একটু ঝাল, অনেক উপকার

সংগৃহীত ছবি
ঝাল খাবার নিয়ে আমাদের একেকজনের একেক মত। কেউ এক টুকরো কাঁচা মরিচ ছাড়া ভাতই খেতে পারেন না, আবার কেউ ঝালের নাম শুনলেই ঘামতে শুরু করেন। বিজ্ঞান আসলে কী বলে? চলুন সহজভাবে জেনে নিই।
ঝাল লাগলে আসলে কী হয়?
মরিচে থাকে ক্যাপসাইসিন নামক একটি উপাদান। এটি যখন আমাদের জিভের সংস্পর্শে আসে, তখন মস্তিষ্কে এমন সংকেত পাঠায় যেন জিভে আগুন লেগেছে বা গরম কিছু লেগেছে। মস্তিষ্ক তখন শরীরকে ঠান্ডা করার জন্য প্রতিক্রিয়া দেখায় যেমন,
শরীর ঘামতে শুরু করে।
নাক ও চোখ দিয়ে পানি পড়ে।
রক্তসঞ্চালন বেড়ে যায়।
ঝাল খাওয়ার ৫টি দারুণ উপকারিতা
বিজ্ঞানীদের মতে, পরিমিত ঝাল খাওয়া শরীরের জন্য বেশ উপকারী হতে পারে।
দীর্ঘায়ু হওয়ার সম্ভাবনা ঃ ৫ লাখ মানুষের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ঝাল খান তাদের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কম ঝাল খাওয়া মানুষের চেয়ে প্রায় ২৫% কম হতে পারে।
হার্টের সুরক্ষা ঃ ঝাল খাবার শরীরের ভেতরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, যা হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়।
ওজন নিয়ন্ত্রণঃ ঝাল খেলে মেটাবলিজম বা হজম প্রক্রিয়া দ্রুত হয়। এছাড়া ঝাল লাগলে মানুষ সাধারণত ধীরে চিবিয়ে খায়, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে।
হজম ও পেটের স্বাস্থ্যঃ পরিমিত ঝাল হজমে সাহায্যকারী এনজাইম সক্রিয় করে এবং অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে সাহায্য করে।
মন ভালো রাখাঃ ঝাল খাওয়ার পর শরীর থেকে কিছু বিশেষ হরমোন, যেমন এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয়, যা মনে এক ধরনের স্বস্তি বা খুশির ভাব তৈরি করে।
কখন ঝাল এড়িয়ে চলবেন?
সব ভালো জিনিসেরই একটা সীমা আছে। অতিরিক্ত ঝাল খেলে কিছু সমস্যাও হতে পারে। যাদের অ্যাসিডিটি বা গ্যাসের সমস্যা আছে, তাদের অস্বস্তি বাড়তে পারে। আইবিএস বা অন্ত্রের সমস্যা থাকলে পেট ব্যথা বা জ্বালাপোড়া হতে পারে। অতিরিক্ত ঝাল পাকস্থলীতে জ্বালা তৈরি করতে পারে।
ঝাল খাওয়ার স্মার্ট টিপস
সব ঝাল খাবার কিন্তু এক নয়। স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রাখলে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন,
প্যাকেটজাত ঝাল চিপস বা সস খাওয়ার চেয়ে তরকারিতে কাঁচা মরিচ বা শুকনো মরিচ ব্যবহার করা অনেক বেশি উপকারী। আপনার ঝাল খাওয়ার অভ্যাস না থাকলে হুট করে বেশি খাবেন না। অল্প অল্প করে পরিমাণ বাড়ান। যদি ঝাল খাওয়ার পর পেটে ব্যথা বা অস্বস্তি হয়, তবে পরিমাণ কমিয়ে দিন।
ঝাল কোনো ম্যাজিক নয়, আবার ক্ষতিকর কোনো বিষও নয়। আপনি যদি নিজের সহ্যক্ষমতা অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে তাজা ঝাল খান, তবে এটি আপনার খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরকেও সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।















