নির্বাচিত কবিতা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শরৎ চৌধুরী
বেহেস্ত বেসম্ভব
শীতকালীন শুক্রাণুরা ব্যঙাচির মত বিদ্রোহ করেছে
বহুকাল পর হৃৎপিন্ডে চাপ দিচ্ছে অশেষ
ক্যালিগ্রাফি চাঁদ হাসছেন
নিওলিবারেল গৌতমের মত
আমাদের পুরুষেরা প্রাচীণ দাঁড়কাকের দিকে তাকিয়ে
যেনবা কাকতাড়ুয়া হবার খায়েশ এবার একটু বিশ্রাম নেবে
“জেসাস, জেসাস, বেহেস্তে যাবো”
আগে পলিটিক্যালি কারেক্ট হ ব্যাটা-
বলে সুইমিং পুলে ঝাঁপ দিল নারীবাদী চাঁদ
আর পুরো রিসোর্ট ঘেরাও করল জলপাই
সবার কানের লতিতে ভয়
মব আসছে।
রিমঝিম আহমেদ
প্রিয় ফুলের প্রতি
কোথায় বা যেতে পারি আজ? সন্ধ্যা ঘন হয়ে আসে
চরাচর ভেঙে পড়ে, দুর্যোগে, ঝড়ের পূর্বাভাসে
যাব? ভয় জাগে, ঘন হয় মনের ভেতর মন
বারান্দায় গিয়ে বসি। তাও শুনি বাতাসে প্লাবন
হাড়ে ও রক্তে অস্থিতি— নিরাশ্রয়, নিরাময়হীন
নিজেকে বিকিয়ে রোজ শোধ করি জন্মপিতৃঋণ
একখণ্ড মেঘ এসে জানালায় ডাক দিয়ে বলে
মৃত্যুফণা জেগে আছে, উঁচু-নিচু বিষাক্ত ছোবলে
আত্মবিলাপেও কাজ নেই। অন্ধ-বধির ঈশ্বর
পথেই উপুড় পথ, রাত এসে চেপে ধরে ধড়
দূরত্বে দাঁড়িয়ে দেখি প্রিয় ফুল, ঝরবেই, প্রস্তুত
আশ্রয় কি গৃহ চায়? চেনাপথে পাথর-বিরোধ!
যেতে চাই। অথৈ ঢেউ— জলেরও একনিষ্ঠ হাঁ
নিজেকে পতঙ্গ করে, দ’লে মারি— আয়ুর পিপাসা...
সৌমেন্দ্র গোস্বামী
প্রথম যৌবন
অসংযত হয়ে ফলে গেছে ঘরে থাকা হতাশার ফল মেরুণ অরুণ
অভীপ্সার অভিমুখে শপথের বাণী গাণ্ডিবের শিলা হয়ে আছে থেমে;
মধুরাতে ভাঙা থান, কে যেন কী লেখে— কোন নিরাশ্রয়ী শেয়ালের দল,
রাজদণ্ডে কাপে বুক উটপাখি শিস দেয় থরথর পাথরের ফাঁকে
জলজ জলধি ভেঙে অভিশাপে নেমে আসে আকাশের সোনার কিরণ
কৌশল শিখিনি তাই অবেলায় মুদ্রাদোষে ভেসে যায় তাসের তোরণ।



