কণিকা
তাইওয়ান ট্রাভেলগ-এর বুকার জয়

তাইওয়ানের কথাসাহিত্যিক ইয়াং শুয়াং-জির উপন্যাস ‘তাইওয়ান ট্রাভেলগ’ এবং এর ইংরেজি অনুবাদক লিন কিং যৌথভাবে এ বছরের বুকার পুরস্কার জিতেছেন। ১৯ মে লন্ডনের টেট মডার্নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ম্যান্ডারিন চীনা ভাষা থেকে অনূদিত কোনো সাহিত্যকর্মের জন্য এটিই প্রথম এ মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। পুরস্কারের ৫০ হাজার পাউন্ড স্টার্লিং সমানভাবে ভাগ করে নেবেন লেখক ও অনুবাদক, যা অনুবাদকে সৃজনশীল শিল্প হিসেবে স্বীকৃতির ঐতিহ্যকেই বজায় রাখে। একই সঙ্গে ইয়াং শুয়াং-জি প্রথম তাইওয়ানি এবং লিন কিং প্রথম তাইওয়ানি-মার্কিন নাগরিক হিসেবে এ পুরস্কার অর্জন করলেন।
উপন্যাসটির পটভূমি ১৯৩০-এর দশকের তাইওয়ান, যখন দ্বীপটি জাপানি ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল। গল্পের কাঠামো অনেকটা পুনরাবিষ্কৃত ভ্রমণবৃত্তান্তের মতো— এক জাপানি লেখিকা দ্বীপটি ভ্রমণে গিয়ে একজন তাইওয়ানি দোভাষী নিয়োগ করেন, যিনি তাকে স্থানীয় খাদ্য-সংস্কৃতি ও জনজীবনের ভেতর দিয়ে পথ দেখান। এ দুই নারীর সম্পর্কের আড়ালে উপন্যাসটি ভালোবাসা, শ্রেণিবৈষম্য, ভাষার রাজনীতি, ক্ষমতার সম্পর্ক এবং ঔপনিবেশিকতার গভীর স্তরগুলো উন্মোচন করে। আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কারের বিচারকদের পর্যবেক্ষণ, বইটি একই সঙ্গে প্রণয়কাহিনি ও উত্তর-ঔপনিবেশিক উপন্যাস হিসেবে কাজ করে; এ দ্বৈত চরিত্রই চরিত্রগুলোর অন্তর্জীবনকে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শ্রেণিবিন্যাসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে গভীরভাবে উপলব্ধ করতে সাহায্য করে। এ জয় বিশ্বসাহিত্যের মানচিত্রে তাইওয়ানি সাহিত্য ঐতিহ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।
দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে মাসুম বায়েজীদ



