অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সংস্কৃতির বিকাশও জরুরি : অর্থমন্ত্রী
- বেঙ্গল শিল্পালয়ে শুরু ‘দ্য লং প্রেজেন্ট—বিস্তৃত বর্তমান’ চিত্রপ্রদর্শনী

ছবি: আগামীর সময়
শুধু অর্থনৈতিক উন্নতিই কোনো জাতির একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না, এর পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতির সমান উন্নয়নও অপরিহার্য। এমন মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শনিবার ধানমণ্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে ১৫ জন শিল্পীর শিল্পকর্ম নিয়ে আয়োজিত দলীয় চিত্রপ্রদর্শনী ‘দ্য লং প্রেজেন্ট—বিস্তৃত বর্তমান’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
দেশের শিল্পকলার বর্তমান পরিস্থিতি এবং একটি শক্তিশালী সৃজনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন মন্ত্রী। ‘বাংলাদেশে একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ এবং পূর্ণাঙ্গ ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।’
তিনি যোগ করেন, ‘শিল্পকলাকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও লাভজনক করা না গেলে এই খাতের সমৃদ্ধি অর্জন করা অসম্ভব। আমরা বেঙ্গলের আবুল খায়ের এবং এ ধরনের সমমনা আরও অনেকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা করছি, যাতে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ গড়ে তোলা যায়।’
শিল্প ও সাহিত্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ উদ্যোগে পাশে থাকার আহ্বান জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ‘এই প্রচেষ্টা সফল হলে দেশের সৃজনশীল খাত দ্রুত ফিরে পাবে তার গৌরব। এর মাধ্যমে মানুষের মননশীলতা ও জাতীয় অর্থনীতি— উভয় ক্ষেত্রের বিকাশে রাখা সম্ভব হবে এক যুগান্তকারী অবদান।’
অনুষ্ঠানে ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিসতিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রু এবং ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বাধে।
প্রদর্শনীর উদ্বোধনী আয়োজনের শুরুতে অংশগ্রহণকারী চার প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গে বেঙ্গলের দীর্ঘ পথচলাকে স্মরণ করে প্রদর্শিত হয় ‘পথ চলাতেই আনন্দ’ শীর্ষক তথ্যচিত্র। পরে বক্তব্য দেন শিল্পী কনক চাঁপা চাকমা, শিল্পী মোহাম্মদ ইউনুস, শিল্পী রফিকুন নবী এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবুল খায়ের।শিল্পী রফিকুন নবী বলেন, ‘অনেকদিন পর আবার সবার কাজ নিয়ে এই প্রদর্শনী আমাকে আশাবাদী করে তুলেছে। এই বহুমাত্রিক প্রদর্শনী বেঙ্গলের কারণে আরও অনেকের কাছে পৌঁছে যাবে। অনেকে দেখবে, ভাববে, আগ্রহী হবে— এটাই আমাদের অর্জন। আমি আশা করব, আপনারা তরুণ প্রজন্মকে শিল্পকলার বিভিন্ন শাখায় অংশগ্রহণের জন্য আরও বেশি উৎসাহ দেবেন। কারণ মনন বিকাশে শিল্প-সাহিত্যচর্চার কোনো বিকল্প নেই।’
প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন— হাশেম খান, রফিকুন নবী, আব্দুস শাকুর শাহ, নাজলী লায়লা মনসুর, ফরিদা জামান, মোহাম্মদ ইউনুস, জামালউদ্দিন আহমেদ, রঞ্জিত দাস, আহমেদ শামসুদ্দোহা, শিশির ভট্টাচার্য্য, কনক চাঁপা চাকমা, মোহাম্মদ ইকবাল, মাকসুদা ইকবাল নিপা, কামাল উদ্দিন এবং সহিদ কাজী।
আয়োজকদের মতে, বর্তমান সময়কে একটি অসম ও বহুমাত্রিক ক্ষেত্র হিসেবে উপস্থাপন করে এ প্রদর্শনী, যা বারবার পুনর্গঠিত হয় শিল্পীর নিজস্ব সংগতি, ছেদ-ছন্দ এবং নবায়নের মধ্য দিয়ে।
সময়, স্মৃতি, ইতিহাস ও সমকালীনতার নানা মাত্রাকে শিল্পের ভাষায় অন্বেষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস হিসেবেই প্রদর্শনীকে দেখছেন তারা।




