রবীন্দ্রনাথের ‘আমার সোনার বাংলা’ মুসলমানদের বিরুদ্ধে, দাবি হেফাজত নেতার

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী
প্রতিকৃতিতে কালি মাখানো নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কঠোর সমালোচনা করে বিবৃতি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী। তিনি এ বিবৃতিকে হেফাজতের সাংগঠনিক অবস্থান বলে জানিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিবৃতি আসার পর আগামীর সময়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় আজিজুল হক ইসলামাবাদীর সঙ্গে।
তিনি বললেন, ‘আমি হেফাজতে ইসলামের মুখপাত্র। সাংগঠনিক জিম্মাদারি হেফাজেতে ইসলাম আমাকে দিয়েছে। আমার বিবৃতিই হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক অবস্থান। এখানে আমার ব্যক্তিগত কিছু নেই।’
বিবৃতিতে আজিজুল হক ইসলামাবাদী দাবি করেছেন, বঙ্গভঙ্গ তথা পূর্ববাংলার অবহেলিত মুসলমানদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টির বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথ ‘আমার সোনার বাংলা’ গান লিখেছিলেন। যারা কালি মেখেছেন তারা শোষক বর্ণহিন্দু জমিদার রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান থেকে প্রতিবাদস্বরূপ কাজটি করেছেন।
এ প্রতিবাদের সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার কোনো সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে তিনি বললেন, ‘ভারতীয় বাঙালি কবি রবীন্দ্রনাথ। তিনি কোনো ধর্মের অবতার বা দেবতা নন। তাই তার সমালোচনা মানেই সাম্প্রদায়িকতা নয়। আধিপত্যবাদের ক্রীড়নকরা রবীন্দ্রনাথের সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় ধর্মবিদ্বেষের আলাপ নিয়ে আসেন। বাংলাদেশের মুসলমানদের ওপর হিন্দুত্ববাদী কালচারাল হেজিমনি ধরে রাখতে তারা রবীন্দ্রবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সেক্যুলার বাঙালি জাতিবাদী কালচার ও শিল্পসাহিত্যের মুখোশে তারা মূলত ইসলামঘৃণা ছড়ান।’
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ১৭ বছর ধরে রবীন্দ্রবাদীদের ছায়া দিয়েছিল মন্তব্য করে ইসলামাবাদী বললেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মুজিববাদী স্বৈরাচারের পতন ঘটলে কালচারাল ফ্যাসিস্ট রবীন্দ্র পূজারীরা সংকটে পড়ে যায়। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে তারা এখনো সাবোটাজ করে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে বাংলাদেশের আইকনদের চেয়েও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আধিপত্যবাদের আইকনদের গ্রাফিতি এঁকে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার ষড়যন্ত্র হয়েছে।’
‘স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা আধিপত্যবাদের হাতিয়ার জমিদার রবীন্দ্রনাথের প্রজা নই।’- এমন মন্তব্যও করলেন আজিজুল হক ইসলামাবাদী।




