শেষের গোলে বিশ্বকাপে কাতারের ইতিহাস

শেষ মুহূর্তের গোলে সুইজারল্যান্ডকে রুখে দিয়েছে কাতার। এই প্রথম বিশ্বকাপে পয়েন্ট প্রাপ্তি, উল্লাস তো এমন হবেই! ছবি: রয়টার্স
নিজেদের ১৩তম বিশ্বকাপে এসে প্রথম পেনাল্টির দেখা পেয়েছিল সুইজারল্যান্ড। ১৭ মিনিটে সেই সুযোগকে গোলে পরিণত করেছিলেন ব্রেল এমবোলো। সেই লিড ধরে রেখে জয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার পথেই হাঁটছিল সুইজারল্যান্ড। কিন্তু হলো না। দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময় শেষের আগ মুহূর্তে গোল শোধ করে ইতিহাস গড়েছে কাতার।
অধিনায়ক বোয়ালেম খোখির অসাধারণ হেড বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম পয়েন্টে এনে দিয়েছে কাতারকে। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর লিভাইস অ্যারেনায় দু’দলের ১-১ ড্রয়ে ‘বি’ গ্রুপের লড়াইটা জমে উঠেছে। আগের রাতে গ্রুপের অন্য দুই দল কানাডা ও বসনিয়ার ম্যাচটিও শেষ হয়েছিল ১-১ সমতায়।
এটি ছিল সুইজারল্যান্ডের ১৩তম বিশ্বকাপ। অবাক করার ব্যাপার হলো, বিশ্বমঞ্চে এর আগে কখনো পেনাল্টি পায়নি দলটি! এবার ৪৮ দলের বিশ্বকাপে প্রথমবার পেনাল্টি পেয়েই ব্রেল এমবোলোর লক্ষ্যভেদে এগিয়ে যায় সুইসরা।
শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফুটবলে কাতারের কঠিন পরীক্ষা নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। শুরুতেই এগিয়ে যেতে পারত ইউরোপের দেশটি। তাদের একের পর এক আক্রমণ ঠেকাতে গিয়েই বক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন কাতার গোলকিপার মাহমুদ আবুনাদা।
এখানেই সুইজারল্যান্ড গড়ে ফেলে নতুন ইতিহাস। বিশ্বকাপ মঞ্চে প্রথমবার ওপেন প্লে থেকে আসে তাদের পেনাল্টি। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপের ৪২তম ম্যাচে এসে পেনাল্টির বাঁশি বাজল তাদের পক্ষে। যা থেকে সফল লক্ষ্যভেদে সুইসদের এগিয়ে নেন এমবোলো।
১৯৩৪ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিল সুইজারল্যান্ডের। অর্থাৎ, দ্বিতীয় বিশ্বকাপেই তাদের অভিষেক। শিরোপা জেতার দাবিদার কখনোই ছিল না তারা, তবে নকআউট পর্বে নিয়মিত দেখা যায় দলটিকে। আগের ৪১ ম্যাচে গোল করেছে ৫৫টি। যার কোনোটিই স্পট কিক থেকে নয়। ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে পেনাল্টির আক্ষেপ দূর হলো রেড ডেভিলদের।
তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর পাওয়া পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যাওয়াটা শেষ পর্যন্ত গোলে পরিণত করতে পারেনি ইউরোপের দেশটি। দ্বিতীয়ার্ধে বারবার হানা দিয়েও গোলসংখ্যা বাড়াতে পারেনি সুইজারল্যান্ড। বারবার প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে যান কাতার কিপার আবুনাদা।
এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা চেষ্টা করেছে ম্যাচে ফেরার। সেই চেষ্টা সফলতা পায় দ্বিতীয়ার্ধের ৬ মিনিট অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে। বাঁ দিক থেকে সতীর্থের ক্রস চলে আসে গোলমুখে। দলকে বাঁচাতে আগেই ডিফেন্স ছেড়ে সুইসদের গোল দরজায় উপস্থিত হয়েছিলেন খোখি। মার্কারকে ছিটকে ফেলে অসাধারণ হেডে বল জড়িয়ে দেন পোস্টে।
২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল কাতার। সে সুবাদেই প্রথমবার ফুটবল মহাযজ্ঞে খেলার সুযোগ হয়েছিল তাদের। যদিও গ্রুপের তিন ম্যাচে হেরে বিদায় নিতে হয় স্বাগতিকদের।


