তামিম ইয়ামীনের কবিতা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নেক্রোফিলিক
তোমাকে দেখছি ডোমঘর থেকে একা
তোমাকে দেখছি পাতালের মৌমাছি
রক্তে মাংসে গড়িয়ে পড়ছে ক্লেদ
ঊরুসঙ্গমে এতোটুকু বেঁচে আছি।
কাল সারারাত রেললাইনের পাশে
একা একঘরে লুকিয়ে নেমেছে চাঁদ
গোরস্তানের ঘ্রাণ ভরা মৌতাতে
দেহভূমি তার হয়েছিল উৎখাত
আমার কী গেছে কী-ইবা হয়েছে তাতে
মদের নেশায় সারা জাঁহা মিসমার
ছিন্নচন্ডা দেহভরা কংকালে
জমেছে শ্যাওলা সন্নিপাতের হাড়।
তাতে শোরগোল ঠোকাঠুকি লেগে গেলে
আড়াল করার উপায়হীনের মতো
আমরা কাটছি বরফের জাঁতাকলে
পিষ্ট দেহের যতটুকু অক্ষত
যতটুকু তাতে লেগে আছে কোমলতা
মৃত্যুও যার দেয় নাই উপশম
সে দেহে জোছনা ঠিকরে বেরুতে দেখে
ডোমিনীকে কাছে টেনে নিল একা ডোম
আত্মজা
স্মার্টফোনে আনমনে স্ক্রলিংয়ের মতো
অজান্তেই বেড়ে যাচ্ছো তুমি
উচ্চতা বাড়ছে ক্রমে। যদিও তা
মাটি থেকে দূরবর্তী নয়, যাস্ট
আকাশের আরও কাছাকাছি এনেছে তোমাকে
সুতীব্র নিঃশ্বাসে সবটুকু শীতলতা
শুষে নাও। হিমায়িত হার্ট, আঙুলের ইশারায়
আচ্ছাদিত করে দাও দূরের অরোরা
তুষারের নিজস্ব মেকানিজমে।
অতঃপর
অধিবিদ্যাধীন সকল আড়াল ফেলে
বিবসন হও আপেলের মতো
যেভাবে লিলিথ
ভালোবেসেছিল স্বীয় নগ্নতাকে
এবার এদিকে আসো
শাপান্তে অনবনত আদিপাপ হয়ে
অচিন বৃক্ষের মতো জড়াও আমাকে।
মেঘনা
যেদিকে তাকাই শুধু ঢেউ আর ঢেউ
কার খাতা? পাটাতনে মাথা ঝুঁকে সেউ
হয়ে কেউ লিখতেছে ভাটিয়ালি গান।
তাতে এত টান লাগে
স্রোতের সমান গতিবেগে নৌকা আগায়।
ভেজা ভেজা বেশরম এই আবহাওয়া
আমার তো এইটুকু মোটে দাবিদাওয়া
দরিয়া দেখেই করে ডুবুডুবু মন।
উড়ে যাওয়া গাংচিল, সেও কি এমন?
মেঘনাকে নদী ভেবে তারও হয় ভুল!
অথচ আমার সাথে তোমার কবুল
জানে গোটা লোকে তাই থাকে দূরে দূরে
আমি একা, ভাসমান মেঘ ভবঘুরে
থিতু হতে পারছি না, নদীটার ঠাঁই
তল আছে না কি নাই, তাও জানা নাই
দূরে দেখা তটরেখা, টু বি পেনসিলে—
কে যেন রাখছে টুকে—
ঝুঁকে আসা নিলে
শুয়ে আছে জলচর, দ্বীপ যার নাম
এটুকু বলেই তবে আজ থামলাম।
আর তুমি শুধায়ো না তার পরে কী
যেদিকে তাকাই শুধু মেঘনা দেখি।
এই ঘনঘোরে
কুঠিবাড়ি থেকে রবিবাবু আর কতোটুকু পাবে টের!
তারচে’ এমন দিনে পড়া যায় গালিবের কোনো শের
আহারে জীবন এতটাই বাজখাই!
কী দেখো মির্জা, দিল্লীতে বসে যেদেশে বৃষ্টি নাই
নাই শ্যামলিমা মেঘের কালিমা
অবেলায় অবসরে
বাহাদুর শাহও কী কী যেন সব তালেচক্করে প’ড়ে
আন্দামানেই শেষমেশ গেলো টেঁসে।
থাকগে সেসব
অতো দূরদেশ, কে আর কতোটা গোনে!
তার চেয়ে দেখো ভারতের এই কোণে
ভাসাতে নূহের জাহাজ এসেছে প্লাবন বাংলাদেশে।
বহুবিরতির শেষে—
তৃষিত যোনীর মুখে রেতপাত যতটাই কামনীয়
এদেশ ঊষর মরু নয় তাই
আহা এ বৃষ্টি, তেমন সুখের নহবত নয় প্রিয়
ফুলে ফেঁপে ওঠে হাওরের তলপেট
বাঁধ ভেঙে যায়— আকালের বানে ভাসে বোরোক্ষেত
তবু তোমাদের দেহ
উছলিয়ে দেয় কালো আসমান চিরে ঠাকুরের স্নেহ
হয়তো তখন কুশিয়ারা আর সুরমার দুই তীরে
মেদুরে মেঘের মন,
মনের মাটিকে চির অগ্রাহ্য ক’রে
অযথা বৃষ্টি পড়ে
বাজে পোড়া তাল গাছটার নিচে কার যেন কুড়ে ঘরে!
ফুলের মূল্য
বীজের ভেতর কী জানি এক দুঃখ নড়চড়ে
বিধায় এমন রূদ্ধশ্বাসে ডালিম ফেটে পড়ে?
তার থেকে দুই দানার আবেগ সামলে রাখি যদি
সেও বুঝি এক গাছ হবে যা হয়নি অদ্যাবধি
সেই গাছেতে ডাকবে এবং পাকবে, পাখি ফেলে
রেখেছে যে ফলটি তাহার সর্ব অঙ্গ মেলে।
ফলের শরীর ফুলের শরীর তোমরা যমজ শুনি
আমার মধু ছলকে ওঠে শিকড় থেকে খুনি
কী যেন এক রস শুষে সে করলো মধু পানি
আমি কেবল বইতে থাকি ওসব কি আর জানি
দোহাই নিয়ে অঙ্গ থেকে বিষমাখা এই ক্ষত
ফুলের মতো ফুটতে থাকো দ্বিধায় ইতস্তত।





