প্রিয় ৫ বই
- সহস্র এক আরব্য রজনী— অজ্ঞাত লেখক
- পদ্মানদীর মাঝি— মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
- এল আলেফ— হোর্হে লুইস বোর্হেস
- সমগ্র রচনাবলী— অক্তাবিও পাস
- কাব্যসমগ্র— জীবনানন্দ দাশ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
একেবারে সাধারণ পাঠকের কাছেও কোনো একটি বই বা একাধিক বইয়ের চিরকাল প্রিয় থাকতে পারে না, থাকেও না। বয়স আর রুচির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রিয় বই ও লেখক বদলাতে থাকে। যত পরিবর্তনই থাকুক না কেন তারপরও কিছু কিছু বই অপরিবর্তনীয়ভাবে প্রিয় থেকে গেছে— এমন বই সংখ্যাও কম নয়। কিন্তু পাঁচটা বইয়ে সীমাবদ্ধ রাখা কঠিন জেনেও বলছি: সর্বাগ্রে ‘সহস্র এক আরব্য রজনী’। এই বইটি আমি কখনোই পড়ে শেষ করতে পারিনি, কিন্তু বারবার পড়েছি অসম্পূর্ণতা নিয়েই। আর এটি এমন এক বই, যা পড়ে শেষ করা যায় না, কারণ এটি এত বেশি শাখা-প্রশাখাময় যে, কিছুদূর এগিয়ে আবারও কাহিনির পরম্পরা ধরার জন্য পাঠককে আবারও পেছনে যেতে হয়। এটি আসলে এক গোলকধাঁধার মতো।
দ্বিতীয় বইটির কথা যদি বলতে হয় তাহলে সেটি হবে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি’। এটি এমন এক উপন্যাস, যাকে মার্কেজের শতবর্ষের নিঃসঙ্গতার পাশে রেখে পড়া যায় তার অসামান্য সমান্তরালতার জন্য। হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া পরিবার যেভাবে একটি গ্রামকে বিশাল জনপদে পরিণত করে, একইভাবে হোসেন মিয়া ময়নাদ্বীপকে একটি জনপদ বা রাষ্ট্রে পরিণত করেন।
তৃতীয় বইটি আমার প্রিয়তম লেখক হোর্হে লুইস বোর্হেসের ‘এল আলেফ’। এর কোনো ব্যাখ্যা আমি দেব না, কারণ ব্যাখ্যা দিতে গেলে তা হয়ে উঠবে আরেক সহস্র এক আরব্য রজনী।
অতএব চতুর্থ বইয়ে চলে আসাই ভালো আর সেটি হবে একটি-দুটি নয়, বরং বলা ভালো অক্তাবিও পাসের যেকোনো বই। অতএব ধরে নিন, সব মিলিয়ে তার সমগ্র রচনাবলি।
প্রিয় বইয়ের ক্ষেত্রে সমগ্রকে এককভাবে ধরে নিলে তিনি হয়ে উঠবেন জীবনানন্দ দাশ। তার সম্পর্কে বলার কথা শুধু এটুকুই যে, তিনি আমাদের তার সমগ্র কবিতার মাধ্যমে যেমন দেশকে হাজির করেন, তেমনি দেশের মাধ্যমে মহাপৃথিবীকে চিনিয়ে দেন। যেমন ধরুন, রূপসীবাংলার এ দুটি পঙ্ক্তি, যা একই সঙ্গে বাংলা কিন্তু অন্তর্লীন সুরে রয়েছে পৃথিবীরই প্রেক্ষাপট: “এশিরিয়া ধুলো আজ, ব্যবিলন ছাই হয়ে গেছে” কিংবা “দূর পৃথিবীর গন্ধে ভরে ওঠে আমার এই বাঙালি মন।” ফলত, জীবনানন্দ দাশের কাব্যসমগ্রই আমার পছন্দের পঞ্চম বই।





