ট্রাম্পের দাবি
আজই সাক্ষর হবে চুক্তি, খুলে দেওয়া হবে হরমুজ

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আজই সাক্ষরিত হবে একটি প্রাথমিক চুক্তি। এ চুক্তির পর সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে হরমুজ প্রণালি। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এমনটাই বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তার দাবি, ‘চুক্তিটি আগামীকাল (রবিবার) স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই সবার জন্য উন্মুক্ত হবে হরমুজ প্রণালি।’ উল্লেখ্য, রবিবার ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ের বক্তব্য ভিন্ন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ বলছে, রবিবার কোনো সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাঘাই এবং এ ধরনের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিতে তাৎক্ষণিকভাবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়ও যাচ্ছেন না আলোচকরা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের ভাষ্য, সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে’ হতে পারে। তবে রবিবারই এমন কোনো অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নেই।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়বস্তু ও সময়সূচি নিয়ে বারবার ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। যদিও উভয় পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছে যে একটি সমঝোতার পথ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন বেশি উন্মুক্ত। তবুও চুক্তির আনুষ্ঠানিক শর্তাবলি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি শুক্রবারও উভয় দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এদিকে ট্রাম্প তার পোস্টে আরও দাবি করেন, এই চুক্তি হবে ‘পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণের বিরুদ্ধে একটি প্রাচীর’ এবং এর বিনিময়ে কোনো অর্থের লেনদেন হবে না। তিনি আরও বলেন, ‘যথাযথ সময়ে, যখন সবকিছু শান্ত হবে, তখন আমরা গিয়ে সংগ্রহ করব পারমাণবিক ধুলো।’ এর মাধ্যমে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের প্রতি ইঙ্গিত করেন তিনি।
অন্যদিকে শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক কেবল ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সূচনা করবে। তার ভাষ্য, স্মারকে স্বাক্ষরের পরপরই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে, তবে হরমুজ প্রণালির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ইরান ও ওমানের হাতেই থাকবে।
আরাকচি আরও জানান, ইরানের ওপর আরোপিত বিদেশি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশটির স্থগিত সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়গুলো সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরবর্তী আলোচনায় বিবেচিত হবে।
সাম্প্রতিক এই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন চলতি সপ্তাহে পরস্পরের বিরুদ্ধে দুই দিন ধরে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এতে গত ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির পরিবেশ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাসই স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর পথে সবচেয়ে বড় বাধা।
অন্যদিকে ট্রাম্প বারবার এমন একটি চুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির চেয়েও কঠোর হবে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির আওতায় ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছিল। বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। তবে ২০১৮ সালে একতরফাভাবে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন ট্রাম্প।
এর আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান পরোক্ষ আলোচনার মধ্যেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এছাড়া ২০২৫ সালেও পারমাণবিক আলোচনা চলাকালে ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছিল।


