ঢাকা মহানগর উত্তর
কমিটি গঠনে তাড়াহুড়ো করবে না বিএনপি
- ‘ক্লিন ইমেজের’ প্রার্থী খুঁজছে হাইকমান্ড
- উত্তরের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব আনার দাবি

ছবি: আগামীর সময়
শিগগিরই হচ্ছে না ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি। তবে কমিটিতে জায়গা পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন পদপ্রত্যাশীরা। এ দৌড়ে প্রায় এক ডজন প্রার্থী আছেন, যারা ‘সুপার-টু’তে আসতে চান। অবশ্য বিএনপির হাইকমান্ড ‘ক্লিন ইমেজের’ প্রার্থী খুঁজছেন। কারণ, যে অভিযোগে কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে, একই ধরনের অভিযোগ ভবিষ্যতে বয়ে বেড়াতে চায় না দল। এ জন্য বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব চিন্তা করছেন— প্রয়োজনে সময় নেওয়া হবে, কিন্তু কমিটি গঠনে কোনো তাড়াহুড়ো করা হবে না।
বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতার ভাষ্য, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ, সংগঠনের জন্য ত্যাগ, ব্যক্তিগত স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। এর মধ্যে ক্লিন ইমেজের বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে।
চব্বিশের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পরপরই ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ আসতে থাকে। মহানগর উত্তরে এখনো অনেক নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, গার্মেন্টস দখল, জমি দখলসহ নানান ধরনের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কথা না বললেও কেন্দ্রের কাছে এ ধরনের তথ্য আছে। মাঠপর্যায়ে ঘুরেও পাওয়া গেছে এ ধরনের অনেক অভিযোগের সত্যতা। এই অবস্থায় সম্প্রতি মহানগর উত্তরে পরপর দুটি ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন বিএনপির হাইকমান্ড। যার একটি হচ্ছে মিরপুর-১ এলাকায় মা ও শিশুস্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে’ হামলা ও দখলচেষ্টা; অন্যটি মিরপুর সেনানিবাসের কাছে জমি দখলের ঘটনা। ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যে মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিলুপ্ত করা হয়, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল ও ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও।
ঢাকা রাজধানী হওয়ায় কৌশলগত কারণে ‘ঢাকা মহানগর বিএনপি’ দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইউনিট। সে কারণে দীর্ঘদিনের জন্য এই ইউনিট নেতৃত্বশূন্য রাখতে চায় না বিএনপি। একই সঙ্গে গুরুত্ব বিবেচনায় নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রেও চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। সংগঠন পুনর্গঠনের সঙ্গে যুক্ত দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন কমিটিতে নতুন নেতৃত্ব আনা হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিলুপ্ত কমিটিতে যারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন, তাদের নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা কম। যদিও তাদের অনেকেই নতুন কমিটিতে আসতে চাচ্ছেন। একই সঙ্গে তারা হাইকমান্ডকে বোঝাতে চাচ্ছেন— যেসব অভিযোগ আসছে, সেগুলো সত্য নয়। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতাকর্মীদের অনেকেও নতুন কমিটিতে তাদের শীর্ষ নেতৃত্বে চান। তাদের চাওয়া, মহানগর উত্তর বিএনপির নেতাদের মধ্য থেকেই নতুন কমিটি গঠিত হোক।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর আমিনুল হক ও মোস্তফা জামানের নেতৃত্বাধীন ৫১ সদস্যের ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। নতুন কমিটিতে তিনি শীর্ষ নেতৃত্বে থাকতে চান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাংগঠনিক দক্ষতা, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগ এবং কর্মিবান্ধব হওয়ায় দলের মহানগর উত্তরের অধিকাংশ নেতাকর্মীও তাকে শীর্ষ পদে পুনরায় চান। বিলুপ্ত কমিটির সদস্য সচিব মোস্তফা জামানও হতে চান নতুন কমিটির সভাপতি। পাশাপাশি নতুন সভাপতি হিসেবে বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, এম কফিল উদ্দিন আহমেদ, মো. আফাজ উদ্দিন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য ও বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের নামও আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম এ রাজ্জাক এবং গাজী রেজাউনুল হোসেন রিয়াজ নতুন কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী। অন্যদিকে, বিলুপ্ত কমিটির সিনিয়র সদস্য আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার আসতে চান নতুন কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বে।
জানতে চাইলে কফিল উদ্দিন আহমেদ আগামীর সময়কে বললেন, ‘দল যদি আমাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয়, তাহলে অতীতের অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিকে আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও সুসংগঠিত করে গড়ে তুলতে কাজ করে যাব।’
আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার বললেন, ‘ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতাকর্মীরা মহানগরের ভেতর থেকেই নেতৃত্ব চায়। সেখানে আমি একজন নেতৃত্বপ্রত্যাশী। দল যদি আমাকে দায়িত্ব দেয়, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব।’
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি আগামীর সময়কে বলেছেন, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন কমিটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এজন্য কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে এটাও ঠিক, সাংগঠনিক কার্যক্রমও তো চালাতে হবে। এ বিষয়টিও দলের চেয়ারম্যানের বিবেচনায় রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মধ্য থেকেই নতুন কমিটি গঠন করা হবে।




