নাঈম হাসানকে হেনস্তা
সর্বোচ্চ শাস্তি চায় সরকার, ওসি প্রত্যাহার

সংগৃহীত ছবি
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে পুলিশি হেনস্তার ঘটনায় প্রত্যাহার করা হয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল ইসলামকে।
শনিবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণসংযোগ) আমিনুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোলায়মনকে খুলশী থানায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আরিফুল ইসলামকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।
বিসিবির পরিচালক সিরাজুদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর আগামীর সময়কে জানান, প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামে নাঈম হাসানকে হেনস্তার ঘটনার বিষয়ে অবগত হন। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে ফোন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
জানা যায়, পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয়টি অবহিত করেন তিনি এবং নাঈম হাসানের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় খেলোয়াড়দের মধ্যে সৃষ্ট মানসিক চাপ ও উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেন তামিম ইকবাল।
নাঈম হাসানকে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনা দেশজুড়ে সৃষ্টি করেছে ব্যাপক আলোড়ন। ভুক্তভোগীর ভাষ্য, নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে নগরের লালখান বাজার মোড়ে গালিগালাজ ও মারধর করেন পুলিশ সদস্য এবং তাদের সহযোগীরা। ওই সময় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফিরছিলেন তিনি। পরে খুলশী থানায় নেওয়া হলে সেখানেও নাঈমকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে রয়েছে অভিযোগ।
ঘটনার পর সাময়িক বরখাস্ত করা হয় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ উপপরিদর্শক শফিক ও কনস্টেবল রাসেলকে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রক্রিয়াও চলছে। এ ছাড়া আটক করা হয়েছে সোহেল নামের এক তথ্যদাতাকেও। ঘটনাটি তদন্তে গঠন করা হয়েছে একটি কমিটিও।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, ‘পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তিন স্তরে বিষয়টির তদন্ত হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে এবং যাদের পরোক্ষ মদদ ছিল তাদেরও শাস্তির আওতায় আনা হবে।’


