প্রিয় ৫ বই
- লাস্ট ফর লাইফ— আরভিং স্টোন
- আ পোয়েট অ্যাপার্ট— ক্লিন্টন বি সিলি
- জীবন রহস্য— শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
- কালো বরফ— মাহমুদুল হক
- রুমি: দ্য ফায়ার অব লাভ— নাহাল তাজাদুদ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বই পড়ার নেশা আমার ছোটবেলার। শুরুতে অ্যাডভেঞ্চারের বই আমাকে টানত। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে পাঠরুচি, প্রসারিত হয়েছে পাঠের জগৎ। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স আর মাস্টার্স পড়তে গিয়ে তার গভীরে প্রবেশ করেছি। লেখালেখি শুরু করার পর নিজের দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের নানা ভাষার সাহিত্যের প্রতি তৈরি হয়েছে এক দুর্নিবার আকর্ষণ। ফলে প্রিয় বইয়ের সংখ্যা আজ বিপুল। সেখান থেকে মাত্র পাঁচটি বেছে সেগুলো নিয়ে কিছু বলা কঠিন। তবু অনেক বই আছে, যেগুলো দুয়েকবার পড়ে তৃপ্ত পাওয়া যায় না, বারবার পড়ার ইচ্ছে জাগে।
আরভিং স্টোনের ‘লাস্ট ফর লাইফ’ তেমনই একটি বই। ১৯৭৬ সালে ভিনসেন্ট ভ্যান গগের জীবন অবলম্বনে লেখা এ উপন্যাসটি পড়ে আমি গভীরভাবে আলোড়িত ও বিষণ্ন হয়েছিলাম। এত বড় একজন শিল্পী কেন এত দারিদ্র্য, অবহেলা ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে জীবন কাটালেন, জীবদ্দশায় কেন তার মাত্র একটি ছবি বিক্রি হলো— এ প্রশ্নগুলো দীর্ঘদিন আমাকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে।
ক্লিন্টন বুথ সিলির ‘অ্যা পোয়েট অ্যাপার্ট’ আমার আরেক অনন্য পাঠ-অভিজ্ঞতা। একজন বিদেশি বাংলা শিখে জীবনানন্দ দাশ পড়ে তার জীবন ও সাহিত্য নিয়ে এমন গভীর, পাণ্ডিত্যপূর্ণ জীবনী লিখেছেন দেখে বিস্মিত হয়েছিলাম। জীবনানন্দকে নানাভাবে দেখার সিলির দৃষ্টিভঙ্গি আমাকে মুগ্ধ করেছে। এ বইয়ে সিলির একটি লাইন: Poetry can do many things, says Jibanananda, but cannot transform “men’s present condition into a better social life in the immediate future.”
শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘জীবন রহস্য’ আমার প্রিয় বইগুলোর একটি। শ্যামল আমার প্রিয় লেখকও। আত্মজীবনীর ঢঙে লেখা এ উপন্যাসে তিনি নিজের জীবন, সময় ও দেখা মানুষদেরই তার অননুকরণীয় ভাষায় রূপ দিয়েছেন। এ উপন্যাসে শ্যামল লিখেছেন: ‘সময়ের দূরত্বে সাধারণ কথাই রূপকথা হয়ে যায়। জীবনে কেউ তো বিশিষ্ট হবার জন্য গুছিয়ে ঘটনা ঘটায় না। বহতা নদীর মতই জীবনটা নাচতে নাচতে ঢেউ তুলে কালের তীর ধরে কথা— কাহিনী ছড়াতে ছড়াতে বয়ে যায়।’...
মাহমুদুল হকের ‘কালো বরফ’ আমাকে মুগ্ধ করেছিল তার ভাষার অসামান্য সৌন্দর্যে। খালেক, রেখা ও ছোট্ট টুকুকে ঘিরে সংসার থাকলেও খালেকের অন্তর্জগৎ যেন এক বিরান প্রান্তর। দেশভাগে ভিটেমাটি থেকে উৎখাত হওয়া মানুষের শিকড়হীনতার যে বেদনা এখানে ধরা পড়েছে, তা আজও আমাকে স্পর্শ করে।
আর নাহাল তাজাদুদের ‘রুমি: দ্য ফায়ার অব লাভ’ আমাকে নিয়ে যায় সম্পূর্ণ অন্য এক জগতে। রুমি ও শামস-ই-তাবরিজির বন্ধুত্ব কীভাবে আধ্যাত্মিক প্রেমে উত্তীর্ণ হয়েছিল, সেই অন্তর্জ্বালা ও আত্মসমর্পণের কাহিনি আমাকে গভীরভাবে আবিষ্ট করেছিল। বইটি পড়ে মনে হয়েছিল— কিছু প্রেম মানুষকে শুধু স্পর্শ করে না, তাকে তার নিজের সীমাকেও অতিক্রম করতে শেখায়।



