ইরাকে মার্কিন নাগরিকদের সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি: রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য বিমান বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ এবং ভ্রমণে বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস এবং এরবিলে কনস্যুলেট শনিবার যৌথ নিরাপত্তা সতর্কতায় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। যেকোনো সময় অপ্রত্যাশিতভাবে উত্তেজনা বাড়তে পারে। এ কারণে মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন নাগরিকদের বিমান চলাচল বাতিল, আকাশসীমা সাময়িক বন্ধ এবং ভ্রমণ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
ইরান নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন মিশনগুলোও একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও তীব্র হয়েছে সংঘাত। শান্তি আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে উভয় পক্ষের মধ্যে সাময়িক বিরতি থাকলেও তা স্থায়ী হয়নি।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়। এতে নিহত হন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা। এর জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। জুনে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হলেও উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবারের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো হামলা চালায়নি। ওই দিন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার জবাবে ইরানের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে ওয়াশিংটন।
মার্কিন সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ইরান বা তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্বার্থ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইরাকে যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। এতে ২০ জনের বেশি নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। সৌদি জ্বালানি অবকাঠামোয় দুটি ড্রোন হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।




