সিলিন্ডারে শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে চায়ের কাপেও

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
হবিগঞ্জ শহরের টাউন হল রোডের ছোট্ট চায়ের দোকানে সকালটা শুরু হয় কেটলির ধোঁয়া আর ক্রেতাদের আড্ডায়। কিন্তু চলতি অর্থবছরের বাজেটে এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণার পর সেই পরিচিত পরিবেশে যোগ হয়েছে নতুন উদ্বেগ। কারণ, রান্না কিংবা শিল্প-কারখানার মতোই চায়ের কাপও এখন নির্ভর করছে এলপিজির দামের ওপর।
দেড়যুগ ধরে চা বিক্রি করছেন নান্টু দাস। একসময় মিলের লাকড়ি ব্যবহার করলেও গত দুই বছর ধরে তিনি এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল। গত শুক্রবার বৃষ্টির কারণে বন্ধ ছিল দোকান। গতকাল শনিবার সকালে রোদের দেখা মিলতেই দোকান খুলে বসেন তিনি। কিন্তু চায়ের কাপে চুমুকের ফাঁকে ফাঁকে তার চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু ছিল একটাই— গ্যাসের দাম আরও বাড়বে কি না।
নান্টু জানিয়েছেন, সপ্তাহে দুদিন ছুটি বাদে পাঁচ দিন দোকান চালান তিনি। ভালো দিনে বিক্রি হয় প্রায় ৩০০ কাপ চা। সব খরচ বাদ দিয়ে দুধ চায়ে দুই টাকা এবং রঙ চায়ে তিন টাকা লাভ। গড়ে দৈনিক আয় প্রায় হাজার টাকা। এর মধ্যে সহযোগী ও ভগ্নিপতি সুদীপ গোপকে দিতে হয় ৫০০ টাকা। বাকি অর্থ দিয়েই চলে চার সদস্যের সংসার।
হবিগঞ্জ শহরের নোয়াহাটি এলাকায় বাস নান্টুর। এক ছেলে ফ্রিজ মেরামতের কাজ শিখছে, আর মেয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। স্ত্রীসহ পরিবারের চার সদস্যের ভরণপোষণ, সন্তানের পড়াশোনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান খরচ সামলে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে এলপিজির সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি তাকে নতুন করে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
তিনি বললেন, ‘এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি দাম ১ হাজার ৮৮৫ টাকা; কিন্তু আমরা কিনতে বাধ্য হচ্ছি ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায়। এখন যদি বাজেটের কারণে আরও দাম বাড়ে, তাহলে চা বিক্রি করে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।’
বাজেট প্রসঙ্গ উঠতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন নান্টু। তার ভাষায়, ‘সারা বছরই কোনো না কোনোভাবে গ্যাসের দাম বাড়ে। এখন আবার বাজেটেও বাড়ল। গরিব মানুষের কথা কেউ ভাবে না। সরকার বদলায়, দল বদলায়; কিন্তু পরিবর্তন হয় না আমাদের অবস্থার।’
শুধু নান্টু নন, একই উদ্বেগে রয়েছেন তার সহযোগী সুদীপ গোপও। তাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয় সীমিত; কিন্তু প্রতিনিয়ত দীর্ঘ হচ্ছে ব্যয়ের তালিকা। ফলে উৎপাদন খরচ বাড়লে শেষ পর্যন্ত তা প্রতিফলিত হয় পণ্যের দামেই।
এলপিজির বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে। তারা জানিয়েছেন, মোংলা বন্দর থেকেই ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৮৮৫ টাকায়। পরিবহন ব্যয় যুক্ত হলে পাইকারি পর্যায়ে দাম দাঁড়ায় অন্তত ১ হাজার ৯৮৫ টাকা।


