘ভীষণ’ বানানটাই মনে হয়। আর ছিল-কে ‘ছিলো’ লেখা কিংবা হল-কে ‘হলো’ লেখা আমার সবসময়ের মুদ্রাদোষ। এই তর্কে আমি আমার পাশে তোর প্রিয় কবি আবুল হাসানকে বনানী কবরস্থান থেকে টেনে এনে দাঁড় করিয়ে দিতাম। তুই আবুল হাসানকেও ধুয়ে দিতে ছাড়তি না। আহা! আবুল হাসান। আবুল হাসানকে ব্যঙ্গ করে আহা বললেই রেগেমেগে একাকার হতি তুই।

বহুদিন রে, তিনলাইনের বেশি লিখতে পারিনা। তোর কথা মনে পড়ে যায়। আর তুই আমার লেখার শাদাখাতা দখল করে বসে থাকিস। লিখতে চাই ‘‘জলে-ঝড়ে ঘর ভাঙে, পুড়ে ছাই হয় যাবতীয় স্মৃতি, সৌধ। শুধু, দগ্ধ অনুষঙ্গে থরথর করে রাত, ভারী, পোড়া গন্ধ।” অথচ লেখা হয় তাই বলে, বেলা শেষে, নাকালই বা হবে কেন, রিক্তহাত বিষণ্ন বালক? কেন এই খুঁজে ফেরা, ভ্রষ্টলগ্নে নীলকণ্ঠ পাখিরপালক!

যাবতীয় আর ভারী— দুটোশব্দ, লাইব্রেরির সামনের খুনসুটি মনে করিয়ে দেয়। লেখার কথা ভুলে গিয়ে আমি বিষণ্ন নয়শোবার তোর নাম টাইপ করি। তোর নামের টাইপো-হরফের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে একটা লাইন ভেজে চলি, ধমনীতে জাগে তবু, শিরার গভীরে প্রভূ, রুধিরের রোল। প্রভু লিখতে গিয়ে তোর আশ্রয়ের অভাব অনুভব করি। যোগাযোগসেতু অনড় থাকলে এখনি ফোন করে জেনে নেয়া যেতো। কিন্তু নরকে নিক্ষিপ্ত পাপীর দৌঁড় কেবল ফেরেশতা পর্যন্ত। প্রভু কিংবা প্রভূর কাছে সে পৌঁছবে এমন সাধ্য কই!

নেই কেউ পোড়া ভিতে। পরিত্যক্ত কোঠা শুধু জলে ভেজে, রোদে পোড়ে; শুয়ে থাকে দিন-রাত নিশার জঠরে। আলেয়া যদিও এসে বেবাক নিশীথে কড়ি খেলে, বকে-ঝকে, সিঁড়ি বেয়ে ওঠে নামে, বোনে সূক্ষ্ম তন্তুজাল, ছেঁড়ে,(ছেড়ে তে কি চন্দ্রবিন্দু আছে রে!) তবু ভুতুড়ে (ভুতুড়ে বানানটাই ভুতুড়ে, দুটোই হ্রস্ব উ-কার!) আঁধারে শুধু গমগম করে নৈঃশব্দ্য (নৈঃশব্দ্য তে কি য-ফলা আছে!) দারুণ। কারা তবু মুখ খোঁজে অনড়(র!) পাথরে।

ভগবান পাঠক, আমার অভিধান হারিয়ে গেছে।

কবি আবুল হাসান, চিত্রকর্ম কৌশিক সরকার
আবুল হাসান; এক হারানো অভিধানের চিরকিশোর কবি

আমার ‘অভিধান’ কবিতায় বারবার ফিরে এসেছে একটি শব্দ— ‘আহা’। তুই বলতি, ‘আহা! আবুল হাসান!’ আর তোর এই ‘আহা’ বলার ভেতর যে এক ধরনের করুণার সুর ছিল, তা আমি কখনো মেনে নিতে পারতাম না। আজ বুঝি, করুণা নয়— ওটা ছিল এক শ্লেষবাণসন্ধানদারুণা-মিশ্রিত শ্রদ্ধা। এক কাল্ট পোয়েটের প্রতি অনুজ কাব্যার্থীর নিবেদন; ভালোবাসা।

আবুল হাসানকে ‘কাল্ট পোয়েট’ বলছি কেন? কারণ তিনি কখনোই মূলধারার মসৃণ, সুসভ্য, তুলু-তুলু কবি ছিলেন না। বরং তিনি যেন হয়ে উঠেছিলেন এক গোপন ক্লাবের নায়ক— যে ক্লাবের সদস্যপদ পেতে গেলে বানান ভুল করতে হয়, জীবনকে এলোমেলো করে দিতে হয়, আর অন্তত একবার হলেও ‘নৈঃশব্দ্য’তে য-ফলা আছে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে পড়তে হয়। তার কবিতার গোপন দীক্ষার মন্ত্র ছিল: ‘অবশেষে জেনেছি মানুষ একা! জেনেছি মানুষ তার চিবুকের কাছেও ভীষণ অচেনা ও একা!’ এই ‘ভীষণ’ বানানটাই তো আমাদের তর্কের কেন্দ্রে ছিল! তুই বলতি, ‘হাসান “ভীষণ” লিখেছে, তুইও তাই লিখছিস। কিন্তু তোর “ভীষণ”-এ কি সেই মহাজাগতিক একাকিত্ব আসে?’ তোর প্রশ্নের উত্তর আজ দিতে পারি— আসে না। কারণ আমি তো কখনো সত্যিকারের একা ছিলাম না। তুই ছিলি আমার পাশে, আমার অভিধান হয়ে। আর হাসান? হাসান একা ছিল। জীবনের প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি সম্পর্কের ভাঁজে সে ছিল; একাই।

আবুল হাসান জন্মেছিলেন ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার বর্নি গ্রামে, মাতুলালয়ে। পিতা আলতাফ হোসেন মিয়া ছিলেন পুলিশ অফিসার, শৃঙ্খলার প্রতিমূর্তি। আর পুত্র? সে এক উড়নচণ্ডী পাখি। বরিশাল বিএম কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকের জীববিদ্যা পরীক্ষার হলে সে খাতায় না লিখে পাশের সিটে কবিতা লেখে! পরীক্ষক ধরে ফেললে বাকি সময়ে লিখে দ্বিতীয় বিভাগে পাস করে। এই তো আবুল হাসান— যার পুরো জীবনটাই এক ‘হলো’ আর ‘ছিলো’র মতো বাড়তি স্বরবর্ণ নিয়ে বাঁচা। ‘হল’ তার হয়ে উঠত ‘হলো’, ‘ছিল’ হয়ে উঠত ‘ছিলো’। এই বাড়তি ‘ও’ যেন জীবনের প্রতি এক বোহেমিয়ান অবজ্ঞা, শৃঙ্খলার বুকে আড্ডার টেবিলে পা তুলে বসার মতো এক স্বাধীনতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি অনার্সে ভর্তি হলেন, ফাইনাল পরীক্ষা না দিয়েই ১৯৬৯ সালে যোগ দিলেন দৈনিক ইত্তেফাকে। তারপর গণবাংলা, তারপর জনপদ— কোথাও মন (পড়ুন পা) টেকেনি। যেন স্থিরতা তার ধাতেই ছিল না। শামসুর রাহমান যথার্থই বলেছেন, ‘আবুল হাসান মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত কবি, কবি ছাড়া আর কিছুই নন। তাঁর প্রতিটি নিঃশ্বাসে বয়ে গেছে কবিতা।’ আরও বলেছেন, ‘তাঁর এলোমেলো জীবনের ছাপ পড়েছে তার কবিতাতেও। এই এলোমেলোমি তাঁর কবিতার দুর্বলতা এবং শক্তি।’ এলোমেলোতেই তার কাল্ট স্ট্যাটাসের চাবিকাঠি। কারণ পাঠক কখনোই তাকে পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারে না। কিছু কবিতা পড়ে মনে হয়, ‘এটা কী লিখল?’—ঠিক যেমন ‘ব্লেড’ কবিতায়: ‘বলি তাই এসেছি তোমার কাছে ইস্পাতিনী/ শুশ্রুষার সবুজ চুম্বনে স্নিগ্ধ করে দাও তুমি এ হেন মলিন মুখ/... বলে আরে, এতো সেই ইতর নাগর’। ‘ইতর নাগর’— এই ব্যবহার অনেকের কাছেই খাপছাড়া লাগে, কিন্তু এই খাপছাড়াপনার ভেতরেই আবুল হাসানের জাদু। তিনি কোনো কিছুর সঙ্গে মানিয়ে চলতে আসেননি, এসেছিলেন উল্টো পথে হাঁটতে।

মাত্র তিনটি কাব্যগ্রন্থ: ‘রাজা যায় রাজা আসে’ (১৯৭২), ‘যে তুমি হরণ করো’ (১৯৭৪), ‘পৃথক পালঙ্ক’ (১৯৭৫)। দশ বছরের কাব্যসাধনা। অথচ কী দুর্দান্ত সব কবিতা রেখে গেছেন! ‘ঝিনুক নীরবে সহো’— এই চার লাইনের কবিতা যেকোনো বাংলা ভাষী পাঠকের মনে আজীবনের জন্য গেঁথে যায়: ‘ঝিনুক নীরবে সহো, ঝিনুক নীরবে সহো, ঝিনুক নীরবে সহে যাও/ ভিতরে বিষের বালি, মুখ বুঁজে মুক্তা ফলাও!’ এ কোনো কাব্যিক ফর্মুলা নয়, এ যেন এক জীবনদর্শন। যেন রবীন্দ্রনাথের ‘দুঃখ যদি না পাবে তো দুঃখ তোমার ঘুচবে কবে?’— এ ভাবনার এক অন্য-তর প্রকাশ। বেদনাকে গিলে মুক্তো ফলানোর এ ব্রতই তো আবুল হাসানের কাব্যদর্শনের মূলমন্ত্র। ‘কালো কৃষকের গান’-এ তাই লেখেন: ‘দুঃখের এক ইঞ্চি জমিও আমি অনাবাদী রাখবো না আর আমার ভেতর!’ যেন জীবনকে কবিতার আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া।

আর এই জ্বালিয়ে দেওয়ার আগুনে ইন্ধন জুগিয়েছিল বন্ধুত্ব। বিশেষ করে নির্মলেন্দু গ‍ুণের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল এক কাব্যিক ও বোহেমিয়ান যুগলবন্দি। ষাটের দশকের এই দুই তরুণ কবি— একজন সমাজতন্ত্রের স্বপ্নে বিভোর, আরেকজন প্রেম আর বিষাদে ডুবে থাকা চিরকিশোর। শীতের রাতে ঢাকা শহরের অলিগলি চষে বেড়ানো, রেক্স রেস্তোরাঁয় কফির কাপে চুমুক দিয়ে কবিতা নিয়ে তর্ক আর জীবন নিয়ে আড্ডা— হুট করে টানবাজার— এই তো ছিল তাদের জগৎ। এই বন্ধুত্ব এতটাই গভীর ছিল যে, গ‍ুণ যখন হাসানের প্রেমিকা সুরাইয়া খানমের কারণে কিছুটা দূরে সরে যান, হাসান তখন অভিমানের সুরে চিঠি লেখেন: ‘তুমি কি ভুলেই গেলে সেই সব দিনের কথা, যখন শীতের কুয়াশার মধ্যরাত্রির বাতাসকে আমরা সাক্ষী রেখে ঢাকা শহরের অলিগলি চষে বেড়িয়েছি।... একসময় আমরাই আমাদের প্রেমিক ছিলাম।’ এই ‘আমরাই আমাদের প্রেমিক ছিলাম’— এ বাক্য বন্ধুত্বের সংজ্ঞা চিরতরে বদলে দেয়। এ যেন এক নিষিদ্ধ নগরে দুই পরবাসীর যৌথ নিষাদ, যে বিষাদ তারা কবিতায় মাখামাখি করে দিতেন।

আবুল হাসানের রচনা সমগ্রের প্রচ্ছদ
গ‍ুণকে উৎসর্গ করেছিলেন ‘অসভ্য দর্শন’ কবিতাটি: ‘দালান উঠছে তাও রাজনীতি, দালান ভাঙছে তাও রাজনীতি/... তরুণেরা অধঃপাতে যাচ্ছে তাও রাজনীতি/... তীব্র এক বেদেনীর সাপ খেলা দেখছি আমি; রাজনীতি তাও কি রাজনীতি?’ নামটিই যেন দুজনের যৌথ ঘোষণা— আমরা অসভ্য, আমাদের দর্শনও তাই। সমাজের সব নিয়মকানুনের বিরুদ্ধে দুই বোহেমিয়ানের বিদ্রোহ। এই যে গ‍ুণের সঙ্গে হাসানের সম্পর্ক, এ শুধু দুই ব্যক্তি মানুষের সম্পর্ক নয়, এ যেন এক কবিতা ভরা জীবন আরেক কবিতার অবয়বকে আলিঙ্গন করছে।

অথচ এই যে উড়নচণ্ডী জীবন, এই যে ‘আমরাই আমাদের প্রেমিক’— এর পেছনে ছিল এক দুঃখবোধ, যা আবু হেনা মোস্তফা কামাল নির্দেশ করে বলেছিলেন: ‘চূড়ান্ত ব্যবচ্ছেদ করলে আবুল হাসানের ভেতরে মায়া ও মমতা, মানুষের জন্যে দুঃখবোধ ছাড়া আর কিছু পাওয়া যাবে না।’ সত্যিই তো, যে কবি কখনো সংসারী হননি, সেই কবিই ‘উদিত দুঃখের দেশ’-এ লিখেছেন: ‘উদিত দুঃখের দেশ, হে কবিতা হে দুধভাত তুমি ফিরে এসো!/ আমার সন্তান যেনো থাকে দুধে ভাতে’। এ এক অদ্ভুত মায়া! যে নিজে পেট ভরে ভাত খায়নি, সে-ই অনাগত সন্তানের জন্য দুধভাত চেয়ে কাঁদে। এই ব্যঞ্জনাই তাকে কালের অধিক সময় পেরোনো এক কবি করে তোলে— তিনি নিছক ব্যক্তিগত বোধের কবি নন, তিনি সমষ্টির আর্তিকে নিজের করে নেওয়া এক বিষাদ-সন্ন্যাসী।

হাসানের মৃত্যু ১৯৭৫ সালের ২৬ নভেম্বর, মাত্র ২৯ বছর বয়সে। হৃদরোগে। মৃত্যুর আগে অসুস্থ হলে বাংলাদেশ সরকার উদ্যোগী হয়ে তাকে পূর্ব জার্মানি ও চেকস্লোভাকিয়ায় পাঠিয়েছিল চিকিৎসার জন্য। তিনিই প্রথম বাঙালি কবি যার জন্য রাষ্ট্র এতটা এগিয়ে এসেছিল। কিন্তু বাঁচানো যায়নি। ফখরুল আলম বলেছেন, ‘একজন পরিণত কবি হয়ে ওঠার পূর্বেই তিনি মারা গিয়েছেন।... প্রকৃতির নিয়মের কারণে বাঙালিও আবুল হাসান থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’ আর কবি ইরাজ আহমেদ লিখেছেন, ‘তরুণ লোহা পুড়িয়ে তৈরি এক কাস্তের মতো আবুল হাসান বাংলা কবিতার ধান কেটে ঘরে তুলতে চেয়েছিলেন।... চিরকালের আগুন একটি মোমবাতির দু’দিকে জ্বালিয়ে দেখিয়েছেন কতটা উজ্জ্বল হয়ে পুড়ে যাওয়া যায়।’ এই ‘উজ্জ্বল হয়ে পুড়ে যাওয়া’ই তো তার চিরকালিনতার সারকথা। মৃত্যু তাকে মহিমান্বিত করেছে সন্দেহ নেই, কিন্তু সেই মহিমা ফাঁপা নয়— তা তার কবিতার ভেতর থেকে বিচ্ছুরিত।

আবুল হাসান, কোনো এক ফাঁকে
শুরুতেই উদ্ধৃত অভিধান কবিতার এই হারানো অভিধান কে? আমার সেই, তুই? নাকি আবুল হাসান? নাকি দুজনই। ‘তুই’ ছিলি আমার ব্যক্তিগত অভিধান— বানান শেখাতি, জীবন শেখাতি। আর আবুল হাসান? তিনি হয়ে উঠেছিলেন আমার প্রজন্মের অনেকেরই এক যৌথ অভিধান— যেখানে বানানের ভুলও কবিতা হয়ে ওঠে, যেখানে ‘ছিল’ আর ‘ছিলো’র তফাত নিছক বানানের নয়, জীবনের দিকে তাকানোর।

তুই বলতি, ‘আহা! আবুল হাসান!’ আর আমি বলতাম, ‘আহারে!’ তুই রাগ করতি। কিন্তু এখন বুঝি, এই ‘আহারে’ই তো একমাত্র উচ্চারণ, যা হাসানের জন্য যথার্থ। আহা রে! আহা রে আবুল হাসান! তোর মতো বন্ধু কি আর কেউ হবে? নির্মলেন্দু গ‍ুণের মতো?

কারণ হাসান যেমন বলতেন, ‘একসময় আমরাই আমাদের প্রেমিক ছিলাম’— এ কথা একবারই সত্যি হয়, আর যার জন্য সত্যি হয় সে-ই প্রকৃত সৌভাগ্যবান। হাসান সৌভাগ্যবান ছিল, কারণ তার ছিল গ‍ুণ। আর আমি সৌভাগ্যবান, কারণ ছিলি তুই। আর পাঠক? পাঠক সৌভাগ্যবান, কারণ এখনো তার হাতে হাসানের কবিতা আছে, যেখানে ‘অপরূপ বাগান’-এর মতো করে বলা যায়: ‘চলে গেলে— তবু কিছু থাকবে আমার: আমি রেখে যাবো/ আমার একলা ছায়া, হারানো চিবুক, চোখ, আমার নিয়তি।’

হাসানের সেই নিয়তিই আমাদের পাথেয়। যে পাথর ‘কেবলি লাবণ্য ধরে, উজ্জ্বলতা ধরে আর্দ্র, মায়াবী করুণ’— সে পাথর আজও অম্লান। পাথরের নাম, আবুল হাসান।

কবি আবুল হাসানবাংলা কবিতাশিমুল সালাহ্উদ্দিন
    শেয়ার করুন:
    advertisement
    advertisement
    আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইসরায়েলের দখলচেষ্টার আশঙ্কা

    আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইসরায়েলের দখলচেষ্টার আশঙ্কা

    ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০০:১১

    কক্সবাজারে পাহাড় কাটার মামলার প্রধান আসামি আটক

    কক্সবাজারে পাহাড় কাটার মামলার প্রধান আসামি আটক

    ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০০:২৫

    ‘লগান’ ও ‘গজনি’র সেই প্রদীপ রাওয়াত মারা গেছেন

    ‘লগান’ ও ‘গজনি’র সেই প্রদীপ রাওয়াত মারা গেছেন

    ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০০:৪৫

    ‘শিবির শক্তির মহড়া দেখাতে গিয়ে পরাস্ত হয়ে মায়াকান্না করছে’

    ‘শিবির শক্তির মহড়া দেখাতে গিয়ে পরাস্ত হয়ে মায়াকান্না করছে’

    ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৭

    ঢামেকে ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ, অবশেষে পুলিশ হেফাজতে শান্তাসহ ৬ নেতা

    ঢামেকে ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ, অবশেষে পুলিশ হেফাজতে শান্তাসহ ৬ নেতা

    ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৩

    কলারোয়ায় মোটরসাইকেলে লুকানো ৮৬ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার

    কলারোয়ায় মোটরসাইকেলে লুকানো ৮৬ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার

    ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪২

    ঢামেকের জরুরি বিভাগে দুই পক্ষের উত্তেজনা, ব্যাহত চিকিৎসাসেবা

    ঢামেকের জরুরি বিভাগে দুই পক্ষের উত্তেজনা, ব্যাহত চিকিৎসাসেবা

    ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:০২

    অসহায়দের জন্য সেবিনের আশ্রয়

    অসহায়দের জন্য সেবিনের আশ্রয়

    ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৪

    ‘আল্লায় দেখবে’ বলে বের হওয়া আশরাফুল আর ফেরেননি

    ‘আল্লায় দেখবে’ বলে বের হওয়া আশরাফুল আর ফেরেননি

    ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৮

    শুধু পরিচালকই নন

    শুধু পরিচালকই নন

    ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৭

    মিনিমালিস্ট গ্যাজেটের উত্থান

    মিনিমালিস্ট গ্যাজেটের উত্থান

    ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৩

    ওলটপালটের দুই বছর

    ওলটপালটের দুই বছর

    ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৮

    মর্নিং স্টার

    মর্নিং স্টার

    ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৩

    জামায়াতকে ‘কাগুজে বাঘ’ আখ্যা মান্নার, বিএনপিকে সংযমের আহ্বান

    জামায়াতকে ‘কাগুজে বাঘ’ আখ্যা মান্নার, বিএনপিকে সংযমের আহ্বান

    ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৮

    পোশাক খাতে দুই বছরে কমেছে ৪০ হাজার কর্মসংস্থান

    পোশাক খাতে দুই বছরে কমেছে ৪০ হাজার কর্মসংস্থান

    ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২২

    advertiseadvertise