দিনাজপুরে ১২৮২ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, থাকছে কঠোর নিরাপত্তা

ছবি: আগামীর সময়
হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার পর্দা উঠছে আগামীকাল শুক্রবার। এদিন মহাষষ্ঠীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবী দুর্গার বোধন ও পূজা-অর্চনা। এবছর দিনাজপুরে জেলায় ১২৮২ মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে পূজা ঘিরে দিনাজপুরে মোতায়েন করা হয়েছে ১০ প্লাটুন বিজিবি, থাকছে ৮,৩২০ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য। পাশাপাশি তৎপর থাকবে পুলিশ।
দিনাজপুর জেলা পুলিশ ও পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১৩ উপজেলার ১২৮২টি মণ্ডপের মধ্যে সদর উপজেলায় ১৬৭টি, চিরিরবন্দরে ১৫৭টি, খানসামায় ১৩৪টি, বীরগঞ্জে ১৬৩টি, বোচাগঞ্জে ৬৬টি, কাহারোলে ১১২টি, বিরলে ৯৭টি, পার্বতীপুরে ১৫৪টি, ফুলবাড়ীতে ৬১টি, বিরামপুরে ৪০টি, নবাবগঞ্জে ৭০টি, হাকিমপুরে ২২টি ও ঘোড়াঘাট উপজেলায় ৩৯টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
দিনাজপুর জেলা সার্বজনীন দুর্গা পূজা সমন্বয় কমিটির সভাপতি পরিমল চক্রবর্তী তপন জানান, জেলায় এবার ১ হাজার ২৮২টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। প্রত্যেকটি পূজামণ্ডপে কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। উভয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূজা উৎসব শান্তিপূর্ণ ও ত্রুটিমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কমিটিগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ১২৮২টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। দুর্গাপূজা উৎসবে নিরাপত্তার স্বার্থে মণ্ডপগুলোকে তিন স্তরে ভাগ করা হয়েছে। ১২৮২টির মধ্যে ৩৬৮টি পূজামণ্ডপকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপ হিসেবে চিহিৃত করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৬৯টি মণ্ডপ গুরুত্বপূর্ণ ও ৫৪৫টি মণ্ডপ সাধারণ হিসেবে তালিকাভূক্ত করা হয়েছে।
সূত্রটি জানায়, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা সফলভাবে অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে। অধিক গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে অস্ত্রধারী পুলিশ ও আনসার সদস্য এবং লাঠিধারী পুরুষ মহিলা সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া মন্দির কমিটির দায়িত্বে স্বেচ্ছাসেবকগণ আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে সহযোগী হিসেবে মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে একইভাবে পুলিশ ও আনসার সদস্যগণ এবং মণ্ডপ কমিটির স্বেচ্ছাসেবকগণ অধিক গুরুত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। সাধারণ পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে।
এ ছাড়া পূজা চলাকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ, আনসার টহল ব্যবস্থা নিয়োজিত থাকবেন। কোথাও কোনোমণ্ডপে দুস্কৃতকারী আটক হলে তাৎক্ষণিকভাবে তার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডিত করা হবে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেন।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জানে আলম জানান, পূজা চলাকালীন সময়ে মনিটরিং কক্ষ স্থাপনা ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। মনিটরিং কক্ষের সঙ্গে জেলার সব পূজামণ্ডপের মোবাইল ফোনে সংযোগ থাকবে। যে কোনও ধরনের ঘটনার উদ্ভব হলে তাৎক্ষণিক মনিটরিং কক্ষে অবহিত করলে প্রশাসনের ঝটিকা টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলার সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার শংকরপুর ইউনিয়নের মারগাও ও পাসপুর এলাকার দুর্গা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন বিজিবি ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ উজ জামান।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বী জনগণ যেন নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সেটাই বিজিবির মূল লক্ষ্য।




