নতুন কবিতার আলো

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নিরাকার চিহ্ন
তানিম কবির
পড়ে আছে নিরাকার চিহ্নবিশেষ;
সকল কিছুর
মামুলি আলো, স্মৃতি ঘুম বাষ্পায়িত
জন্মের পাঁয়তারা হয়ে
ফিরে এসে আবার, পুনরায় চলে গিয়ে
স্বপ্নে অভিনীত দৃশ্যের বিষণ্ণতায়
মিলিয়ে যেতে থাকার মতো ক্ষীণ-হয়ে
আমি থাকি
ক্ষুদ্রেরও অতীত এই থাকা
তোমার স্বপ্নদেখা রাত্রির আয়ু নিয়ে
কখনো-বা প্রকাশিত কখনো
অপ্রকাশিত থাকে
শ্মশানে জ্বালানো চাঁদ একদিন দেখা ছিল বলে
সকল প্রতারণায় জড়িত থাকার পাপে
একবার কাঁপা ছিল বলে এ জীবন
বারবার ফিরে আসে?
স্বপ্নে, ভয়ে
তোমার আশঙ্কার উপাদান হয়ে
তোমার ব্যাখ্যাতীত বিবমিষা হয়ে
তোমার ফিরিয়ে দেয়া জাগরণে
গোলগাল বিরক্তি হয়ে
অসহ্য ফিরে আসা হয়ে?
দিবালোক, তুমি কত স্পষ্ট এখন!
প্রতিফলনেও তবু
রাখোনি আমাকে তুমি আর
হ্যালুসিনেশনে তুমি রাখোনি আমাকে তবু আর!
ঈশপের গল্প
হাসনাত শোয়েব
এই যে ক্রমশ একটা ভালো না লাগার বৃত্তে আটকে পড়ছি। একটা হলুদ মলাটের রোলটানা খাতার ভেতর একে একে শুয়ে পড়ছি; জানি না বৃষ্টি-পরবর্তী দিনগুলোতে ঈশপ কোথায় গল্প বলতে যান। একটা গল্পের ভেতর কেউ কাউকে খুন করে বসে আছে। আমি ভাবছি, স্বপ্নে কাউকে খুন করার শাস্তি কী? নিজেকেই খুন করার কী শাস্তি? এসব হিসাব করতে করতেই বিকেলগুলো তামাটে হয়ে পড়ছে। কেউ এসে কানে কানে বলে গেল, আসছে সন্ধ্যায় বৃষ্টি হবে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেয়ে আমি এই শীতেও গামবুট, ছাতা আর রেইনকোট খুঁজে বের করলাম। সারা সন্ধ্যা সতর্কতার সঙ্গে হেঁটেছি বৃষ্টি আসবে বলে। এলো না। প্রচণ্ড শীতে মানুষের ঠাট্টা আর অট্টহাসির শব্দের ভেতর একা একটা লোক হেঁটে আসছে গামবুট আর রেইনকোট পরে। মাথার ওপর ছাতাটা তখনো ঝুলে আছে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে। আমি শুধুই হাঁটছি, ঠাট্টা আর অট্টহাসির বৃষ্টির ভেতর।
আত্মা
শাফিনূর শাফিন
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে
মুখের ওপর আরেকটা
ভাঙাচোরা মুখ লাগাতো সে
চোখ হারিয়ে ফেলেছিল
কিছুদিন হলো
কান সুনসান
নাক আর কিছুতে
নাক গলাতো না
বেমালুম ভুলে গেছিলো
ঠোঁটের সেলাই
কাটার কথা।
মুখোশটা মুখে গুঁজে
নিজেকে মনে হতো
ছাড়ে পাওয়া
কোন অর্ধমানব
এভাবে ছোট হতে হতে
ছেলেটি নিহত হয়েছিল
এখন কবরস্থানের ফটকে
পালা করে পাহারা দিয়ে যাচ্ছে,
বাকি সব মরে-মিশে যাওয়া শরীর
রুহ থেকে দূরে
সালেহীন শিপ্রা
কখনো কখনো সরিয়ে রাখাই ভালো ঠোঁট,
প্রেমহীন চুমুর বিস্বাদে মুখ তেতো হতে পারে।
আলজিভে জমানো আগুন
নদীর বুকের দিকে চেয়ে আরো তপ্ত,
আরো বেশি রৌরব-লাল।
প্রতারিত হয়েছে যে প্রাণ
সে জানে প্রশ্ন ছাড়াই
কীভাবে জবাব পাওয়া যায়, আচমকা! হঠাৎ!
ভাবি,
যে বাড়ি আমার নয়, অন্য কারো
কেন তার রাস্তায় পড়ে থাকে জান!
এখানে দেহ দাঁড়িয়ে—
রুহু থেকে দূরে! নিষ্প্রাণ!
কফিশপে
নাজমুস সাকিব রহমান
গ্লোরিয়া জিন্সের টেবিলে বসে সন্ধ্যায় দেখি
হার্টব্রেক; কোলাহল থেমে আসে সুগার কিউব—
চামচের কাছে; তুমি বলো, প্রেম মূলত লাটে
সৌন্দর্য লাগে; আর ভালোবাসা যেন ক্যাপুচিনো;
ব্যালান্সড, তুমিও তা-ই চাও। নিমরাজি আমি।
তাকাই রাতে। তুমি তারা হয়ে চলে যাও অন্য
আকাশে। এসপ্রেসো নিয়ে আসে ওয়েটার।
সরিয়ে নেয় আগের কাপ। তবু তোমার স্মৃতি থাকে।
এসপ্রেসোতে গলা ভিজিয়ে টের পাই—
চাই তোমাকে। এভাবেই। আরও তীব্র, আরও
গাঢ় করে।




