হেক্সা মিশনের শুরুতে ব্রাজিলের ধাক্কা

মিশন হেক্সা। অর্থাৎ, ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খোঁজে ব্রাজিল। ২০০২ সালের পর আবারও সোনালি ট্রফি দেশে ফেরানোর স্বপ্ন সেলেসাওদের। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সেই অভিযানে শুরুটা প্রত্যাশা অনুযায়ী হলো না লাতিন দেশটির। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছেড়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
রবিবার ভোরে নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচটি শেষ হয়েছে ১-১ গোলের সমতায়। দুটো গোলই হয়েছে প্রথমার্ধে। ইসমাইল সাইবারির গোলে পিছিয়ে পড়া সেলেসাওদের সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
ব্রাজিল বিশ্বকাপের প্রথম দুই আসর শুরু করেছিল হার দিয়ে। সেই শেষ। এরপর থেকে প্রথম ম্যাচে হারের মুখ দেখেনি সেলেসাওরা। ১৯৩৮ সাল থেকে ফুটবল মহাযজ্ঞে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে অপরাজিত দলটি। ২০২৬ বিশ্বকাপে মরক্কোর বিপক্ষে সেই ধারা ধরে রাখল। তবে সেটা মোটেও প্রত্যাশা ছিল না তাদের। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের শুরুটা হলো হতাশায়।
সাম্প্রতিক সময়ে ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল হয়ে উঠেছে মরক্কো। গত বিশ্বকাপে খেলছে সেমিফাইনাল। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বেও দাপট আফ্রিকার দেশটি। তাই ফুটবল বিশ্লেষকদের ভবিষ্যদ্বাণী ছিল— মরক্কো ম্যাচটি সহজ হবে না ব্রাজিলের জন্য। মাঠের ফুটবলেও সেটির প্রতিফলন। শিরোপাপ্রত্যাশীদের রীতিমতো ঘাম ঝরিয়েছে আফ্রিকার দেশটি।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মরক্কো। বিপরীতে ধীরগতির ও বল পজেশন হারাতে থাকা ব্রাজিলকে কোণঠাসাই লেগেছে। প্রথম ১০ মিনিটে হলুদ জার্সিধারীদের রক্ষণ বেশ কয়েকবার কাঁপিয়ে দিয়েছে মরক্কো। ওদিকে ব্রাজিলের খেলায় খেলোয়াড়দের মধ্যে যোগাযোগের দুর্বলতা ফুটে উঠতে থাকে।
সেরকই এক পরিস্থিতিতে ব্রাজিল বল হারালে সুযোগটা লুফে নেয় মরক্কো। ম্যাচের ২১ মিনিটে ব্রাজিল মাঝমাঠে বল হারালে ব্রাহিম দিয়াস দ্রুত থ্রু পাস বাড়ান। অফসাইড ফাঁদ ভেঙে বল আয়ত্বে নিয়ে আগুয়ান ব্রাজিল কিপার আলিসনের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে আটলাস লায়নদের এগিয়ে নেন সাইবারি।
গোল হজম করা ব্রাজিলের খেলায় তবু গতি ফেরে না। মরক্কোর দাপট আরও বাড়তে থাকে। তবে অতিআত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠাই সম্ভবত কাল হয়ে দাঁড়ায় তাদের। রক্ষণে মনোযোগের ঘাটতি তৈরি হয়। সেই সুযোগটাই নিয়েছেন ভিনিসিয়ুস। ৩২ মিনিটে দেখার মতো এক গোলে ব্রাজিলকে খেলায় ফেরান রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড।
বাঁ প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে মরক্কোর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণ দক্ষতায় আড়াআড়ি শটে জাল খুঁজে নেন ভিনি। যেন রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুসকেই খুঁজে পাওয়া যায়। ব্রাজিলের জার্সিতে বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় গোল। এর আগে বিশ্বমঞ্চে নিজের প্রথম গোলটি পেয়েছিলেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে।
বিরতিতে যাওয়ার আগ মুহূর্তে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। ভাগ্য সহায় হয়নি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে লুকাস পাকেতার সাইড ভলি রুখে দিয়ে ব্যবধান বাড়াতে দেননি মরক্কো গোলকিপার বুনো।
দ্বিতীয়ার্ধে একাদশে দুই পরিবর্তন নিয়ে মাঠে ফেরে ব্রাজিল। রজার ইবানেজের জায়গায় দানিলো এবং কাসেমিরোর জায়গায় ফাবিনিওকে নামান আনচেলত্তি। ইবানেজ ও কাসেমিরো প্রথমার্ধে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন। সম্ভাব্য লাল কার্ডের ঝুঁকি এড়াতেই ইতালিয়ান কোচের এ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত।
তাতে অবশ্য ব্রাজিলের খেলায় খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। ছন্দহীন ফুটবলে হতাশা বাড়িয়েছে সমর্থকদের। বিশেষ করে, মাঝমাঠ ছিল অগোছালো। মাঝেমধ্যে আক্রমণে উঠলেও ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় ভুগেছে। রাফিনিয়া কয়েকবার বক্সের ঢুকলেও তেমন একটা সুবিধা করতে পারেননি। একবার গোলের সামনে থেকেও বল পায়ে না লাগাতে পারায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নষ্ট হয়।
স্কোরশিটে নাম তোলা ভিনিকেও দ্বিতীয়ার্ধে সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে হতাশার ড্রতে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল সেলেসাওরা।


